দেশজুড়ে ছড়াচ্ছে ডেঙ্গু

ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯ | ২ শ্রাবণ ১৪২৬

দেশজুড়ে ছড়াচ্ছে ডেঙ্গু

কার্যকর উদ্যোগ নিন

সম্পাদকীয় ৮:০০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০১৯

print
দেশজুড়ে ছড়াচ্ছে ডেঙ্গু

এক সময় অনেক রোগ মহামারী আকার ধারণ করত। কলেরা-বসন্তের মতো রোগে নাকাল হতো মানুষ। কিন্তু একুশ শতকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের আমূল উন্নয়নে এখন কর্কটরোগও নিরাময়যোগ্য। দুর্ভাগ্য, আমরা আতঙ্কে থাকি ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া হওয়ার ভয়ে। না থেকেও উপায় নেই। কারণ, গত কয়েক বছরে এই রোগে অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ বছরও ব্যাপক হারে বেড়ে চলেছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। বর্তমানে রাজধানী ছাড়িয়ে এর প্রাদুর্ভাব বেড়েছে দেশের অন্য জেলাগুলোতেও। কিন্তু কর্তৃপক্ষও নির্বিকার।

এর আগে অনেক যুক্তি-তর্ক করেও রাজধানীতে জোরালো মশক নিধন কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয়নি। যা হয়েছে তা লোক দেখানো এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক। আমাদের অর্থমন্ত্রীও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলেন। এত কিছুর পরও রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন (উত্তর ও দক্ষিণ), রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং সরকার সংশ্লিষ্টদের তেমন কোনো তৎপরতা দেখা গেল না। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, মশক নিধনে কামান নিয়ে নামা উচিত থাকলেও কেউ ফগার মেশিন নিয়েও এগিয়ে এলো না। এখন সচেতনতা, পেঁপের শরবত এবং মশারিই মন্ত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের সম্বল।

ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, গাজীপুর, কুষ্টিয়ায়ও ডেঙ্গুতে আক্রান্তের খবর মিলেছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও ডেঙ্গু রোগবাহী এডিস মশাকে ‘অ্যারিসট্রোক্যাট’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার কথায়, এই মশা নাকি ওষুধ ছিটালেও দূর হয় না। এত কিছু চলার মাঝেই এক আইনজীবী এডিস মশা নিধনে ব্যর্থ হওয়ায় ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্তাব্যক্তিদের কাছে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন। সোজা কথায়, ঢাকা এবং বাইরের বেশির ভাগ হাসপাতালেই ভর্তি হচ্ছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী এবং ডেঙ্গুই এখন মহামারী আকার ধারণ করছে।

চলছে বর্ষার মৌসুম। কিন্তু এত ঢাক-ঢোল, উচ্চবাচ্য করেও ডেঙ্গু নিধন হচ্ছে না। গত বছরও এই জ্বরে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। এ বছর রাজধানী পার করে সারা দেশে ছড়িয়েছে ডেঙ্গু। হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে অনেকেই। সরকার থেকেও মশক নিধনের বাজেট বরাদ্দ রয়েছে। লোকবলের অভাবও থাকার কথা নয়। তারপরও কেন এই কার্যক্রম থেমে আছে তা বোঝা যাচ্ছে না। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, রাজধানীর দুই নগর পিতা তার বাসিন্দাদের নিয়ে কতটুকু ভাবেন বা ভাবছেন? কিংবা, আদৌ ভাবেন কি না? যদি সত্যিই ভাবেন, তাহলে খুব দ্রুত এবং ঘটা করে শুরু হোক মশক নির্ধন কার্যক্রম। এটি রাজধানীবাসীর বাঁচার দাবি।