বৈষম্যের শিকার বাংলাদেশিরা

ঢাকা, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ | ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

বৈষম্যের শিকার বাংলাদেশিরা

দক্ষতা ও সহায়তা বাড়ান

সম্পাদকীয় ৮:২৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০১৯

print
বৈষম্যের শিকার বাংলাদেশিরা

দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বিদেশি অর্থ বা রেমিট্যান্স। এই অর্থ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে পাঠাতে সক্রিয় রয়েছেন লাখ লাখ প্রবাসী। কেউ অভিবাসী হয়ে, কেউ স্থায়ী নিবাস বানিয়ে বাংলাদেশে অর্থের জোগান দিচ্ছেন। বেশির ভাগ দেশেই কর্মসংস্থানের সঙ্গে জড়িত প্রায় সবাই। কিন্তু বৈধ পথে কোনো দেশে গিয়ে পরিশ্রম করে বৈষম্যের শিকার হওয়ার ব্যাপারটি ভালো নয় কোনো মতেই। আর তা যদি যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশ হয়, তবে প্রশ্ন দেখা দিতেই পারে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন তথ্য দিচ্ছে, সেই দেশেই বাংলাদেশিদের পারিশ্রমিকে বৈষম্য এবং বেকারত্বের শিকার হতে হচ্ছে।

খোলা কাগজে প্রকাশিত দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন বলছে, যুক্তরাজ্যে জাতিগত বেতনবৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশিরা। এই প্রথম ওই দেশে বানানো এক সরকারি জরিপ অনুযায়ী সেখানে শেতাঙ্গ ব্রিটিশদের তুলনায় বাংলাদেশিরা ঘণ্টাপ্রতি ২০ দশমিক ১ শতাংশ কম বেতন পান। লন্ডনে এই হার আরও বেশি। আর যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিদের বেকারত্বের হার ৫৮ দশমিক ২ শতাংশ যা পাকিস্তানিসহ অন্য বিদেশির তুলনায়ও বেশি। প্রতিবেদন অনুযায়ী চীনা, ভারতীয় এবং পাকিস্তানিদের তুলনায় সবদিক থেকে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশিরা।

শিক্ষা ও পেশা বিবেচনায় আনা হলেও যুক্তরাজ্যে তীব্র জাতিগত বেতনবৈষম্য দেখা গেছে। যারা সেখানে জন্ম নিয়েছে এবং যারা নেয়নি-এই দুই শ্রেণির মধ্যে আয়ের বড় পার্থক্য দৃশ্যমান। অবশ্য এক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের উপযুক্ত লেখাপড়া এবং দক্ষতার বিষয়টিও থাকছে। অন্যদিকে ব্রিটিশ সরকারের নীতিমালায় জাতিগত বৈষম্যের বিষয়টি থাকলে তা নিয়ে কোনো দ্বিধা থাকবে না। কিন্তু যদি তা না হয় তবে যুক্তরাজ্যকে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। একই সঙ্গে ওই দেশে অবস্থানরত আমাদের দায়িত্বশীলদেরও অগ্রগামী পদক্ষেপ নিতে পারে।

সবকিছু বাদ দিলেও যেকোনো স্থানেই যথাযোগ্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি অনৈতিক। বিশ্বের উন্নত এবং প্রভাবশালী হিসেবে স্বয়ং যুক্তরাজ্যেই যদি এমন হয়, তাহলে তাদের জন্যও বিষয়টি নেতিবাচক। আমরা বলছি না, প্রবাসী বাঙালিরা সবদিক থেকে এগিয়ে। কিন্তু তারপরও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে সেখানে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনকে। এক দেশের কার্যকলাপে অন্য দেশ কর্তৃত্ব দেখাতে না পারলেও কেন সেখানে বৈষম্য হচ্ছে কূটনৈতিক তৎপরতায় তার সমাধান করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে দুদেশের সরকারও আলোচনার মাধ্যমে বৈষম্যে-বেকারত্বের সমাধান করতে পারে।