রিকশা বন্ধে ভোগান্তিতে নগরবাসী

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

রিকশা বন্ধে ভোগান্তিতে নগরবাসী

ভালো-মন্দ বিবেচনায় নিন

নিজস্ব প্রতিবেদক ৮:০৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৯, ২০১৯

print
রিকশা বন্ধে ভোগান্তিতে নগরবাসী

মাত্র কয়েক দিন আগে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ তিন সড়কে রিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। যানজট নিরসনে প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাতে নগরবাসীর ভোগান্তি বেড়েছে। একদিকে গণপরিবহন স্বল্পতা, অন্যদিকে অল্প দূরত্বের যাতায়াতে সমস্যা। তবে এ কথাও মানতে হবে, ব্যস্ত সড়কগুলোতে রিকশাও যানজটের একটি কারণ। কিন্তু বিকল্প পরিকল্পনা না নিয়ে হুট করে রিকশা বন্ধ করায় যেমন বিপাকে পড়েছে রিকশা চালিয়ে আয় করা মানুষ, তেমনি নগরবাসীর ভাণ্ডারে যুক্ত হয়েছে সমস্যা।

খোলা কাগজের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কয়েক দিন আগে ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কন্ট্রোল অথরিটির (ডিটিসিএ) এক বৈঠকে কুড়িল বিশ্বরোড থেকে সায়েদাবাদ, গাবতলী থেকে আজিমপুর এবং সায়েন্সল্যাব থেকে শাহবাগ রুটে রিকশা চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট রুটের সিটি করপোরেশন মাইকিং করে রিকশা বন্ধের বিষয়ে জানায়। রিকশা বন্ধ হলে চালক ও মালিকরা সব যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। আর এতেই নতুন উদ্যোগে ভোগান্তি বাড়ে রাজধানীবাসীর।

এদিকে আগে থেকে পরিকল্পনা না করে পরীক্ষামূলক তিন সড়কে রিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে চলাফেরা তো বটেই বেকার হয়ে পড়েছেন রিকশা চালকরা। অন্যদিকে, উল্লেখযোগ্য পরিমাণে গণপরিবহন না থাকায় গন্তব্যে যেতে যাত্রীদের সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। হিসাব করলে দেখা যাচ্ছে, তিন সড়কে রিকশা বন্ধ করায় সবদিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত নগরবাসী। যানজট নিরসনে এমন উদ্যোগ নেওয়া হলেও নগরবাসীকে সুবিধা দিতে পর্যাপ্ত গণপরিবহন নামানো উচিত ছিল বলেও মনে করছেন অনেকেই। অথচ তেমনটি করা হয়নি।

সব কিছুতেই রাজধানীবাসীর দুর্ভোগ যেন দিন দিন প্রথা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। খেতে-ঘুমাতে, চলতে-ফিরতে সমস্যার শেষ নেই। একটির পর একটি নতুন সমস্যা যুক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে দীর্ঘদিনের সমস্যা যানজট অন্যতম। এই সমস্যার সমাধান নগরবাসীর অতি আকাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন। সবাই জানে যানজট নিরসনে চলমান রয়েছে মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কাজ। বিগত কয়েক বছরেও একাধিক ফ্লাইওভার, ইউলুপ নির্মাণ হয়েছে। অথচ রাজধানীতে গতি বাড়ছে না। মানে, কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এক সুবিধা দিতে গিয়ে নতুন সমস্যার উদ্ভাবন হলে তার ফল ভালো হবে না। তাই যে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার আগে এর ভালো-মন্দ অবশ্যই বিচার করতে হবে সংশ্লিষ্টদের।