আবারও অগ্নিদুর্ঘটনা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

আবারও অগ্নিদুর্ঘটনা

আর কোনো হেলা নয়

সম্পাদকীয়-১ ৯:৪২ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৮, ২০১৯

print
আবারও অগ্নিদুর্ঘটনা

রাজধানীর নিমতলী, চকবাজার, বনানীর ভয়াবহ অগ্নিদুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা দেখে ধারণা করা হয়েছিল, এরপর হয়তো মুক্তি মিলবে। কিন্তু সম্প্রতি সচিবালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে আগুন লাগার পর আবার প্রশ্নবিদ্ধ হলো অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। দেশের প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়ও আগুন লাগার পর দেখা গেল সেখানেও পর্যাপ্ত নির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। আগুন নিয়ে আগে থেকেই আলাপ-আলোচনা হলেও এবারের প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

খোলা কাগজের একাধিক প্রতিবেদন বলছে, গত রোববার সকাল ও বিকালে সচিবালয় এবং ঢাবি গ্রন্থাগারে আগুন লাগে। এতে তেমন ক্ষতি না হলেও সাধারণের মনে যে আবারও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে তা অস্বীকার করা যায় না। সচিবালয় ঘিরে যে পরিমাণ জায়গা এবং সুবিধা রয়েছে তাতে বড়মাপের আগুন লাগলে তা নেভানো অনেক কষ্টসাধ্য হবে। অর্থাৎ সেখানে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। গ্রন্থাগারের বিষয়টিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যেখানে শিক্ষার্থীর প্রাণ, লাখ লাখ গুরুত্বপূর্ণ বই রয়েছে সেখানেও আগুন লাগার বিষয়টি মেনে নেওয়ার মতো নয়।

কয়েকমাস আগে সচিবালয়ে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আগুন লাগা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরপরও এত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আগুন লাগার বিষয়টি হতাশাজনক। প্রশাসন এবং মন্ত্রিপর্যায়ের ব্যক্তিগণই যদি আগুন থেকে নিরাপদে না থাকেন তবে সাধারণের অবস্থা কী হবে! আমরা কাউকেই প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাই না। তবুও বলা প্রয়োজন, অগ্নিদুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে নিয়ম মেনে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র এবং সুবিধা নিশ্চিতে যারা তদারকির দায়িত্বে রয়েছে অন্তত এবার তাদের শক্ত হতে হবে।

এখনো শহরের লক্ষাধিক ভবনে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, দুই সিটি করপোরেশনসহ (উত্তর ও দক্ষিণ) সরকারের। আর যারা আগুন প্রতিরোধে কাজ করবে তাদেরও যথাযোগ্য সুবিধা দিতে হবে।

কিছুদিন আগে সবাই নিজের চোখে বনানী-চকবাজারের হতাহতের ঘটনা দেখল। সেদিন সাধারণের প্রাণ যেতে সময় লাগেনি, যা মনে করে এখনো শিউরে ওঠে অনেকেই। সামনের দিনগুলোতে আমরা আগুনে হতাহতের দৃশ্য দেখতে চাই না। দৈনন্দিন কাজ, বিদ্যুৎ কিংবা দৈবের প্রভাবে আগুনের ঘটনা ঘটতেই পারে।

এক্ষেত্রে যেমন সতর্কতার বিকল্প নেই তেমনি আগুন লাগলে তা নেভাতেও সরঞ্জামের প্রয়োজন রয়েছে। জনবহুল এই শহরে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সব ভবনে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে কর্তৃপক্ষকে। সচিবালয়ের আগুন লাগার ঘটনা অপ্রত্যাশিত-অনাকাক্সিক্ষত হলেও আবারও সবার চোখ খুলে দিল। এবার কালক্ষেপণ বা অবহেলা নয় বরং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সময়।