দূষণ-দখলে বুড়িগঙ্গা কাঁদছেই

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

দূষণ-দখলে বুড়িগঙ্গা কাঁদছেই

কার্যকর পদক্ষেপ নিন

সম্পাদকীয় ৯:০৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৭, ২০১৯

print
দূষণ-দখলে বুড়িগঙ্গা কাঁদছেই

রাজধানী ঢাকার প্রাণ এর পার্শ্ববর্তী নদীগুলো। এর মধ্যে বুড়িগঙ্গা অন্যতম হলেও দূষণ-দখলে জর্জরিত হয়ে এর কান্না থামছে না। প্রথমত, এই নদীরও নিজস্ব সত্তা বা প্রাণ রয়েছে। আর রাজধানীর প্রাণ হিসেবে খ্যাত এই নদীই। দ্বিতীয়ত, বুড়িগঙ্গার রাজধানীর অংশে জীববৈচিত্র্য টিকছে না। কেমিক্যাল-বর্জ্যরে কবলে নদী আর নদী নেই হয়ে গেছে বিষের কারখানা। এখন বুড়িগঙ্গা রক্ষায় সরকার পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কত দিনে, কীভাবে তা সম্ভব হবে সে পরিকল্পনা সুনির্দিষ্ট হয়নি।

খোলা কাগজের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মানুষের বেঁচে থাকার জন্য নদীর গুরুত্ব অনুধাবন করে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ নদ-নদীকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। সম্প্রতি আমাদের সর্বোচ্চ আদালতও নদীকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। তাই, আমাদের নদীগুলোর প্রাণ রক্ষা এখন কর্তৃপক্ষের একান্ত দায়িত্ব। দেশের দুই শতাধিক নদীর মধ্যে সবচেয়ে করুণ দশা বুড়িগঙ্গার। একে রক্ষার মধ্য দিয়েই নদীর প্রাণ ফেরানোর অভিযান শুরু হোক। মন্ত্রী পর্যায়ের লোকজনও বলছেন, বুড়িগঙ্গা উন্নত বিশ্বের সুশোভিত নদীর মতো হবে। সবাই সে অপেক্ষায় থাকছে।

শত শত বছর আগে থেকেই নদীকে কেন্দ্র করে জনপদ গড়ে উঠেছে। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ঐতিহ্য-সংস্কৃতি, জীবন-জীবিকা। নানান সময়ে ব্যক্তিপর্যায় থেকে সামাজিক সংগঠনগুলো নদী বাঁচানোর কথা বলে আসছে। অনেক সময় কর্তৃপক্ষ অভিযান পরিচালনা করে দূষণ-দখল রোধও করছে। কিন্তু, এতে স্থায়ী সমাধান আসছে না। যেহেতু নদীরও প্রাণ আছে তাই একে বাঁচানোর জন্য সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন প্রয়োজন। আর রাজধানীর প্রাণ বাঁচাতে হলে বুড়িগঙ্গা রক্ষার বিকল্প নেই।

এখনো বুড়িগঙ্গায় ভর করে অনেক মানুষ জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছে। সাধারণের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে বুড়িগঙ্গার অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনেক। সেই সঙ্গে এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোর লোকজনও বুড়িগঙ্গার পানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু, এই নদীর পানি ব্যবহার তো দূরের কথা গায়ে লাগলেও অসুখ ছড়াচ্ছে। শুধু দূষণ-দখল রোধ করা গেলেই প্রাণ ফিরে পাবে বুড়িগঙ্গা। এতে যেমন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে দেশ, তেমনি নদী এবং সাধারণেরও উপকার হবে সীমাহীন। মনে রাখতে হবে, বুড়িগঙ্গায় প্রাণ ফেরানোর কাজে কোনোভাবেই কর্তৃপক্ষের হেলাফেলা প্রত্যাশিত হবে না। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের কাছে রোল মডেল। ঠিক একইভাবে বুড়িগঙ্গাও বিশ্ববাসীর কাছে নদীর রোল মডেল হোক।