প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯ | ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা

শিক্ষার্থীদের দাবি আমলে নিন

সম্পাদকীয়-১ ৯:৪৩ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০১৯

print
প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা

উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যখন অচলাবস্থা দেখা দেয় জাতীয় জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে নানাভাবেই। এতে একদিকে ব্যাহত হয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম, এর পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমেও ভাটা পড়ে। অন্যদিকে আন্দোলনের প্রভাবে কিছুটা হলেও বিঘ্নিত হয় সাধারণ মানুষের জীবনপ্রবাহ। সরকার তথা প্রশাসনও থাকে একধরনের অস্বস্তিতে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা ১৬ দফা দাবিতে উপাচার্যের কার্যালয় অবরোধ করেছেন। নতুন ছাত্রকল্যাণ পরিচালকের (ডিএসডব্লিউ) অপসারণসহ ১৬ দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

গত মঙ্গলবার টানা চতুর্থ দিনের আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. সাইদুর রহমানের কার্যালয় ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। এর আগে গত সোমবার দাবি মানা না হলে ৬ নম্বর গেট (প্রশাসনিক ভবন) এবং উপাচার্য ভবনের গেটে তালা ঝোলানোর হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি দিতে গেলে উপাচার্য অফিসে তালা লাগানো দেখতে পান। পরে তারা ১৬ দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপিটি সহকারী ডিএসডব্লিউর হাতে তুলে দেন। এরপর তারা উপাচার্যের কার্যালয় অবরোধের হুঁশিয়ারি দেন।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হচ্ছে- বুয়েট গেটের জন্য সিভিল-আর্কিটেকচার ডিপার্টমেন্টের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি গঠন এবং ডিজাইনের জন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আয়োজন করার অফিসিয়াল নোটিশ, বিতর্কিত নতুন ডিএসডব্লিউকে (ছাত্রকল্যাণ পরিচালক) অপসারণ করে ছাত্রবান্ধব ডিএসডব্লিউ নিয়োগ, ছাত্রী হলের নাম ‘সাবেকুন নাহার সনি হল’ হিসেবে নামকরণ, ১০৮ ক্রেডিট অর্জনের পর ডাবল সাপ্লিমেন্ট দেওয়ার যে পদ্ধতি গত টার্মে চালু হয়েছিল সেটা পুনর্বহাল, আবাসিক হলগুলোর অবকাঠামোগত যেসব কাজ উপাচার্যের অফিসে আটকে আছে সেগুলো পরিষ্কার করা, সিয়াম-সাইফ সুইমিংপুল কমপ্লেক্স স্থাপনের জন্য উপাচার্যের স্বাক্ষর সংবলিত নোটিশ, নির্মাণাধীন টিএসসি ভবন ও ন্যাম ভবনের কাজ শুরু, নিয়মিত শিক্ষক মূল্যায়ন প্রোগ্রাম চালু, বুয়েটের যাবতীয় লেনদেনের ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়ার অফিসিয়াল উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

দাবিনামায় আরও রয়েছে- নির্বিচারে ক্যাম্পাসের গাছ কাটা বন্ধ, কেন গাছ কাটা হয়েছে সেটার ব্যাখ্যা প্রদান, কর্তনকৃত গাছের দ্বিগুণ গাছ উপাচার্যকে উপস্থিত থেকে লাগানোর তাগাদা, গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানো, প্রাতিষ্ঠানিক মেইল আইডি, বুয়েট ওয়াইফাই আধুনিকায়ন, ব্যায়ামাগার আধুনিকায়ন, বুয়েট মাঠের উন্নয়ন এবং পরীক্ষার খাতায় রোলের পরিবর্তে কোড সিস্টেম চালু। গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া বুয়েট শিক্ষার্থীদের এসব দাবিকে খারিজ করে দেওয়ার সুযোগ নেই। বিদ্যমান নাজুক পরিস্থিতি নিরসনে সংশ্লিষ্টদের উচিত, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসা। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই বেরিয়ে আসবে সমাধানের রূপরেখা।