নিম্নমানের আরও পণ্য শনাক্ত

ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬

নিম্নমানের আরও পণ্য শনাক্ত

কার্যকরী উদ্যোগ কাম্য

সম্পাদকীয় ৯:০৪ অপরাহ্ণ, জুন ১২, ২০১৯

print
নিম্নমানের আরও পণ্য শনাক্ত

কথায় আছে, সারা অঙ্গে ব্যথা মলম দেবে কোথা! সম্প্রতি ভেজালবিরোধী অভিযানে যেন কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসছে। নামিদামি যেসব কোম্পানির ভোগ্যপণ্য মানুষ তুলনামূলক বেশি দামে ক্রয় করত- অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের পণ্যই মানহীন ও নিম্নমানের। এসব পণ্য নানাভাবেই জনস্বাস্থ্যে ফেলছে নেতিবাচক প্রভাব। বাড়ছে রোগব্যাধি। পাল্লা দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে নিত্যনতুন হাসপাতাল, বাড়ছে ওষুধের দোকান। এসবের পেছনে জনসংখ্যা বৃদ্ধি যত বড় কারণ তার চেয়ে অনেক বেশি রয়েছে ভেজাল খাদ্যের দৌরাত্ম্য।

 

খোলা কাগজের প্রতিবেদনে বলা হয়, খোলাবাজার থেকে সংগ্রহ করা ৪০৬টি পণ্যের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় অবশিষ্ট ৯৩টি পণ্যের মান পরীক্ষা করে ২২টি ব্র্যান্ডের পণ্যকে ‘নিম্নমানের’ বলে ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় মান নির্ধারণকারী সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড এবং টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই)। এসব পণ্য আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বাজার থেকে তুলে নিতে কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিএসটিআইয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পণ্যগুলোর মানোন্নয়ন করে পুনঃঅনুমোদন ব্যতিরেকে সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী, সরবরাহকারী, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের পণ্য বিক্রি, বিতরণ ও বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য এবং সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারীকে বিক্রীত মালামাল বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ প্রদান করা হলো।

বিগত রমজান মাস থেকে এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে জোরালোভাবে। তৎপর ছিলেন ভ্রাম্যমাণ আদালতও। এ আদালত অনেক ভেজাল ও নকল পণ্য শনাক্তের পাশাপাশি বিনষ্টও করেছেন। রোজার মাসে বাজার থেকে ৪০৬টি পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে মান পরীক্ষা করে বিএসটিআই। এরপর ১ মে প্রথম ধাপে ৩১৩টি পণ্যের মান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে। সেখানে ৫২টি ব্র্যান্ডের পণ্যকে নিম্নমানের বলে ঘোষণা করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে বাকি ৯৩টি পণ্যের মান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। সর্বশেষ বাদ পড়েছে ২২টি ব্র্যান্ডের পণ্য।

দেখা যাচ্ছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলো বাজারজাত করার পরই বেরিয়ে আসছে নিম্নমানের বিষয়টি। এর আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং বিএসটিআই তাহলে কী করে! উৎপাদন প্রক্রিয়ার মধ্যে ব্যবস্থা নিলেই তা হতো যথার্থ। এতে ক্রেতাদের যেমন ভেজাল পণ্য কিনতে হতো না, উৎপাদক প্রতিষ্ঠানকেও পড়তে হতো না আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি। আট প্রতিষ্ঠান কীভাবে বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স ছাড়াই পণ্য বাজারজাত করছিল- এটাও হতে পারে কোটি টাকার প্রশ্ন। মুনাফালোভী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনের আওতায় আনা জরুরি।