সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ

ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ

নির্যাতিতদের রক্ষায় এগিয়ে আসুন ১০:১৭ অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০১৯

print
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবনবাজি রেখে বাঙালি ছিনিয়ে এনেছে স্বাধীনতা। মুসলিম-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান এমনকি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষও যুদ্ধে নেমেছিল সেদিন। স্বাধীনতার পর থেকেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশ। সেই থেকে আর কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠীকে পেছনে তাকাতে হয়নি। এখনো সেই অবস্থা বিদ্যমান। শ্রীলঙ্কা-নিউজিল্যান্ডের মতো পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সাম্প্রদায়িক হামলা হলেও আমাদের দেশে এমন দৃষ্টান্ত নেই। এখানে সব ধর্মের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমরাও একমত, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আমাদের দেশ।

 

কিছুদিন আগে শ্রীলঙ্কায় হামলার পর বুদ্ধ পূর্ণিমায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ বাংলাদেশেও জঙ্গি হামলার আশঙ্কা করা হয়। তবে, সেই তথ্য উড়িয়ে বাংলাদেশে নির্ঝঞ্ঝাট পালিত হলো বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান। প্রতিবেশী দেশ আগাম তথ্য দেওয়ার পর ঢেলে সাজানো হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যে কারণে সবাই নির্বিঘ্নেই পালন করল উৎসব। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া মুসল্লিদের রোজা শেষে ঈদ, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজা, বৌদ্ধদের বুদ্ধ পূর্ণিমা, খ্রিস্টানদের বড়দিন- কোথাও কোনো হামলা বা বড় দুর্ঘটনার নজির নেই। আমরা সব সময় জঙ্গিবাদবিরোধী। সরকারও উগ্রপন্থি জঙ্গিগোষ্ঠী দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। অর্থাৎ সাম্প্রদায়িক দিক দিয়ে আমরা অন্য দেশের তুলনায় এগিয়ে।

তবুও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝে মধ্যেই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কিংবা সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। পাহাড়েও প্রায়ই খুনের ঘটনা ঘটছে। সাম্প্রদায়িক সংগঠন ‘হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদ’-এর তথ্যে সারা দেশে গত কয়েক মাসে প্রায় ২৫০টির মতো সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছে। প্রায় ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতেই পারে। কিন্তু লাখ লাখ জীবনের বিনিময়ে যে দেশ স্বাধীন হয়েছে সেখানে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক হামলার গ্রহণযোগ্যতা পেতে পারে না। তা ছাড়া, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষও এ দেশের বাসিন্দা। তাদের নিরাপত্তা দেওয়াও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

আমরা বলতে চাই, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই দেশে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক হামলা যেন সংঘটিত হতে না পারে সেজন্য সবাইকে সোচ্চার থাকতে হবে। এ জাতীয় হামলাও জঙ্গিবাদেরই শামিল। সব ধর্মের প্রতি সমান শ্রদ্ধা রেখে দেশে এমন একটি পরিবেশ বজায় রাখতে হবে যেখানে কোনো সম্প্রদায়ের লোক ভয়ে বাস করবে না। কেউ যেন কারও ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ কিংবা উগ্রবাদ সৃষ্টি না করে সে বিষয়েও খেয়াল রাখতে হবে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হলেও সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে।