‘মুক্তিযোদ্ধা’ শব্দের অপব্যবহার

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯ | ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

‘মুক্তিযোদ্ধা’ শব্দের অপব্যবহার

আদালতের নির্দেশনা পালন করুন

সম্পাদকীয়-১ ৮:৫৭ অপরাহ্ণ, মে ১৫, ২০১৯

print
‘মুক্তিযোদ্ধা’ শব্দের অপব্যবহার

মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। স্বাধীন-সার্বভৌম একটি দেশের জন্য জীবন হাতে নিয়ে তারা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন একাত্তরের রণাঙ্গনে। লাঞ্ছিত-বঞ্চিত একটি জনপদে যখন আকস্মিকভাবে হায়েনারা তা-ব শুরু করে, তখন দেশ মাতৃকাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলেন দামাল সন্তানরা। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ শেষে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। প্রাণ হারান ত্রিশ লাখ শহীদ, সম্ভ্রম হারান দুই লাখ নারী। ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে এক কোটি মানুষ বন্ধুরাষ্ট্র ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এমনই যার ব্যাপ্তি, এত উজ্জ্বল যে গৌরবগাথা সেখানে মুক্তিযোদ্ধারা সর্বোচ্চ সম্মানে আসীন হবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অনাকাক্সিক্ষতভাবে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়কে বিতর্কিত করতে শুরু করে একশ্রেণির দুর্বৃত্ত।

এ বাংলাদেশেই নাবালকদেরও মুক্তিযোদ্ধা সনদ ‘সংগ্রহ’ করার অভিযোগ কম নয়। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের দেওয়া কিছু সুযোগ-সুবিধা কুক্ষিগত করতে একশ্রেণির লোক রাতারাতি বনে যেতে শুরু করেন ‘মুক্তিযোদ্ধা’। এদেরই পৃষ্ঠপোষকতা করেছে সরকারি-বেসরকারি একাধিক গোষ্ঠী। যে কারণে খুব সহজেই মুক্তিযোদ্ধা শব্দের আগে ‘ভুয়া’ শব্দের ব্যবহার শুরু হয়। যা মুক্তিযুদ্ধের অবমাননা ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মানের শামিল। যিনি মুক্তিযোদ্ধা তিনি মুক্তিযোদ্ধাই, এখানে ভুয়া শব্দের ঠাঁই নেই।

বিদ্যমান নাজুক পরিস্থিতিতে এগিয়ে এসেছেন আদালত। কাউকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ না বলতে এবং ‘মুক্তিযোদ্ধা’ শব্দের আগে ‘ভুয়া’ শব্দটি ব্যবহার না করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গণমাধ্যমকর্মীদের সতর্ক করেছেন এ শব্দদ্বয় ব্যবহার না করতে। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের ‘ভুয়া’ বলে সম্বোধন করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। গত মঙ্গলবার মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল সংক্রান্ত এক রিট মামলার শুনানিতে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এমন নির্দেশনা দেন। ২০০২ সালের মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইনের ৭(ঝ) ধারা উল্লেখ করে আদালত বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সনদ ভুয়া হতে পারে, কিন্তু মুক্তিযোদ্ধারা কখনো ভুয়া হতে পারেন না। তাই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শব্দের ব্যবহার করা যাবে না।

দৃষ্টান্তমূলক এ রায়ে আদালত আরও জানান, কারও ভুলের কারণে সামগ্রিকভাবে সব মুক্তিযোদ্ধার যে অবদান, যে সম্মান, সেটাকে কটাক্ষ করে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শব্দ ব্যবহার করা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন। আদালতের সময়োপযোগী এ সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাই। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার ব্যবহার যেমন বন্ধ করতে হবে, পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলছে তাদেরও আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো সময়ের দাবি।