রামেকের ওষুধেই অসুস্থ শিশু

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯ | ১ শ্রাবণ ১৪২৬

রামেকের ওষুধেই অসুস্থ শিশু

তদন্ত সাপেক্ষে পদক্ষেপ নিতে হবে

সম্পাদকীয় ৮:৫৬ অপরাহ্ণ, মে ১৪, ২০১৯

print
রামেকের ওষুধেই অসুস্থ শিশু

মানুষ অসুস্থ হলে বাধ্য হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যায়। সেই হাসপাতালে গিয়েই যদি কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ে তবে তা মেনে নেওয়া কষ্টকর। এক্ষেত্রে যদি শিশু হয়, তবে বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে এমনই ঘটনা ঘটেছে। সেখানে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ১৪ শিশুর অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক। দেশের বড় মাপের একটি হাসপাতালে যদি এই পরিস্থিতি হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? ভরসার জায়গায় ভরসা ব্যতীত যদি আতঙ্ক মেলে তবে তা এক রকম হয়রানিরই শামিল।

খোলা কাগজের প্রতিবেদন বলছে, রামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগে জ্বর, সর্দি ও ব্যথার ওষুধ দেওয়ার পর অসুস্থ হয় একাধিক শিশু। গুনে গুনে এই সংখ্যা ১৪। খুব সাধারণ রোগে প্রয়োজনীয় নিয়মিত ওষুধ প্রয়োগের পর এমন ঘটনা ঘটে। ওষুধগুলো মেয়াদোত্তীর্ণও ছিল না। তাহলে কেন শিশুরা অসুস্থ হলো- এ প্রশ্ন ওঠা অমূলক নয়। হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রচণ্ড গরমকে অসুস্থ হওয়ার কারণ মনে করছেন। ওষুধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্রেরিত ওষুধে কোনো ঝামেলা ছিল কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সবমিলিয়ে একটি বড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ ধরনের ঘটনা অতি অপ্রত্যাশিত। তাই ঘটনাটির ভেতরের কাহিনী জানতে ইচ্ছুক সবাই।

এদিকে ওষুধ কোম্পানি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, ব্যবহৃত ওষুধগুলোর নমুনা সংগ্রহ করে তা গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে। সেখানে দেখা হবে, অন্য গোত্রের ওষুধের সঙ্গে মিশে প্রয়োগ করা ওষুধের কোনো বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া হয়েছে কি না। যদিও এরই মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখছে বিষয়টি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ওষুধের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই চূড়ান্তভাবে জানা যাবে আসল ঘটনা কি ছিল।

যদি কোথাও কোনো ভুলে রামেক হাসপাতালে নিয়োজিত ডাক্তার, নার্স এবং কর্মচারীরা বিন্দুমাত্রও জড়িত থাকে তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ছাড়াও, যদি ওষুধ কোম্পানির বানানো ওষুধে কোনো ভুল বা ক্ষতিকারক দিক ধরা পড়ে তবে সে বিষয়েও পদক্ষেপ নিতে হবে। মোদ্দাকথা, কোনোভাবেই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে হেলাফেলা করার সুযোগ নেই। ভবিষ্যতের কর্ণধার ওই শিশুগুলোর আরও বেশি ক্ষতি হতে পারত। এদিক বিবেচনা করে আগামী দিনগুলোতে যেন এ জাতীয় কাজ না হয় সে বিষয় রামেক কর্তৃপক্ষকেই সুষ্ঠু নজরদারি রাখতে হবে।