ইউরোপ যাত্রায় ৩৭ লাশ

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯ | ১ শ্রাবণ ১৪২৬

ইউরোপ যাত্রায় ৩৭ লাশ

অবৈধ পথ বন্ধে ব্যবস্থা নিন ৮:৫৪ অপরাহ্ণ, মে ১৩, ২০১৯

print
ইউরোপ যাত্রায় ৩৭ লাশ

বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা আমাদের দেশে নতুন কিছু নয়। মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, ইউরোপসহ পৃথিবীর অনেক দেশে বাংলাদেশিরা জীবিকায় নিয়োজিত আছেন। কেউ আবার স্থায়ীভাবেও বিদেশের মাটিতে বসবাস করছেন। এমনই একটি রীতি গড়ে উঠেছে দেশে। এরই মাঝে, গত বৃহস্পতিবার তিউনিসিয়ার উপকূলে নৌকা ডুবে ৩৭ বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এরা সবাই উন্নত জীবনের স্বপ্নে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপের অভিবাসী হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন ম্লান হয়ে গিয়েছে।

পরিবারগুলোও ভাসছে দুঃখের সাগরে। বিপুল পরিমাণ টাকা দিয়ে অবৈধ পথে ইউরোপ যেতে গিয়ে এভাবেই প্রতিবছর মারা পড়ছে অনেক দেশের মানুষ।

খোলা কাগজের প্রতিবেদন বলছে, ভূমধ্যসাগরের বিপদসংকুল ওই পথে ৭৫ জনকে নিয়ে একটি নৌকা ইউরোপের উদ্দেশে ছাড়ে যেখানে ৫১ জনই ছিল বাংলাদেশি। ৩৭ জন মারা গেলেও কোনোমতে বেঁচে গেছেন আরও ১৪ জন। প্রতিবছর যুদ্ধ-সংঘাত, দারিদ্র্য এবং উন্নত জীবনের মোহে এশিয়া-আফ্রিকার দেশগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপের পথে রওনা হয়। দুর্ঘটনার নজিরও অনেক। দুঃখের বিষয়, এসব দেশের তালিকায় বাংলাদেশ অন্যতম। দারিদ্র্য দূর করা এবং উন্নত জীবনের মোহে বাংলাদেশের তরুণরা বিপুল টাকা আন্তর্জাতিক দালালদের দিয়ে নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন, মারাও পড়ছেন।

এখানেই শেষ নয়, তিউনিসিয়া হয়ে যারা ইউরোপের পথে যাত্রা করেছিলেন তারা শুধু সেখানেই নয় বরং বিশ্বের আরও বিভিন্ন দেশে নানাভাবে হয়রানির শিকার হন। এমনও হয়, দালাল চক্রের খপ্পরে পরে দীর্ঘদিন তাদের খোঁজ থাকে না। অনেক ক্ষেত্রেই ইউরোপে যেতে চাওয়া লোকদের জিম্মি করা হয়। ফলে তাদের পরিবারকেও গুনতে হয় বাড়তি জরিমানা। এত কিছুর পরও সেখানে পৌঁছে অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করেন। কী ভয়ানক অবস্থা! অন্যদিকে দালাল চক্র অনেক বেশি শক্তিশালী এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হওয়ার কারণে সবসময় থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।

অতি আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, ভিটেমাটি বিক্রি করে, বিপুল পরিমাণ টাকা (ছয় থেকে আট লাখ) দালালদের দিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে অনেকেই। অথচ এদেশের মাটিতেই যদি টাকাগুলো বিনিয়োগ করা হয় তবে নিশ্চয়ই ভালো কিছু করা সম্ভব। আসল কথা হচ্ছে, বিদেশের ‘ভূত’ মাথায় একবার চেপে বসলে তা আসলে দূর করা কঠিন। তবে, দারিদ্র্যের কারণে হোক অথবা উন্নত রাষ্ট্রের মোহে হোক এ জাতীয় কাজ বন্ধে সরকারসংশ্লিষ্ট মহলকে আরও উদ্যোগী হতে হবে। উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক শক্তিশালী করে সেখানে মানবসম্পদ বিনিয়োগ করতে হবে। এতে যেমন অনেক তরুণের স্বপ্ন পূরণ হবে, একই সঙ্গে দেশেও বৈদেশিক মুদ্রা আসবে।