রাবির লিচু বাগান সাবাড়

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯ | ১ শ্রাবণ ১৪২৬

রাবির লিচু বাগান সাবাড়

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তৎপর হতে হবে

সম্পাদকীয় ৯:২৩ অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০১৯

print
রাবির লিচু বাগান সাবাড়

রাজনীতিক এবং ব্যবসায়ী শ্রেণির কাছে এদেশের মানুষ এক প্রকার জিম্মি। কখনো অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণের সম্পদ লুট করছে। আবার কখনো রাজনীতিকরা কথা দিয়ে কথা তা না রেখে সাধারণের ক্ষতি করছে। সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) একটি ঘটনা সবাইকে খুব নাড়া দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বৈধভাবে ইজারা নিয়ে লিচু বাগান করলেও একটি রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে লুটপাট চালিয়েছে। উপরন্তু মামলা দিয়েও হয়রানি করা হচ্ছে ইজারাদারকে। এক্ষেত্রে বিষয়টি মীমাংসায় রাবি প্রশাসনেরও তৎপতার অভাব রয়েছে।

 

খোলা কাগজের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কয়েকদিন আগে ওই ছাত্র সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী বাগানে লিচু পাড়তে গেলে মারধরের শিকার হন। পরবর্তীতে তারা জোটবদ্ধ হয়ে সাবাড় করে বাগানের সব লিচু। রাতের আঁধারে মারধরের শিকার কতিপয় ছাত্রনেতা শুধু লিচু তুলেই ক্ষান্ত হয়নি বরং মামলাও দিয়েছে ইজারাদারের বিরুদ্ধে। এতেই উভয় সংকটে পড়েছে ইজারাদার। ছাত্রসংগঠনটি দাবি করছে, তুচ্ছ ঘটনায় মারধরে তাদের সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে। অন্যদিকে ইজাদার লিচুর ক্ষতিসহ মামলার জেরে কোর্টের বারান্দায় দৌড়াদৌড়ি করছে।

অল্পকিছু লাভের আশায় লিচু বাগানটি নিলেও তাতে লাভ তো নয়ই বরং শঙ্কায় রয়েছে ইজারাদার। অথচ, জোর করে লিচু পাড়তে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েও ছাত্র সংগঠনটির নেতাকর্মীরা ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের বিষয়টি সামনে আনছে। বলতেই হয়, একজন ছাত্র হয়ে সাধারণের ক্ষতি করা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। এদিকে বাগানের নিরাপত্তা দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব থাকলেও তাতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। যে কারণে রাবি এলাকায় থাকা অন্য লিচু বাগানের মালিকরাও রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। সব মিলিয়ে সেখানে একটি ঘোলাটে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সর্বপ্রথম রাবি প্রশাসনকেই এগিয়ে আসতে হবে। কতিপয় ব্যবসায়ীকে মামলার-হয়রানি থেকে মুক্তি দিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের মনে রাখতে হবে, তাদের দায়িত্ব ছাত্রসহ সাধারণের অধিকার সংরক্ষণ করা। এক্ষেত্রে তারা কারো ক্ষতি করবে না, এটাই হওয়া উচিত। তাই সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে এ বিষয়ে সমঝোতা করতে হবে। আর ভবিষ্যতে যেন এ জাতীয় ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় সেজন্যও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে।