দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আইন

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯ | ১ শ্রাবণ ১৪২৬

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আইন

কার্যকরের বিকল্প নেই

সম্পাদকীয় ৯:৫০ অপরাহ্ণ, মে ১১, ২০১৯

print
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আইন

প্রত্যেকটি দেশ নিজস্ব আইনের ওপর ভর করে চলে। দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা নির্ভর করে আইনের শাসনের ওপর। রাষ্ট্রের নাগরিকদের যথাযথ সুবিধা এবং নিরাপত্তা দিতে হলে আইন প্রয়োগ বাধ্যতামূলক। কিন্তু আইন থেকেও যদি তা কার্যকর না হয়, তাহলে কেমন হলো! আমাদের দেশেও এমন অনেক আইন আছে যার বাস্তবিক প্রয়োগ নেই। ব্যাপারটি নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। এই বিবেচনায় সার্বিক দিক থেকেই নিরাপত্তা সংকটে আছে মানুষ। মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণে আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সুবিধাবঞ্চিত হচ্ছে নাগরিকরা।

দুঃখের বিষয়, সব আইন বাদ দিয়ে শুধু দ্রব্যমূল্যের উৎপাদন থেকে শুরু করে বিপণন পর্যন্ত যে আইন আছে সেগুলোরও সুফল পাচ্ছে না দেশের মানুষ। ভোক্তাদের সুবিধার জন্য আইন করা হলেও তার ব্যবহার কম। খোলা কাগজের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অতিরিক্ত মুনাফাকারী, অনিয়ন্ত্রিত গুদামজাতকরণ, অবৈধ আড়তদার, সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে খুচরা ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে পুরনো শক্তিশালী আইন আছে। এগুলোর মধ্যে ‘দ্য এসেনশিয়াল আর্টিকেলস অ্যাক্ট ১৯৫৩’, ‘কন্ট্রোল অব এসেনশিয়াল কমোডিটি অ্যাক্ট ১৯৭৬’, ‘অত্যাবশ্যকীয় দ্রব্যাদি নিয়ন্ত্রণ আদেশ ১৯৮১’ ‘অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশক নিয়োগ আদেশ ২০১১’ আইনগুলো শক্তিশালী হলেও এর প্রয়োগ শূন্যের কোঠায়, যা হতাশাজনক বটে।

এদিকে পুরনো এসব আইনের বাইরে নতুন করে ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯’, ‘প্রতিযোগিতা আইন ২০১২’ এবং ‘নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩’ করা হলেও এর কার্যকারিতা তেমন দেখা যায় না। এসব আইন কার্যকরে নিজস্ব সংস্থা থাকলে নানা কারণে সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সবার প্রয়োজনের দিক বিবেচনা করে আইনগুলো প্রণয়ন করা হলেও তা কার্যকর না থাকায় বিপাকে সবাই।

আমরা দেখেছি বছর বছর কোনো প্রকার ঘোষণা বা নিয়মনীতি ছাড়াই নিত্যপ্রয়োজনীয়সহ প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়ে। তাছাড়া, প্রতিবছর রোজার মাস এলেই অসাধু ব্যবসায়ীরা আইনের তোয়াক্কা না করে ভেজাল দেওয়াসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। বলা বাহুল্য, সবার সুবিধার্থে আইনগুলোর যথাযথ প্রয়োগ করা হলে এমনটি হতো না। শুধু খাদ্যদ্রব্য নয় বরং প্রতিটি পর্যায়ে আইনের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে অপরাধের মাত্রা এবং প্রবণতা দুই-ই কমে আসবে।