চাল নিয়ে চালবাজি

ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯ | ২ শ্রাবণ ১৪২৬

চাল নিয়ে চালবাজি

দুষ্টচক্রকে রুখতে হবে

সম্পাদকীয়-১ ৯:৫১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০১৯

print
চাল নিয়ে চালবাজি

নির্বাচনের পরপর হঠাৎ করেই প্রতি কেজি চালের দাম গড়পরতা ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে, যার পেছনে যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ দেখা যাচ্ছে না। সদ্য দায়িত্ব নেওয়া খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার গত বৃহস্পতিবার খাদ্য অধিদপ্তরে চাল ব্যবসায়ী সমিতি, আড়তদার ও অটো চাল মিল মালিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অনুরূপ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ অনেক আগেই খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি চাল ও খাদ্যশস্য মজুদ আছে। তারপরও কেন চালের দাম বাড়লো তিনি নিজেই সে প্রশ্ন রেখেছেন।

কৃষক ধান উৎপাদন করে, সেই ধান প্রক্রিয়াজাত করে খুচরা বিক্রেতার কাছে পৌঁছে দেন মিল মালিকরা। আর সেই খুচরা ব্যবসায়ীরা সাধারণ ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেন। খাদ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, চালের দাম বাড়লে এ তিন পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীদের দায় নিতে হবে। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, যে দেশে খাদ্য মজুদ থাকে সেই দেশে হুট করে খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে না। চালের দাম স্বাভাবিক রাখতে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। সভায় চাল কল মালিকরা দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে তাদের কোনো ভূমিকা নেই বলে জানিয়ে মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধে খুচরা ব্যবসায়ীদের দিকে নজর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। অটো রাইস মিল মালিকরা যে চাল ৪৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন, সেটা ঢাকায় এসে ৭০ থেকে ৭৮ টাকা কীভাবে হয় সে-প্রশ্নও রেখেছেন তারা?

চাল আমাদের প্রধান খাদ্যশস্য। অথচ এ চালকে নিয়ে সবসময় আমরা কোনো একটি দুষ্টচক্রকে চাল চালতে দেখি। আপাত  অদৃশ্য এই অসাধু চক্র দেশের চালের বাজারে প্রায়ই এ ধরনের অস্থিরতার সৃষ্টি করে বাঙালির ভাতের পাতে হাত দেয়। এ চক্রটিকে চিহ্নিত করতে নতুন সরকারের খাদ্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে একযোগে উঠে-পড়ে লাগতে হবে। চাল তথা নিত্যপণ্যের দামের লাগাম টেনে ধরতে সরকার বারবার কেন ব্যর্থ হচ্ছে, এটা বের করা দরকার।
চালের দাম বৃদ্ধির জন্য এক শ্রেণির মিল মালিকের সিন্ডিকেট ও পাইকারি বিক্রেতার মজুদদারিই দায়ী। এদের হাতে বহুদিন ধরে ভোক্তারা জিম্মি হয়ে আছে। স্মরণ করা যেতে পারে, ২০১৭ সালে ৪০ টাকার চাল আমরা খেয়েছি ৬৫ টাকায়। তখন বিভিন্ন মিডিয়াতে যখন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় চালের দামটা কিছুটা কমে স্থিতিশীল হয়েছিল। চালের দাম ১/১১-এর সময়ও অনেক বেড়ে গিয়েছিল। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর চালের দাম ৪০ টাকায় নেমে আসে। বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী প্রধানমন্ত্রী অতীতের মতো এবারও চালের দামের রাশ ধরে রেখে বিশেষ করে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দুই বেলা ভাতের নিশ্চয়তা দেবেন, এটাই তার কাছে প্রার্থনা।