প্রান্তিকজনের হাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণ

ঢাকা, বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

প্রান্তিকজনের হাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণ

সফলতা অব্যাহত থাকুক

সম্পাদকীয়-১ ৯:৫৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৮

print
প্রান্তিকজনের হাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণ

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি অসাধারণ উদ্যোগ হলো, কৃষককে দেওয়া সরকারের ভর্তুকি ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়ার জন্য ১০ টাকার অ্যাকাউন্ট খোলার ব্যবস্থা করা। দেশের প্রধান ব্যাংকটি এসব অ্যাকাউন্ট সচল রাখার ও বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষদের ব্যাংকমুখী করার ও সঞ্চয়ে মনোযোগী করার উদ্যোগ নেয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্প্রতি রিপোর্ট দেখে মনে হয়, প্রতিষ্ঠানটির এ উদ্যোগ সফলতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে পূর্ণ গতিতে। প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়েছে, প্রান্তিক মানুষজন এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এ পর্যন্ত স্বল্প সুদে ঋণ পেয়েছেন ৩০৮ কোটি টাকা এবং তাদের অনেকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেছেন।

সরকারিপ্রতিষ্ঠানের পরিষেবা নিতে গিয়ে এ দেশের প্রান্তিক মানুষদের সাধারণত অহেতুক যেসব হয়রানির শিকার হতে হয়, তার ভয়ে তারা থানা বা আদালতের মতো ব্যাংকের ধারেকাছে যেতে চান না। ইদানীং সময়ে বিভিন্ন এনজিও পরিচালিত ব্যাংকে টাকা লেনদেনের অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতা তাদের এ ব্যাংকভীতি আরও ঘনীভূত করেছে। এ ভয় কাটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগ অনেকটা ফলপ্রসূ হচ্ছে বলেই মনে হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, এসব অ্যাকাউন্ট যারা খুলেছে, তাদের মধ্যে কৃষক ছাড়াও রয়েছে পথশিশু, দুস্থ মুক্তিযোদ্ধা, পোশাক কারখানার শ্রমিক প্রভৃতি সামাজিকভাবে অবহেলিত ও প্রান্তিক মানুষরাও।

এ দেশের প্রান্তিক মানুষদের ক্ষুদ্র ঋণ দেওয়ার সূচনা করে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ড. মোহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক বিগত সত্তরের দশকের মাঝামাঝি। এরপর ব্র্যাক, আশা প্রভৃতি আরও বহু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (এনজিও) ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান কার্যক্রমে এগিয়ে আসে।

কিন্তু এসব এনজিও’র সঙ্গে প্রান্তিক মানুষদের লেনদেনের অভিজ্ঞতা খুব সুখকর বা সুফলপ্রসূ হয়েছে বলা যাবে না। অনেক সময় আত্মহনন বা সর্বস্বান্ত হওয়ার মধ্যে দিয়েই শেষ হয়েছে এনজিও ব্যাংকের সঙ্গে প্রান্তিক মানুষের মধুচন্দ্রিমা। বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান উদ্যোগ প্রান্তিক মানুষদের এ রাহুচক্র থেকে অনেকাংশে মুক্তি দিতে পারবে বলেই আমরা বিশ্বাস রাখি। তবে খেয়াল রাখতে হবে, আরও অনেক সরকারি উদ্যোগের মতো এখানেও যেন সরষের মধ্যে ভূত ঢুকে পরতে না পারে।