সড়কে আরও এক স্বপ্নের অপমৃত্যু

ঢাকা, বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

সড়কে আরও এক স্বপ্নের অপমৃত্যু

দুর্ঘটনা রোধে চাই সমন্বিত পদক্ষেপ

সম্পাদকীয়-২ ৯:৫২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৮

print
সড়কে আরও এক স্বপ্নের অপমৃত্যু

সড়ক দুর্ঘটনা নামের ভয়ঙ্কর দানবের হাতে নিত্যদিন অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থা, পুলিশ, প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়—কেউ কোনোমতেই এ দানবকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পরছে না।

সেন্টার ফর ইনজ্যুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিচার্স বাংলাদেশের (সিআইপিআরবি) গত বছরের এক জরিপে জানা যায়, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে প্রায় ২৪ হাজার মানুষ মারা পড়ে। এর মানে প্রতিদিন গড়পরতা ৬৪ জন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়, যেটা অন্য যে কোনো দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যার মধ্যে সর্বোচ্চ। সড়ক দুর্ঘটনায় বার্ষিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকা বলেও এ জরিপ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ পরিসংখ্যান থেকে এ দেশে সড়ক দুর্ঘটনার বাহুল্য ও ভয়াবহতা সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যায়। ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন, কিছুদিন আগে রাজধানীর সড়কে দুর্ঘটনায় দুই সহপাঠীর মর্মান্তিক মৃত্যুও প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আলোড়ন সৃষ্টিকারী আন্দোলন—কিছুই সড়ক দুর্ঘটনার রাশ টেনে ধরতে পারছে না।

গত ৪ ডিসেম্বর খোদ রাজধানীর বুকে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় ডা. আখতার জাহানের মৃত্যু গভীর মানবিক কারণেই এ ব্যাপারে নতুন করে আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। জানা গেছে, সিলেটের একটি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক আখতার জাহানের বিয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। আরেক চিকিৎসক মোহাম্মদ মহসিনের সঙ্গে ২৮ বছর বয়সের এ তরুণীর আকদ সম্পন্ন হয়েছে দুই মাস আগে। তার দুই চোখজুড়ে এখন ছিল নতুন ঘর বাঁধার স্বপ্ন। একটি ঘাতক যান, বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো একটি আকস্মিক দুর্ঘটনা সে স্বপ্নে কালো যবনিকা টেনে দিলো।

একই দিনে বরগুনায় আরেক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ঘটেছে চাঁদনি আক্তার নামে এক কলেজছাত্রীর। প্রতিদিন এভাবে কত স্বপ্নের আর সম্ভাবনার অপমৃত্যু ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনায়, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বহু পরামর্শ, সুপারিশ, ব্যবস্থা দেওয়া-নেওয়া হয়েছে এবং হচ্ছে। অথচ তারপরও এর ভয়াবহতা বাড়ছে বই কমছে না। জনগণসহ সংশ্লিষ্ট সবার পূর্ণ সচেতনতা এবং ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিত পরিকল্পনা ও পদক্ষেপই হয়তো পারবে সড়ক দুর্ঘটনা নামের এ প্রাণঘাতী দানবের পায়ে শেকল পরাতে।