জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা

সব দলের অংশগ্রহণ কাম্য

সম্পাদকীয়-১ ৯:৫৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৯, ২০১৮

print
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়ে গেছে। দেশে নির্বাচনী আমেজ এখন জমে উঠতে শুরু করেছে। উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও জমাদানের চেনা চিত্র আবারও দেখা যাবে। নির্বাচনে নাগরিকদের ভোট প্রদান ও ভোটকেন্দ্রগুলোতে যে লম্বা লাইন দেখতে পাওয়া যায়, গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় সে দৃশ্য আবারও আমাদের সামনে পরিলক্ষিত হওয়ার ক্ষণ এগিয়ে আসছে।

পত্রিকায় প্রকাশ, আগামী ২৩ ডিসেম্বর সারা দেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ তফসিল ঘোষণা করেন।

তফসিল অনুযায়ী, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ রাখা হয়েছে ১৯ নভেম্বর, যাচাই-বাছাই চলবে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ নভেম্বর। এর ২৩ দিন পর ভোটগ্রহণ।

সিইসি তার ভাষণে জানান, সীমিত পরিসরে শহরাঞ্চলের কিছু কেন্দ্রে ইভিএম বা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে ভোটগ্রহণ করা হবে। গতবারের মতো এবারও বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতার জন্য ভোটের আগে সেনাবাহিনী নিয়োগ করা হবে, তবে বিচারিক ক্ষমতা থাকবে না। মতবিরোধ মিটিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে ভোটে আসার আহ্বান জানান তিনি।

নূরুল হুদা তার ভাষণের শুরুতে দেশে সংসদ নির্বাচনের জন্য অনুকূল আবহ সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে দেশের সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো মতবিরোধ থাকলে তা রাজনৈতিকভাবে মেটানোর অনুরোধ জানান তিনি।

২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আছে জানিয়ে সিইসি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় সব প্রার্থী ও রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ পাবে। সবার জন্য অভিন্ন আচরণ ও সমান সুযোগ সৃষ্টির অনুকূলে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হবে। এ জন্য শিগগিরই পরিপত্র জারি করা হবে। নির্বাচন সফল করতে সবার সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশন সফল হবে।

নির্বাচনে সব দলকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নূরুল হুদা বলেন, ‘প্রত্যেক দলকে একে-অপরের প্রতি সহনশীল, সম্মানজনক এবং রাজনীতিসুলভ আচরণ করার অনুরোধ জানাই। সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি প্রতিযোগিতাপূর্ণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করি। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে প্রার্থীর সমর্থকদের সরব উপস্থিতিতে অনিয়ম প্রতিহত হয় বলে আমি বিশ্বাস করি।’

আমরাও চাই, নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করুক। দেশের নাগরিকরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখুক এবং নির্বাচন আয়োজনে সত্যিকার উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় থাকুক এবং নির্বাচনী প্রচারণার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হবে। সর্বোপরি দেশে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বিরাজ থাকুক আমরা সে প্রত্যাশাই করি।