খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ

ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ

নিরাপত্তাও জরুরি

সম্পাদকীয়-১ ১০:০০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৮, ২০১৮

print
খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা বাংলাদেশের জন্য আসলেই গর্বের বিষয়। একটি দেশের জন্য এ অর্জন শুধু গর্বেরই নয়, প্রয়োজনীয়ও বটে। মাত্র ১০ বছর আগেও যেখানে উৎপাদন প্রায় এক কোটি টন কম হতো, সেখানে এখন আর ঘাটতি নেই। দেশের মানুষ অবশ্যই এর সুফল পাচ্ছে। আমদানি নির্ভরশীলতা কাটিয়ে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য দুবারের নির্বাচিত সরকারকে ধন্যবাদ দেওয়া যেতে পারে। কারণ, গত ১০ বছরের দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলেই এমনটি সম্ভব হয়েছে।

দৈনিক খোলা কাগজে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে জানা যায়, চাল-গম-ভুট্টা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদনেও বেশ এগিয়েছে দেশ। জানা যায়, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রণোদনা ও কৃষি কার্যক্রম গভীরভাবে শুরু করেছে। যার ফলও বর্তমানে দৃশ্যমান। খাদ্য উৎপাদনে প্রান্তিক কৃষকদের সরকারি সহায়তার পাশাপাশি কম সুদে ব্যাংক ঋণেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়াও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের প্রণোদনা ও পুনর্বাসন বাবদ ১০০ কোটি টাকার কৃষি উপকরণ ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয় জানায়, কৃষি উপকরণের অভাবে প্রান্তিক কৃষকের চাষাবাদ যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্য কৃষি উপকরণ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বেকার কৃষকের কর্মসংস্থান হয়েছে, পাশাপাশি নিজের খাদ্য নিজেও উৎপাদন করছে। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয় খাদ্য উৎপাদনের সবটুকু দায়িত্বই যখন কৃষকের, তখন তাদের শুধু ঋণ দিলেই চলবে না। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাও সরকার তথা কর্তৃপক্ষের একান্ত কর্তব্য। এ ছাড়া দালাল-ফড়িয়া-মধ্যস্বত্বভোগীদেরও বিশেষ বিবেচনায় রাখতে হবে। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উৎপাদন করা কৃষকের যেন কোনো ক্ষতি না হয় সে বিষয়টিও অবশ্যই বিবেচনার দাবি রাখে।

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে নিশ্চিন্তে বসে থাকা সমীচীন নয়। কারণ, বাংলাদেশ প্রবল দুর্যোগপ্রবণ দেশ। দেশের সব মানুষের খাবারের চাহিদা মিটিয়েও বাড়তি খাদ্য মজুদ রাখার ভাবনা থাকতে হবে। খাদ্য রপ্তানি করেও দেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে। যা দেশের অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে। এ ছাড়া বৈরী পরিস্থিতিতে দেশে যেন খাবারের সংকট না দেখা দেয় সেদিকেও খেয়াল রাখা বিশেষ জরুরি।