বাংলাদেশেও ‘মি-টু’ ঢেউ

ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫

বাংলাদেশেও ‘মি-টু’ ঢেউ

সোচ্চার হতে হবে

সম্পাদকীয় ৯:৫৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৮, ২০১৮

print
বাংলাদেশেও ‘মি-টু’ ঢেউ

সেই প্রাচীনকাল থেকেই পৃথিবীজুড়ে নিগৃহীত নারীরা। কালে কালে তারা সোচ্চারও হয়েছে তাদের অত্যাচারের বিপক্ষে এবং ইতিবাচক দাবি আদায়ে। সম্প্রতি তেমনি একটি প্রতিবাদী আন্দোলন শুরু হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘মি-টু’। পশ্চিমা বিশ্ব শুরু হওয়া এ আন্দোলন ভারতকে টপকে বাংলাদেশেও এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া এ আন্দোলন ইন্টারনেটের কারণে মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ছে পৃথিবীব্যাপী।

দৈনিক খোলা কাগজের প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের হলিউড থেকে শুরু হওয়া ওই আন্দোলন ভারতের বলিউড হয়ে বাংলাদেশেও প্রবেশ করেছে বলে জানা যায়। সম্প্রতি বাংলাদেশে ‘মি-টু’ আন্দোলনের প্রথম ঢেউটি তুলেছেন মাকসুদা আক্তার প্রিয়তি নামে আয়ারল্যান্ডে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এ মডেল ও পাইলট। গত ৩০ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের লাইভে এসে তিনি ‘মি-টু’ আন্দোলন শুরু করেন। এর আগে বিদেশের মাটিতে ২০০৬ সালে এমন আন্দোলন শুরু হলেও তা আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে ২০১৭ সালে। এরপর বাংলাদেশে এলো সম্প্রতি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লাইভে এসে ভুক্তভোগী প্রকাশ্যেই নামসহ বিস্তারিত বলে দিচ্ছে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে। যেহেতু বিষয়টি অনেকটাই প্রকাশ্য তাই এ নিয়ে শঙ্কাও কম। কেননা নিজ মুখে যৌন হেনস্তার স্বীকারোক্তি খুব সহজসাধ্য কাজ নয়। বাংলাদেশি মেয়ের পক্ষে যা অনেকটাই দুরুহ। সে কাজই করে দেখিয়েছে ‘প্রিয়তি’।

এ দেশে এখনো রাস্তাঘাটে, অফিসে, গাড়িতে, বাড়িতে প্রায় প্রতিনিয়তই নারীরা যৌন হেনস্তার শিকার হচ্ছে। এ তথ্য প্রচার করছে দেশের গণমাধ্যমগুলো, যা নিখাদ সত্য। কিন্তু বেশিরভাগ নারী লজ্জায় বা ভয়ে তা অস্বীকার করে। কেননা, তারা বিশ্বাস করে যতটুকু বিচার পাওয়া যাবে, তার চাইতে আরও বেশি হেনস্তা হতে হবে তাকে। অথচ, সংবিধান বলছে, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা থাকবে সর্বোচ্চ অবস্থানে।

আমরা বিশ্বাস করি, নারী এবং পুরুষ একে অপরের পরিপূরক। কোনোভাবেই নারীকে কোনো রূপ হেনস্তা করার সুযোগ নেই। অন্য দেশ প্রসঙ্গে না গিয়ে নিজের দেশের বিষয়টিই সরকার তথা কর্তৃপক্ষের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আইনের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। গভীর তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে। পাশাপাশি, কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন অযথা হয়রানি না হয় সে বিষয়টিও খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরি।