কৃষি ঋণ বিতরণে পিছু টান

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

ঐচ্ছিকের আবদারে সাড়া দেয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক

কৃষি ঋণ বিতরণে পিছু টান

জাফর আহমদ ১০:৪৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০১৮

print
কৃষি ঋণ বিতরণে পিছু টান

ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের ২ শতাংশ কৃষকদের মাঝে বিতরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা রয়েছে। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো গত বছর চেয়েছিল এ বিধান বাধ্যতামূলক নয়, ঐচ্ছিক করা হোক। বাণিজ্যিক ব্যাংকের এ আবদারে সাড়া দেয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপর ঋণ বিতরণ কমিয়ে দিয়েছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। সেপ্টেম্বর শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশি-বিদেশি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ১১ হাজার লাখ ৯২৫ কোটি টাকা। জুলাই-সেপ্টেম্বরের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে দুই হাজার ৯৮১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। কিন্তু ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে এক হাজার ৯৫৬ কোটি ১০ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে কম বিতরণ করেছে ৯০৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। আগের বছর জুলাই-সেপ্টেম্বর তিন মাসে এসব বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক বিতরণ করেছিল ২ হাজার ৭৬০ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।
কৃষি ঋণ বিতরণে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিতরণ কমে যাওয়ার পেছনে ব্যাংকগুলোর অন্য কোনো মতলব নেই বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম। তিনি খোলা কাগজকে বলেন, প্রথম কোয়ার্টারে এসব ব্যাংক কম ঋণ বিতরণ করেছে, সামনে এখনো ৯ মাস সময় আছে। বাকি সময়ে ব্যাংকগুলো লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করবে। এমনও হতে পারে সামনে কোনো শস্যের মৌসুম পড়লে পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রা এক মাসেও বিতরণ করে ফেলতে পারে।
কৃষি ঋণ বিতরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মানতে বছর ভেদে ৫ থেকে ১৫টি বাণিজ্যিক ব্যাংক ব্যর্থ হয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের আগ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বাংলাদেশ ব্যাংকে থাকা অ্যাকাউন্ট থেকে লক্ষ্যমাত্রার অনর্জিত ঋণের সমপরিমাণ টাকা জরিমানা হিসেবে কেটে রাখা হতো। পরের বছর লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে আগের বছরের অনর্জিত ঋণ বিতরণ করলে জরিমানার টাকা ফেরত দেওয়া হতো। ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে অনর্জিত ঋণের এক-তৃতীয়াংশ জরিমানা হিসেবে কেটে রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক এসব ব্যাংকের কাছে চিঠি প্রেরণ করে থাকে, যা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বাড়তি ঝামেলা বলে মনে করে। এ ছাড়া যেসব বাণিজ্যিক ব্যাংকের পল্লী অঞ্চলে নিজস্ব শাখা নেই, সেসব ব্যাংক এনজিওর দারস্থ হয়। এনজিওগুলো ৯ শতাংশ হারে ঋণ নিয়ে কৃষক পর্যায়ে ২২ শতাংশ সুদ হারে বিতরণ করে।
বাণিজ্যিক ব্যাংকের একটি সূত্র জানিয়েছে কৃষককে ঋণ দেওয়ার জন্য এনজিওর সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও তাদের পছন্দ নয়। এ কারণে ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবদার করেছিল কৃষিঋণ বাধ্যতামূলক নয়, ঐচ্ছিক করা হোক। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক এ ব্যাপারে কোনো সাড়া দেয়নি।  
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, তিন মাসে মোট কৃষি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৭১৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ রুরাল ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (বিআরডিবি) বিতরণ করেছে ২১৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা। বাকি ৩ হাজার ৪৯৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বাংকিং খাত থেকে বিতরণ করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি বেসরকারি ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে ১ হাজার ৯৫৬ কোটি ১০ লাখ টাকা। এর বাইরে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে ১ হাজার ৫৩৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম তিন মাস জুলাই-সেপ্টেম্বরে বিতরণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৪৭৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা।  
এ বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর তিন মাসে ব্যাংক আল ফালাহ, সিটি ব্যাংক এনএ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া এবং উরি ব্যাংক ঋণ বিতরণই শুরু করেনি। আবার তিন মাসে লক্ষ্যমাত্রার ২৫ ভাগ বিতরণ করার কথা থাকলেও রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক বিতরণ করেছে সর্বনিম্ন ২ শতাংশ। ৫ শতাংশের নিচে কৃষি ঋণ বিতরণ করেছে যমুনা ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এসিসি ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সাউথ বাংলা  এগ্রিকালচার ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক। মধুমতি ব্যাংক আদৌ ঋণ  বিতরণ শুরু করেনি।