কৃষিঋণ পরিশোধের হার কমে গেছে

ঢাকা, বুধবার, ১ ডিসেম্বর ২০২১ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

কৃষিঋণ পরিশোধের হার কমে গেছে

জাফর আহমদ
🕐 ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৩, ২০২১

কৃষিঋণ পরিশোধের হার কমে গেছে

করোনার দ্বিতীয় ধাপে কৃষকের ঋণ ফেরত দেওয়ার হার কমেছে। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর চার মাসে কৃষক পর্যায়ে ঋণ ফেরত এসেছে সাত হাজার ৫৯৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। যা মোট বিতরণ করা ঋণের ১৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ। আগের বছরের একই সময়ে বিতরণ করা হয়েছিল ৮ হাজার ৪৫৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এ টাকা মোট বিতরণ করা ঋণের ১৯ দশমিক ২৬ শতাংশ।

করোনার মহামারীর প্রথম ধাপ আক্রান্ত ও মৃত্যু মূলত রাজধানী ঢাকাসহ প্রধান প্রধান শহরে সীমাবদ্ধ ছিল। পল্লী অঞ্চলে বিশেষ প্রভাব ফেলেনি। শুরুর দিকে বড় সময় দেশব্যাপী লকডাউন থাকলেও সরকার বিশেষ ব্যবস্থায় কৃষিপণ্য সরবরাহের জন্য পরিবহন ব্যবস্থা সচল রাখে।

এর ফলে কৃষিতে কিছু আঘাত লাগলেও দ্রুতই সে ক্ষত সেরে ওঠে। সে সময় সরকার বড় ধরনের ঋণ প্রণোদনাও ঘোষণা করেছিল। তার ফলে কৃষক, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত ও কৃষি উদ্যোক্তারা ব্যাংক থেকে যেমন ঋণ নিয়েছেন, তেমন সন্তোষজনক হারে ফেরতও দিয়েছেন। কিন্তু চলতি বছরে করোনার আঘাত পল্লী অঞ্চল থেকে শুরু হয়েছিল। পুরো দেশের কৃষিতেই এর আঘাত লাগে। এ কারণে কৃষিঋণের আদায় কমে যায়।

খাদ্য নিরাপত্তা সৃষ্টিতে সরকার কৃষিতে গুরুত্ব দিয়েছে। এ জন্য সার, বীজ, সেচসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে ভর্তুকি দিয়েছে। সরকারের খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে মোট ঋণের কমপক্ষে ২ শতাংশ কৃষিঋণ বিতরণ করা বাধ্যতামূলক করেছে। এর জন্য সাধারণ ঋণ বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতি বছরই কৃষিঋণ বিতরণ বাড়ছে। ২০১০ সাল থেকে ৯ হাজার কোটি টাকা কৃষিঋণ এখন প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। চলতি বছরও ২৮ হাজার ৩১৯ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী জুলাই-অক্টোবর চার মাসে কৃষিঋণ বিতরণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৯০৫ কোটি ১২ লাখ টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রার ২৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ৮ ব্যাংক বিতরণ করেছে তিন হাজার ৫৬২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। আর দেশি-বিদেশি ৪৮টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক বিতরণ করেছে ৪ হাজার ৩৪২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এ সময় কৃষকের কাছে মোট ঋণ স্থিতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার ৩৫৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

কৃষিঋণ বিতরণে বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর মনিটোরিং করে থাকে। যে সব বাণিজ্যিক ব্যাংক কৃষিঋণ বিতরণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয় তাদের অনর্জিত ঋণের সমপরিমাণ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকে থাকা ওই বাণিজ্যিক ব্যাংকের টাকা থেকে কেটে নেওয়া হয়। পরের বছর অনর্জিত টাকার সমপরিমাণ টাকা বেশি বিতরণ করলে আবার ওই টাকা ফেরত দেওয়া হয়।

জুলাই-অক্টোবর চার মাসে দেখা যায় একক ব্যাংক হিসাবে সর্বোচ্চ কৃষিঋণ বিতরণ করেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ২৪৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। ব্যাংকটির এ বছরে কৃষিঋণ বিতরণে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৬ হাজার কোটি টাকা। আবার কোনো ঋণই বিতরণ করেনি এমন ব্যাংকের সংখ্যা রয়েছে পাঁচটি।

ব্যাংক পাঁচটি হলো- বিদেশি সিটি ব্যাংক এনএ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, উরি ব্যাংক, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক এবং কমিউনিটি ব্যাংক।

 
Electronic Paper