ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

ঢাকা, সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৩ পৌষ ১৪২৫

মানবসম্পদ উন্নয়ন সূচক

ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট ১০:৩৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০১৮

print
ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

মানবসম্পদ উন্নয়নে এ মুহূর্তে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক গ্রুপের স্বাস্থ্য ও শিক্ষাবিষয়ক ‘মানবসম্পদ সূচক’ প্রতিবেদনে এ অগ্রগতির খবর জানা গেছে। তবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে শ্রীলঙ্কা।

পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যু হার, শিশুদের স্কুলে যাওয়ার গড় সময়, শিক্ষার মান, প্রাপ্তবয়স্কদের অন্তত ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত টিকে থাকা ও শিশুদের সঠিক আকারে বেড়ে ওঠার হার এ পাঁচটি মানদণ্ড ব্যবহার করা হয়েছে সূচক তৈরির ক্ষেত্রে। এর লক্ষ্য হলো সরকারগুলোকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আরও কার্যকর বিনিয়োগে উৎসাহিত করা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি শিশু আদর্শ অবস্থায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার পূর্ণ সুযোগ পেয়ে বেড়ে উঠতে পারলে পূর্ণবয়স্ক হওয়ার পর তার উৎপাদনশীলতা যে অবস্থায় পৌঁছানোর কথা, বাংলাদেশে জন্ম হলে তার উৎপাদনশীলতা হবে তার ৪৮ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে ভারতে এ হার ৪৪ শতাংশ, পাকিস্তানে ৩৯ শতাংশ ও মিয়ানমারে ৪৭ শতাংশ। আর এগিয়ে থাকা শ্রীলঙ্কায় ৫৮ শতাংশ, আর নেপালে ৪৯ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশে পাঁচ বছরের বেশি বয়স পর্যন্ত টিকে যাওয়া শিশুর হার ৯৭ শতাংশ। ভারতে এ হার ৯৬ শতাংশ, পাকিস্তানে ৯৩ শতাংশ ও শ্রীলঙ্কায় ৯৯ শতাংশ। বাংলাদেশে একটি শিশু ১৮ বছর বয়স হওয়া পর্যন্ত গড়ে ১১ বছর স্কুলে কাটায়। ভারতের ক্ষেত্রে এ সময় গড়ে ১০.২ বছর, পাকিস্তানে ৮.৮ বছর ও শ্রীলঙ্কায় ১৩ বছর।

এ শিক্ষার মান বুঝতে বিশ্বব্যাংক হারমোনাইজড টেস্ট স্কোর পদ্ধতি ব্যবহার করেছে, সেখানে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের স্কোর ৩৬৮। সবচেয়ে শ্রীলঙ্কায় স্কোর ৪০০। নেপালে এ স্কোর ৩৬৯, ভারতে ৩৫৫ ও পাকিস্তানে ৩৩৯।

বাংলাদেশে এখন যাদের বয়স ১৫ বছর, তাদের মধ্যে ৮৭ শতাংশের প্রত্যাশিত আয়ু হবে ৬০ বছরের বেশি। শ্রীলঙ্কাও রয়েছে একই কাতারে। ভারতে এ হার ৮৩ শতাংশ, পাকিস্তানে ৮৪ শতাংশ ও নেপালে ৮৫ শতাংশ।

বাংলাদেশে প্রতি ১০০ শিশুর মধ্যে ৬৪ জন কোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই বেড়ে ওঠে। ভারতে এ সংখ্যা ৬২, পাকিস্তানে ৫৫ ও শ্রীলঙ্কায় ৮৩।

ইন্দোনেশিয়ার বালিতে চলমান বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ বার্ষিক সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম আশা প্রকাশ করেন, এ সূচকে উন্নতির জন্য দেশগুলো স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াতে মনোযোগী হবে।