বিনিয়োগের প্রকৃত তথ্য নেই বিডার কাছে

ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

বিনিয়োগের প্রকৃত তথ্য নেই বিডার কাছে

জাফর আহমদ ১০:৫০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৯, ২০১৮

print
বিনিয়োগের প্রকৃত তথ্য নেই বিডার কাছে

বিনিয়োগ বোর্ড থেকে আলাদা করে ২০১৬ সালে গঠন করা হয় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। বেসরকারি খাতকে বেগবান করতে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করতে যাত্রা শুরু হয় সংস্থাটির। কিন্তু দেশে কি পরিমাণ বিনিয়োগ হচ্ছে সেটার কোনো সঠিক তথ্য নেই বিডার কাছে। প্রাথমিক নিবন্ধন ও প্রকৃত বিনিয়োগের আন্দাজ নির্ভর তথ্য দিয়ে চলছে সংস্থাটি। খোলা কাগজের তথ্যানুসন্ধানে এমন তথ্য মিলেছে।

বিডার তথ্যানুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মোট ২০ লাখ ৭২ হাজার ৯২৪ দশমিক ৫৬৮ মিলিয়ন টাকা বিনিয়োগের জন্য নিবন্ধন হয়েছে। নিবন্ধনে প্রকল্প ছিল ১ হাজার ৬৪৩টি। আর কর্মসংস্থান হওয়ার কথা ২ লাখ ৮৭ হাজার ৫৪৬টি। এর মধ্যে স্থানীয় বিনিয়োগ প্রস্তাব ছিল ১ হাজার ৪৮৩টি। এসব প্রকল্পের বিপরীতে বিনিয়োগের প্রস্তাবিত পরিমাণ ছিল ১২ লাখ ৫৭ হাজার ৯৯১ দশমিক ৬৬২ মিলিয়ন টাকা। স্থানীয় এসব প্রকল্পে কর্মসংস্থান হওয়ার কথা ২ লাখ ৬০ হাজার ৫৫৫ জনের। আর বিদেশি ১৬০টি প্রকল্পের বিপরীতে ৮ লাখ ১৪ হাজার ৯৩২ দশমিক ৯০৬ মিলিয়ন টাকা বিনিযোগ করার জন্য নিবন্ধন করা হয়। বিদেশি এই ১৬০ প্রকল্পে কর্মসংস্থান প্রাক্কলন করা হয় ২৬ হাজার ৯৯১ জন।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে প্রস্তাবিত বিনিয়োগ ৫ লাখ মিলিয়ন টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, সেখানে ২০১৪-১৫ অর্থবছর তা বেড়ে ৯ লাখ মিলিয়ন ডলারের ছাড়িয়ে যায়। সর্বশেষ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ লাখ ৫৮ হাজার মিলিয়ন টাকায়। একইভাবে বেড়েছে মোট বিনিয়োগ (দেশি ও বিদেশি) নিবন্ধনও। আগের বছরগুলোতে মোট নিবন্ধন যেখানে ৭ লাখ মিলিয়ন টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ১০ লাখ মিলিয়ন টাকা ছুঁয়ে যায়। বৃদ্ধির হার প্রায় ৫০ শতাংশ। সর্বশেষ গত অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২০ লাখ ৭২ হাজার ৯২৪ মিলিয়ন টাকায়।     
বিনিয়োগের এ তথ্য নিবন্ধন থেকে প্রাপ্ত। কিন্তু স্থানীয় ক্ষেত্রে প্রকৃত বিনিয়োগের কোনো তথ্য নেই বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষের কাছে। খোলা কাগজের পক্ষ থেকে প্রকৃত বিনিয়োগের তথ্য চাওয়া হলে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিআইডিএ) গত এক মাসেও কোনো তথ্য দিতে পারেনি। গত ৩০ আগস্ট লিখিত আবেদন করার পর গতকাল মঙ্গলবার বিডা জানায়, স্থানীয় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের কাছে প্রকৃত তথ্য নেই। তবে স্থানীয় প্রস্তাবিত বিনিয়োগের আনুমানিক শতকরা ৬৫ ভাগ প্রকৃত বিনিয়োগ বাস্তবায়ন হয়।
বিনিয়োগের প্রকৃত তথ্যের ব্যাপারে সংস্থাটির এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ড. মো. মনজুরুল হক (কর্মকর্তা উপ-পরিচালক) খোলা কাগজকে বলেন, ‘বিনিয়োগের সময় তথ্য জানানোর ব্যাপারে চুক্তিবদ্ধ থাকলেও পরে কোম্পানিগুলো তথ্য জানায়নি। কোন কোম্পানি উৎপাদনে যাওয়ার ৬ মাস পর পর তথ্য জানানোর কথা থাকলেও তারা সেটা করে না। পরে মাঠ পর্যায় থেকে নমুনা সংগ্রহ করে গড়পড়তা তথ্য প্রকাশ করা হয়। যা অনেকটা আন্দাজ নির্ভর। ফলে বিনিয়োগকারীরা অনেকটাই বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। নিবন্ধন নেওয়ার মধ্যেই বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ।’  
বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তথ্য থেকে জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বড় ১০টি খাতের বিনিয়োগ নিবন্ধন হয়েছে, ১২ লাখ ৫৭ হাজার ৯৯১ দশমিক ৬৬২ মিলিয়ন টাকার। এর মধ্যে কেমিকেল শিল্পে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৯২৫ দশমিক ৪০৩ মিলিয়ন টাকা বিনিয়োগ নিবন্ধন হয়েছে। এরপর রয়েছে সার্ভিস শিল্প। এ শিল্পে বিনিয়োগ হয়েছে ২ লাখ ৯৫ হাজার ৪০৩ দশমিক ৬৯৯ মিলিয়ন টাকা এবং বস্ত্র খাতে ২ লাখ ৫৭ হাজার ৭৯২ দশমিক ৫২৩ মিলিয়ন টাকা। এ ছাড়া কৃষিভিত্তিক শিল্পে নিবন্ধন হয়েছে ৮১ হাজার ৭৭৪ দশমিক ২২৬ মিলিয়ন টাকা; ফুড অ্যান্ড অ্যালাইড শিল্পে নিবন্ধন হয়েছে ৩৭ হাজার ১৬৮ দশমিক ৭১৭ মিলিয়ন টাকা; প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিসিং শিল্পে ১১ হাজার ৬১৮ দশমিক ৩৭৮ মিলিয়ন টাকা; ট্যানারি অ্যান্ড লেদার শিল্পে ১৯ হাজার ৩৮৫ দশমিক ৫০ মিলিয়ন টাকা; গ্লাস অ্যান্ড সিরামিক শিল্পে ১৬ হাজার ৪০৫ দশমিক ৯৫৯ মিলিয়ন টাকা; ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পে ১ লাখ ৩৫ হাজার ২৮৭ দশমিক ২৩৯ মিলিয়ন টাকা এবং অন্য শিল্পে বিনিয়োগ নিবন্ধন হয়েছে ১৩ হাজার ২৩০ দশমিক ৪৯৮ মিলিয়ন টাকা।