তদন্ত প্রতিবেদন যে কোনো সময়

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

বাংলাদেশ ব্যাংকে স্বর্ণকাণ্ড

তদন্ত প্রতিবেদন যে কোনো সময়

জাফর আহমদ ১০:৩৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৭, ২০১৮

print
তদন্ত প্রতিবেদন যে কোনো সময়

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে ভুতুড়েকাণ্ড নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি তৃতীয় মেয়াদেও প্রতিবেদন দিতে পারেনি। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘প্রতিবেদন প্রস্তুত, যে কোনো সময় প্রতিবেদন দেওয়া হবে।’ দ্বিতীয় মেয়াদ শেষে রোববার সন্ধ্যায় খোলা কাগজকে তিনি মুঠোফোনে একথা জানান।  

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে স্বর্ণ নিয়ে ভুতুড়েকাণ্ড তদন্তে গঠিত কমিটি দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হয় গত ২৪ সেপ্টেম্বর। ওইদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত শেষ পর্যায়ে। তবে পুরোপুরি শেষ করতে আরও কমপক্ষে এক সপ্তাহ প্রয়োজন। তদন্ত শেষ হলে আমরা বলতে পারব স্বর্ণ নিয়ে আসলে কি ঘটেছিল।’
তদন্ত কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২৪ জুলাই গঠিত কমিটির এক মাস পূরণ হয় ২৪ আগস্ট। এক মাস সময় পর্যন্ত কমিটি তদন্তের ‘শর্টলিস্ট’ও বানাতে ব্যর্থ হয়। কীভাবে কাজ শুরু করবে তাও তারা স্থির করতে পারেনি। ২৪ জুলাই গঠিত কমিটি গঠনের পর নিজেদের মধ্যে একবার যোগাযোগ করেছে মাত্র! উল্লেখ্য, চলতি বছরের মধ্য জুলাইয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত থেকে স্বর্ণ নিয়ে ভুতুড়েকাণ্ড বিষয়ে পত্রিকায় খবর প্রকাশের পর সরকার নড়েচড়ে বসে। এরপর ‘উপর’র নির্দেশে গভর্নর ফজলে কবির ২৩ জুলাই ৬ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করেন। কমিটির প্রধান করা হয় নির্বাহী পরিচালক এন এম আবুল কাশেমকে। কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন চারজন মহাব্যবস্থাপক ও একজন উপমহাব্যবস্থাপক। কমিটি এক মাস সময়ের মধ্যে রিপোর্ট করতে না পারলে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরও এক মাস সময় নেয়। ২৪ সেপ্টেম্বর সে সময়ও শেষ হয়।
স্বর্ণকাণ্ড নিয়ে খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মাঝেও অসন্তোষ বিরাজ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করেন, স্বর্ণ অব্যবস্থাপনার খবর প্রকাশের ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে যে স্বর্ণ রেখে গিয়েছিল সে স্বর্ণই আছে। হারানো বা কোনোভাবেই বদল হওয়ার ঘটনা ঘটলে আগে দেখা উচিত ছিল যেভাবে রাখা হয়েছিল সেভাবে স্বর্ণ ছিল কি না। এটাই আগে চিহ্নিত করার প্রয়োজন ছিল। তারপর যা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআরের সমন্বয়হীনতার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা গেলে দুর্নামের ভার কিছুটা হলেও কমানো যেত।
বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতে, মোট ছয় স্তরে স্বর্ণ সংরক্ষণ করা হয়। এনবিআর বলেছে, স্বর্ণ রাখার সময় ২৪ ক্যারেট রাখা হয়েছিল তা কমে ২০ থেকে ১৮ ক্যারেটে নেমে গেছে। মোট ৯৩৬ কেজি স্বর্ণের মধ্যে ৩ কেজি স্বর্ণে এ ধরনের মানচ্যুতি ঘটানো হয়েছে। এ অভিযোগ সত্য হলে ভল্ট থেকে কখন স্বর্ণ বের করে বাইরে স্বর্ণকারের দোকানে পাঠানো হলো, স্বর্ণকারের দোকানে খাদ মিশিয়ে কখন আবার ভল্টে ফেরত  রাখা হয়েছে তা দেখতে হবে। এসব দৃশ্য নিশ্চয়ই বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্যামেরায় ধারণ করা আছে। তা পর্যালোচনা করে দ্রুত মানুষকে জানাতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোন কারণে বিলম্ব করা হচ্ছে তার কারণ খুঁজে পাচ্ছে না বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। তারপরও তাদের বিশ্বাস, দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে দেশের মানুষ জানবে স্বর্ণ নিয়ে যা হয়েছে নিছক ভুল বোঝাবুঝি।