কম খরচে এজেন্ট ব্যাংকিং সুদিন আনবে কৃষিঋণে

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

কম খরচে এজেন্ট ব্যাংকিং সুদিন আনবে কৃষিঋণে

জাফর আহমদ ১০:২১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৪, ২০১৮

print
কম খরচে এজেন্ট ব্যাংকিং সুদিন আনবে কৃষিঋণে

ব্যাংকিং খাতের মাধ্যমে এবার ২১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণ করা হবে। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর পল্লী অঞ্চলে নিজস্ব শাখা না থাকার কারণে এনজিও লিংকেজের মাধ্যমে এ টাকা বিতরণ করা হয়। আর এনজিও লিংকেজের মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণ গ্রহণে পল্লী অঞ্চলের মানুষকে ১৮ থেকে সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ হারে ঋণ সুদ দিতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, কম খরচের এজেন্ট ব্যাংকিং চালু হওয়ার ফলে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কম সুদে পল্লী অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

তথ্যানুযায়ী, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা আছে ২১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। আগের বছর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ২১,৪০০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ৮ বাণিজ্যিক ব্যাংক বিতরণ করবে ৯ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা। আর বাকি ১১ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা বিতরণ করবে বেসরকারি দেশি ও বিদেশি ৪৭টি বাণিজ্যিক ব্যাংক। এসব ব্যাংকের পল্লী অঞ্চলে নিজস্ব শাখা না থাকার কারণে এনজিও লিংকেজের মাধ্যমে বিতরণ করে থাকে এবং এ জন্য সুদ দিতে হয় মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) নির্ধারিত সুদ হার ২২ থেকে ২৭ শতাংশ পর্যন্ত। এর ফলে কৃষককে বাড়তি সুদ দিতে হয়। এ সুদের বড় অংশ চলে যায় নতুন সৃষ্ট মধ্যসত্বভোগী এনজিওগুলোর পকেটে। অথচ ব্যাংকের একই ঋণ যখন ব্যাংকের নিজস্ব শাখার মাধ্যমে বিতরণ করে থাকে তখন এই ঋণের সুদ হার হয় ৯ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকই কৃষিঋণের সুদ হারের এই ভিন্ন ধরন তৈরি করে দিয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং শুরু করার ফলে ১৭টি বাণিজ্যিক ব্যাংক কম খরচে আমানত সংগ্রহ ও কম সুদের ঋণ বিতরণ কার্যক্রম করতে পারছে। ২ লাখ থেকে বিভিন্ন হারে টাকা এসব ব্যাংকে জমা রেখে পল্লী অঞ্চলের একেক জন এজেন্ট সম পরিমাণ আমানত সংগ্রহ করছে। এজেন্টের ধারের কাছের সংশ্লিষ্ট শাখার অনুমতিসাপেক্ষে ঋণও বিতরণ করতে পারছে। একটি অফিস ও এক থেকে দুজন জনবল দিয়ে অফিস চালানো সম্ভব হওয়ায় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের খরচও কম পড়ে। ফলে যেসব ব্যাংকের পল্লী অঞ্চলে শাখা নেই সেসব ব্যাংক পল্লী অঞ্চল থেকে কম খরচে আমানতের পাশাপাশি ঋণও বিতরণ করতে পারছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগ উদ্যোগ নিয়েছে এসব এজেন্ট বুথকে (আউট লেট) কাজে লাগিয়ে কৃষিঋণ বিতরণ করবে। স্ব স্ব ব্যাংকের এজেন্টের মাধ্যমে কৃষিঋণ বিতরণ করলে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত (বাণিজ্যিক ব্যাংকের জন্য নির্ধারিত) ৯ শতাংশ সুদ হারেই কৃষিঋণ নিতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, ডাচ্-বাংলা, ব্যাংক এশিয়া, আল-আরাফাহ ইসলামী, সোস্যাল ইসলামী, মধুমতি ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, এনআরবি কমার্শিয়াল, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি, মিডল্যান্ড ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, এবি ব্যাংক এবং এনআরবি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং করছে। এসব ব্যাংকের শহরাঞ্চলে ৪২৪টি এবং পল্লী অঞ্চলে ৪ হাজার ৯২৭টিসহ মোট ৫ হাজার ৩৫১টি বুথ রয়েছে। সারা দেশে এসব বুথের ১৭ লাখ ৭৭ হাজার ৪০০টি হিসাব খোলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, এসব এজেন্টের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো ২ হাজার ১২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা আমানত সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩ হাজার ৫১৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা রেমিট্যান্স ও ১৩৭ কোটি ৩২ লাখ টাকা ঋণও বিতরণ করা হয়েছে। অর্থাৎ এজেন্ট ব্যাংকিং পল্লী অঞ্চলে কম জনবল ও ছোট্ট কক্ষে আর্থিক কার্যক্রম করলেও পুরোপুরি ব্যাংকিং কার্যক্রম করে থাকে। সে ক্ষেত্রে প্রতিটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মোট ঋণের ২ শতাংশ কৃষিঋণ বিতরণের বাধ্যবাধকতা থাকায় স্ব স্ব ব্যাংকের এজেন্ট বুথের মাধ্যমে কৃষিঋণ বিতরণ করতে পারে; বর্তমান যা এনজিওর মাধ্যমে বিতরণ করছে এবং যার সুদ হার ২২ থেকে ২৭ শতাংশ। এজেন্ট বুথের মাধ্যমে বিতরণে করলে সুদহার নেমে আসবে ১০ শতাংশের নিচে।