অভ্যন্তরীণ বিলের ঋণে নির্বাচনী ধাক্কা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

অভ্যন্তরীণ বিলের ঋণে নির্বাচনী ধাক্কা

জাফর আহমদ ১০:২৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৮

print
অভ্যন্তরীণ বিলের ঋণে নির্বাচনী ধাক্কা

আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে আমদানি ও অভ্যন্তরীণ বিলে ঋণ বিতরণ। ব্যাংকসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংসদ নির্বাচন সন্নিকটে হওয়ায় ব্যাংক ও ব্যবসায়ীরা ‘ধীরে চলো নীতি’ অনুসরণ করার কারণে বিলে ঋণ বিতরণ কমেছে। নির্বাচন হওয়ার পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলে আবার অভ্যন্তরীণ বিলে অর্থায়ন বাড়বে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, জুলাই শেষে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ দশমিক শূন্য ২৩ শতাংশ। এর মধ্যে বিনিয়োগে বেড়েছে ৪ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ এবং অ্যাডভান্স বেড়েছে ১৭ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। কিন্তু ৬ দশমিক ৩২ শতাংশ কমে গেছে আমদানি ও অভ্যন্তরীণ বিলে ঋণ বিতরণ।
বিলে সাধারণ দুই ধরনের ঋণ দেওয়া হয়। এগুলো হলো আমদানিতে ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে  এবং রপ্তানির জন্য মাস্টার এলসির অধীনে দেওয়া ঋণ। যখন কোনো পণ্য আমদানির জন্য এলসি খোলা হয় তখন ওই আমদানি পণ্যের বিপরীতে ঋণ দেয় ব্যাংকগুলো। অন্যদিকে ইনল্যান্ড বিল হলো রপ্তানি কার্যাদেশের মাস্টার এলসির অধীনে পণ্য সংগ্রহের জন্য যখন স্থানীয়ভাবে ঋণ দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে ঋণের ভিত্তি হয়ে থাকে রপ্তানির বিপরীতে খোলা এলসি বা ঋণপত্র। ২০১৮ সালের জুলাই পর্যন্ত এক বছর আগের এ ধরনের বিলের বিপরীতে ঋণ প্রদান কমছে ৬ দশমিক ৩২ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জুলাই পর্যন্ত এক বছরে বিলে ঋণ দেওয়া হয়েছে ২ লাখ ৭২ হাজার ৫৮৫ মিলিয়ন ডলার। আগের বছর একই সময়ে বিলে ব্যাংকগুলো ঋণ দিয়েছিল ২ লাখ ৯০ হাজার ৯৭৪ মিলিয়ন ডলার। এডভান্স বেড়েছে ১৭ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে এডভান্স ঋণ দেওয়া হয়েছে ৮৭ লাখ ৩১ হাজার ৮০৪ মিলিয়ন ডলার। আগের বছরের এই সময়ে দেওয়া হয়েছিল ৭৪ লাখ ৫৭ হাজার ৪০১ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে ব্যাংকগুলোর চলতি বছরের জুলাই মাসে বিনিয়োগ হয়েছে ১৭ লাখ ৬৬ হাজার ৬৫০ মিলিয়ন ডলার। আগের বছরের একই সময়ে বিনিয়োগ ছিল ১৬ লাখ ৯৭ হাজার ৩৯৫ মিলিয়ন ডলার। ব্যাংকগুলোর এডভ্যান্স ও বিনিয়োগে ঋণ অর্থায়ন বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে বেসরকারি খাতে অর্থের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এমনটা হয়েছে বলে মনে করছেন ব্যাংক নির্বাহীরা। পাশাপাশি সামনে নির্বাচন ও এলসি খোলার ক্ষেত্রে নজরদারি বৃদ্ধির কারণে আমদানি ও অভ্যন্তরীণ বিলে অপ্রয়োজনীয় ঋণের পরিমাণ কমেছে। পাশাপাশি হলমার্ক কেলেঙ্কারির পর ব্যাংকগুলো সতর্ক হয়েছে। এ কারণেও বিলের ক্ষেত্রে ঋণের পরিমাণ কিছুটা কমেছে বলে মনে করেন কেউ কেউ।
অন্যদিকে আমানত বেড়েছে ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে ব্যাংকগুলো আমানত সংগ্রহ করেছে ৯৬ লাখ ৭৬ হাজার ২৬৯ মিলিয়ন ডলার। আর আগের বছরের একই সময়ে ব্যাংকগুলো আমানত সংগ্রহ করেছিল ৮৮ লাখ ২৬ হাজার ৬৯০ মিলিয়ন ডলার। মেয়াদি আমানত বেড়েছে ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং আমানতের অন্য ক্ষেত্রে বেড়েছে ৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ।