জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ : এডিবি

ঢাকা, বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৮ | ৯ কার্তিক ১৪২৫

জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ : এডিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক ৯:১৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৮

print
জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ : এডিবি

চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মোট বাংলাদেশের দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)।


বাংলাদেশের অর্থনীতির চালচিত্র নিয়ে প্রকাশিত এডিবির ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক ২০১৮’ শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদনে প্রবৃদ্ধির এই পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এডিবির নিজস্ব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার ঢাকা অফিসের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ সন চ্যাং হং প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশও উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছর রফতানির অবস্থা স্থিতিশীল থাকবে, তবে আমদানির গতি কিছুটা ধীর হবে। এছাড়া, শিল্পখাতে প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বাড়বে এবং স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি বজায় থাকবে।

সন চ্যাং হং বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির ধারাবাহিক অগ্রগতি হচ্ছে। জিডিপি গ্রোথ ২০১৪ সালে ছিল ৬ দশমিক ১ শতাংশ, ২০১৫ সালে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৭ দশমিক ২৮ ২০১৭ সালে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ২০১৮ সালে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, গত দুই অর্থবছরে ৭ শতাংশ ছাড়ানো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পর চলতি অর্থবছরের বাজেটে বাংলাদেশ সরকার ৭ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ঠিক করেছে। প্রায় এক দশক ৬ শতাংশের বৃত্তে ‘আটকে’ থাকার পর গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রথমবারের মত ৭ শতাংশের ‘ঘর’ অতিক্রম করে।

অনুষ্ঠানে মনমোহন প্রকাশ বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশের মানুষ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য মুখিয়ে আছে। আশা করা যায় সব দলের অংশগ্রহণে একটা ভালো নির্বাচন হবে। আর এটা হলে নির্বাচন দেশের চলমান উন্নয়নে প্রভাব ফেলবে না।

তিনি বলেন, গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।এর আগে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৭ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি পেতে পারে বলে আমরা মনে করছি।

মনমোহন প্রকাশ বলেন, যেভাবে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ছে সেভাবে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়েনি। শক্তিশালি অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।

এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর বলেন, এ দেশের অর্থনীতি ক্রমান্বয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তৈরি পোশাক শিল্পে বাংলাদেশ খুব ভালো করছে। আইটি শিল্প, চামড়া শিল্প সম্ভবনাময় খাত। এসব সেক্টরে উন্নয়ন করে বাণিজ্য সুবিধা নিতে পারে বাংলাদেশ। আর এর জন্য সরকারকে অবকাঠামো উন্নয়নে আরও জোর দিতে হবে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- এডিবির টিম লিডার অ্যান্ড এক্সটারনাল রিলেশনস গোবিন্দ বার, প্রিন্সিপাল কান্ট্রি স্পেশালিস্ট জয়তসানা ভার্মা প্রমুখ।

 
.