নারী উদ্যোক্তার অভাবে অব্যবহৃত তহবিল

ঢাকা, বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৮ | ৯ কার্তিক ১৪২৫

নারী উদ্যোক্তার অভাবে অব্যবহৃত তহবিল

জাফর আহমদ ১০:৩৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৮

print
নারী উদ্যোক্তার অভাবে অব্যবহৃত তহবিল

নানা উদ্যোগের পরও নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে কাক্সিক্ষত ফল আসছে না। উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে আসছে না নারীরা। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ও কম সুদের ঋণ দেওয়ার লক্ষ্যে তহবিল গঠন করা হলেও অব্যবহৃত পড়ে থাকছে সে তহবিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী এসএমই খাতে বিতরণ করা মোট ঋণের ১০ ভাগ নারী উদ্যোক্তাদের দেওয়ার কথা থাকলেও নারী উদ্যোক্তারা এগিয়ে না আসায় ঋণ বিতরণের লক্ষ্য পূরণ করা যাচ্ছে না বলেই জানাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী মোট বিতরণ করা ঋণের মাত্র ৩ শতাংশ বিতরণ করা হয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বলছে বিতরণ করার জন্য নারী উদ্যোক্তা না পাওয়া যাচ্ছে না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের নারীর উদ্যোক্তা তৈরির এ উদ্যোগ অনেকটা শুধু কাগজ-কলমেই রয়েছে বলে মনে করেন এফবিসিসিআই-এর পরিচালক শারিতা মিল্লাত। পাশাপাশি নারীদের সচেতনতার অভাবও নারী উদ্যেক্তা তৈরির পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। খোলা কাগজকে তিনি বলেন, ‘ব্যাংকিং ঋণ ব্যবস্থা অনেকটা দালালনির্ভর হওয়ার কারণে নারীর উদ্যোক্তারা ব্যাংকে গিয়ে সুবিধা করতে পারছে না। তা ছাড়া ব্যাংকগুলোও জামানত ও পুরুষ প্রতিনিধি দেখতে চেয়ে নারী উদ্যোক্তাদের ভয় পাইয়ে দেয়।’   
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নারীর উদ্যোক্তাবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা খোলা কাগজকে বলেন, ‘মূলত সামাজিক প্রতিবন্ধকতা, পারিবারিক সহায়তা না পাওয়া, ব্যবসা বাণিজ্য শুরু করার ক্ষেত্রে জামানত বা ব্যক্তি জিম্মাদার না পাওয়া এবং উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে না পারার কারণে আশাব্যঞ্জক নারী উদ্যোক্তা এগিয়ে আসছে না। এ জন্য সামাজিক প্রচারণার দরকার। তাহলে নারী উদ্যোক্তা তৈরি হওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা দূর হবে এবং নারী উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসতে পারবে।’
নারীদের উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৪ সালে এক বিশেষ নির্দেশনা জারি করে। নির্দেশনা অনুযায়ী বাণিজ্যিক ব্যাংকের সব শাখায় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একটি ডেস্ক থাকতে হবে। সেখানে নারী উদ্যোক্তাই দায়িত্ব পালন করবেন। যাতে কোনো নারী উদ্যোক্তা কোনো ব্যাংকিং কার্যক্রম করতে এসে বিব্রতবোধ না করে সহজে কথা বলতে পারেন।  
নারীর উদ্যোক্তাদের জন্য সুদ হার বেঁধে দেওয়া হয় সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ। কোনো নারী ইচ্ছা করলে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনা জামানতে ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। নারী উদ্যোক্তার ক্ষেত্রে শুধু ওই অর্থের কেউ একজন জামিনদার হলেই চলবে। পুরুষের ক্ষেত্রে জামানত ছাড়া ঋণের পরিমাণ ১০ লাখ টাকা। নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা বাণিজ্যে এগিয়ে আসার জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকেও পুনঃঅর্থায়নের মাধ্যমে তহবিল সরবারহ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিলের পরিমাণ সাড়ে ৮০০ কোটি টাকা। শুরুতে এ তহবিলের পরিমাণ ছিল ১০০ কোটি টাকা। ২০১৪ সালে এ তহবিল গঠন করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আগ্রহও কম। ঋণ বিতরণের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল গঠন করে রাখলেও কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
নারী উদ্যোক্তা শারিতা মিল্লাত বলেন, ‘নারীদের ব্যবসা বাণিজ্যে এগিয়ে আনতে হলে বাণিজ্যক ব্যাংকগুলোকে আরও বাস্তবনির্ভর হতে হবে। পাশাপাশি এগিয়ে আসার ক্ষেত্রে নিজেদের উদ্যোগী হতে হবে। নারী কি ধরনের ঋণ নেবে সেটা যদি ব্যাংকে সাহস ও সচেনতনার সঙ্গে বলতে পারে তাহলে ব্যাংকও ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে দালালের কাছে না পাঠিয়ে নিজেরাই ঋণ দিতে বাধ্য  হবে। তিনি বলেন, উদ্যোক্তা হিসেবে সফলতা নির্ভর করবে পুরো সমাজে নারীর এগিয়ে আসার ওপর।’

 
.