লাগামহীন তেলের দাম

ঢাকা, রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭

লাগামহীন তেলের দাম

তুষার আহসান ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০২১

print
লাগামহীন তেলের দাম

ভোজ্যতেলের ৯০ শতাংশই আমদানি করতে হয় বলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়ে দেশে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশে গত তিন মাস আগের তুলনায় ভোজ্যতেলের মূল্য বেড়েছে ৪০ শতাংশ। সাম্প্রতিক ভোজ্যতেলের এত মূল্যবৃদ্ধি আগে ঘটেনি। এতে নাভিশ্বাস উঠেছে নিম্ন আয়ের মানুষের। জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে ভোজ্যতেলের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণে মনোনিবেশ করেছে সরকার। দেশের বাজারে মূল্য নির্ধারণে একটি কমিটি করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। দ্রব্যমূল্য মনিটরিং সেলের সপ্তাহিক বৈঠকে তেলের দাম কেমন হওয়া উচিত, সেটা নিয়ে হয়েছে আলোচনা। আমদানিকারকদের সঙ্গে হয়েছে মতবিনিময়। ভোজ্যতেল আমদানিতে এক স্তরে ডিউটি ফিরিয়ে আনতে এনবিআরকে চিঠি দিলেও আসেনি উত্তর। ফের চিঠি দিতে নেওয়া হয়েছে উদ্যোগ। গতকাল রোববার মন্ত্রণালয়ে দ্রব্যমূল্য মনিটরিং সেলের সাপ্তাহিক বৈঠক শেষে এসব তথ্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন খোদ বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

দেশের বাজারে এখন প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৩০ টাকা, যা তিন মাস আগে ছিল ৯০ টাকা। প্রতি লিটার ৯৫ টাকার সয়াবিন তেল এখন বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকায়। বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভোজ্যতেল ৯০ শতাংশ আমদানি করতে হয়। যখন আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যায়, সেটার প্রভাব পড়ে। জুলাই মাসে প্রতি টন ৭০০ ডলার ছিল, সেটা ১১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে, মাঝখানে ১১৯০ ডলারও হয়েছিল। তার মানে অলমোস্ট ৭৫ শতাংশের ওপরে দাম বেড়েছে। আমাদের দেশেও তার দামের প্রভাব পড়েছে।’

মন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে কী দাম হওয়া উচিত সেটা নিয়েই আলোচনা হয়েছে। বৈঠকের রেজাল্ট হলো, কী প্রাইস হলে যৌক্তিক হয়, তার একটা ওয়েআউট করব। দেশীয় বাজার ও আন্তর্জাতিক বাজারের মধ্যে নজরদারি রাখার জন্য একটা কমিটি করা হয়েছে। ট্যারিফ কমিশন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে একটা চুলচেরা বিশ্লেষণ করার জন্য একটা কমিটি করার সিদ্ধান্ত এই মিটিং থেকে আমরা নিয়েছি।’

ভোজ্যতেল আমদানিতে আগে এক স্তরে ডিউটি থাকলেও চলতি অর্থবছরে সেটা চার স্তর করা হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে জানান। হয়রানি ও ঝামেলা এড়ানোর জন্য ডিউটি আবার এক স্তরে নিয়ে আসতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানান ব্যবসায়ীরা। মন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা বলেছেন, যে চার স্তরে ডিউটিটা নেওয়া হয় সেটা এক জায়গায় হলেই তাদের জন্য সুবিধা হয়। সেটার ব্যাপারে আমরা এনবিআরকে চিঠি দিয়েছি, উত্তর আসেনি। এখন আবার চিঠি দেব।’

সারা বছর বাজারে ৭০ থেকে ৭২ শতাংশ খোলা ভোজ্যতেল আর বাকিটা প্যাকেটজাত তেল বিক্রি হয় বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়। তেলের মান ও সরবরাহ ব্যবস্থা শৃঙ্খলায় রাখতে আরও বেশি পরিমাণ বোতলজাত তেল বাজারজাত করার চেষ্টা চলছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আরও বেশি বোতলজাত করা গেলে দামের হেরফের কম হবে। শুধু দামের জন্য না, কোয়ালিটির জন্যও বোতলজাত হওয়া জরুরি। শিল্প মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে চেষ্টা করছে। এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে এটা একটা পর্যায়ে নিয়ে আসা হবে। ৭০ শতাংশ যেন বোতলজাত করা যায়। নকল মাল থেকেও মানুষ রেহাই পাবে।’

বৈঠকে ব্যবসায়ীরা মন্ত্রীকে জানান, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল কেনার পর তা ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাতে তিন মাস সময় লেগে যায়। দাম নির্ধারণে এই সময়কে বিবেচনায় নিতে হয়।