এনআইডির অধীনে বিক্রি হবে জাতীয় সঞ্চয়পত্র

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২ মার্চ ২০২১ | ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭

এনআইডির অধীনে বিক্রি হবে জাতীয় সঞ্চয়পত্র

জাফর আহমদ ৯:১৭ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২১

print
এনআইডির অধীনে বিক্রি হবে জাতীয় সঞ্চয়পত্র

সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে নতুন নিয়ম আসছে। এ ব্যাপারে প্রাক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চলতি বছরের মাঝামাঝি নতুন নিয়মে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হবে। নতুন নিয়মে এক এনআইডি-এর অধীনে সঞ্চয়পত্র বিক্রির যাবতীয় চিত্র পাওয়া যাবে; গ্রাহকের বিক্রি করা সব সঞ্চয়পত্রে কর সনদ দেওয়া হবে একটি মাত্র কাগজে। আর এনবিআর আগের মতোই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সঞ্চয়পত্র বিক্রির মুনাফা থেকে আয়কর কেটে নেবে।

প্রচলিত ব্যবস্থায় জাতীয় সঞ্চয়পত্র বিক্রির মুনাফা থেকে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আয়কর কেটে নেওয়া হয়। এবং গ্রাহককে কর সনদ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে গ্রাহক যতবার এবং যত জায়গা থেকে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করুক তার অর্জিত আয় থেকে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আয়কর কেটে নেওয়া হয় এবং সনদ দেওয়া হয়। নতুন পদ্ধতি কার্যকর হলে যে যেখানে এবং যতবার সঞ্চয়পত্র কিনুক তা তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বরের বিপরীতে জমা হবে। এবং এক এনআইডি-কার্ডের বিপরীতে তাকে সনদ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে গ্রাহককে যেমন সনদের জন্য বিভিন্ন জায়গায় যেতে হবে না, অন্যদিকে রাজস্ব বোর্ডও স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক আইডির বিপরীতে আয়কর পেয়ে যাবে। জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদফতরের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আগামী আয়কর বছরের আগে এ কার্যক্রম শুরু হবে। এ কার্যক্রম হবে পাইলট ভিত্তিতে এবং অনলাইনের আওতায় সঞ্চয়পত্র বিক্রির কেন্দ্রসমূহে এ কার্যক্রম চালু হবে। প্রকল্পের অনলাইন কাঠামো করার কার্যক্রম চলছে, জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদফতর থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও পরামর্শও দিয়ে পাঠিয়েছে।

সম্প্রতি এ সম্পর্কিত এক বৈঠকের কার্য বিবরণী অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। কার্য বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে উৎসে কর সনদপত্র সংগ্রহ করার জন্য একজন সঞ্চয়পত্র গ্রাহককে সঞ্চয় অফিস আবেদনপত্র দাখিল থেকে শুরু করে তিন দিন যাতায়াত করতে হয়। এবং যাতায়াত বাবদ আনুমানিক ৫০০ টাকা ব্যয় করতে হয়। আবেদনপত্রটি ছয়টি ধাপে অফিসিয়াল ফরমালিটিজ শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষরসহ সংগ্রহ করা গ্রাহকের জন্য ঝামেলাপূর্ণ এবং সময় সাপেক্ষ। গত বছরের ১ জুলাই হতে অনলাইন সিস্টেমে সঞ্চয়পত্র বিক্রয় কার্যক্রম চালু হওয়ার পর ট্র্যাকিং নম্বর অথবা রেজিস্ট্রেশন নম্বরের ভিত্তিতে উৎসে কর সনদ প্রদান করা হচ্ছে। যদি একজন গ্রাহকের ৫টি সঞ্চয়পত্র থাকে তাহলে তাকে পাঁচটি উৎসে কর সনদপত্র গ্রহণ করতে হয়; এটি সঞ্চয়পত্র গ্রাহকের জন্য ঝামেলাপূর্ণ। প্রস্তাবিত জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে গ্রাহককে একদিন যে কোনো ইস্যু অফিসে আসতে হবে। এবং সেদিনই উৎসে কর সনদপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। এতে গ্রাহকের সময় ও অর্থ দুই-ই সাশ্রয় হবে। সুতরাং এ পদ্ধতিতে প্রদত্ত সেবা গ্রাহকবান্ধব হবে।