তেল নিয়ে তেলেসমাতি

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৯ মার্চ ২০২১ | ২৪ ফাল্গুন ১৪২৭

তেল নিয়ে তেলেসমাতি

নিজস্ব প্রতিবেদক ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৭, ২০২১

print
তেল নিয়ে তেলেসমাতি

খোলাবাজারে ভোজ্যতেল সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে দফায় দফায়। বোতলজাত তেলের তুলনায় খোলা তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খুচরা বিক্রেতা ফেঁদেছেন নতুন কায়দা। বোতল কেটে বিক্রি করছেন সেই তেল। কোনো কোনো ব্যবসায়ী খোলা সয়াবিন তেলের সঙ্গে বোতলের তেল মিশিয়ে বিক্রি করছেন বলেও রয়েছে অভিযোগ। এদিকে তেলের ঊর্ধ্বমুখী দামে অতীষ্ঠ নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ। তেলের দামে লাগাম টানতে সরকারি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।

খুচরা ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৩৫ টাকায়। প্রতি কেজি পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে ১১৫-১২০ টাকায়। ৫ লিটার মাপের বোতলের সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৫৬০-৬০০ টাকায়। আর ১ লিটার বোতলের সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায়।

বোতলের তুলনায় খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেশি হারে বৃদ্ধির তথ্য উঠে এসেছে সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) প্রতিবেদনেও। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে লুজ সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ৫ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। বোতলের ৫ লিটার সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৬৮ শতাংশ। লুজ পাম অয়েলের দাম বেড়েছে ৫ দশমিক ২১ শতাংশ এবং সুপার পাম অয়েলের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ।

সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, মাসের ব্যবধানে লুজ সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ২৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ। বোতলের ৫ লিটার সয়াবিন তেলের দাম মাসের ব্যবধানে ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং বছরের ব্যবধানে ১৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ বেড়েছে। লুজ পাম অয়েলের দাম মাসের ব্যবধানে ১০ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং বছরের ব্যবধানে ২৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেড়েছে।

তেলের দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আজিমপুরের বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, ‘বাজারে কোনো কিছুর নিয়ন্ত্রণ নেই। যার যা খুশি তাই করছে। ব্যবসায়ীরা একেক সময় একেক পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।’ মালিবাগের বই ব্যবসায়ী শফিক সাইফুল্লাহ বলেন, ‘নজরদারি বাড়ানো উচিত বলে আমি মনে করি। এক দিকে করোনায় মানুষের জীবন অতীষ্ঠ। ব্যবসা আগের মতো নেই। এর মধ্যে একেকবার একেক পণ্যের দাম বাড়ছে। এতে জনজীবন অতীষ্ঠ হয়ে উঠেছে।’ মালিবাগ বাজারের ক্রেতা আজগর আলী বলেন, ‘এক কেজি সয়াবিন তেলের দাম ১৩০ টাকা নিয়েছে। কেজি ৫০০ টাকা হলেও আমাদের কিছু করার নেই। কারণ তেল ছাড়া তো রান্না করা সম্ভব না। তাই দাম যতই হোক তেল কিনতেই হবে।’

ভোজ্য তেলের দামের বিষয়ে মালিবাগ হাজী পাড়ার ব্যবসায়ী আশিক বলেন, ‘তেলের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে আমরাও অবাক। যে খোলা সয়াবিন তেল আমরা ৯০ টাকা কেজি বিক্রি করছিলাম, তা দেখতে দেখতে ১৩০ টাকা হয়ে গেছে। ৪৬০ টাকা বিক্রি করা বোতলের ৫ লিটার সয়াবিন তেল এখন কোম্পানি ভেদে ৫৬০-৬০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা হিসাব করে দেখেছি এখন খোলা সয়াবিন তেলের থেকে ৫ লিটারের বোতল কিনলে ক্রেতাদের খরচ কম পড়ে। কারণ ৫ লিটারের বোতলে সয়াবিল তেলে থাকে ৪ কেজি ৭০০ গ্রামের মতো। এতে প্রতি কেজি ১৩০ টাকা করে ধরলে ৫ লিটারের দাম আসে ৬১০ টাকা। কিছু কিছু কোম্পানির বোতলের সয়াবিন তেল এখন ৫৬০ থেকে ৫৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’ এক মুদি দোকানি বলেন, ‘দাম বেশি হলেও বোতলের থেকে খোলা সোয়াবিন তেলের চাহিদা বেশি। কারণ দাম বেশি হওয়ায় এখন বেশির ভাগ ক্রেতা আধাকেজি, এককেজি করে সয়াবিন তেল কিনছেন। ক্রেতাদের চাহির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমরাও প্রতিদিন ১০-১২টি ৫ লিটারের বোতল কেটে খোলা সয়বিন হিসেবে বিক্রি করছি। এতে আমাদেরও লাভ বেশি হচ্ছে।’

যোগাযোগ করা হলে পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ গোলাম মাওলা বলেন, ‘বিশ^বাজারে দাম বাড়ার কারণে আমাদের বাজারেও সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে। তাছাড়া আমাদের তেলের বাজার ৫-৭টি প্রতিষ্ঠানের হাতে জিম্মি। তারা দাম বাড়ালে আমরা দাম বাড়াতে বাধ্য হই।’ তিনি আরও বলেন, ‘পাইকারিতে এখন সয়াবিন তেলের দাম কিছুটা কমেছে। আমরা ১০২ টাকা কেজি বিক্রি করছি। এই দামে তেল কিনে খুচরা ব্যবসায়ীরা ১৩০ টাকা কেজি বিক্রি করলে তা কিছুতেই স্বাভাবিক না। খুচরা ব্যবসায়ীর সমস্ত খরচ ও লাভ যোগ করেও সয়াবিন তেলের কেজি ১১৫ টাকার মধ্যে থাকা উচিত।’