করোনার নতুন ঢেউয়ের আঘাত রপ্তানি খাতে

ঢাকা, শনিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২১ | ২ মাঘ ১৪২৭

করোনার নতুন ঢেউয়ের আঘাত রপ্তানি খাতে

জাফর আহমদ ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৪, ২০২০

print
করোনার নতুন ঢেউয়ের আঘাত রপ্তানি খাতে

করোনাভাইরাসের নতুন বা দ্বিতীয় ঢেউয়ের আঘাত দেশের রপ্তানি খাতে স্পষ্ট হচ্ছে। চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিল মাসে করোনার যে আঘাত লেগেছিল রপ্তানি খাতে তা দুই মাসের মধ্যে কাটতে শুরু করে। কিন্তু ইউরোপে করোনা নতুন করে থাবা মেলার সঙ্গে সঙ্গে দেশের রপ্তানিতে প্রভাব পড়ে। নভেম্বর মাসের রপ্তানি আয়ে করোনার ক্ষত আরও গভীর হয়।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় তিন শতাংশ প্রবৃদ্ধি দিয়ে রপ্তানি শুরু হয়। সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ইউরোপ-আমেরিকায় করোনা নতুন করে আঘাত শুরু করে। অক্টোবর মাসেই তার ঢেউ বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে এসে লাগে। নভেম্বর মাসে প্রবৃদ্ধি এক শতাংশের নীচে নেমে যায়।

হিমায়িত চিংড়ি, কৃষিজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্যসহ সব পণ্যে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আঘাত লেগেছে।

দেশের প্রধান রপ্তানিপণ্য হলো তৈরি পোশাক। মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ ভাগ আসে তৈরি পোশাক রপ্তানি করে। তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় কমে গেলে মোট রপ্তানি আয় কমে যায়। জুলাই-সেপ্টেম্বর মাসে রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ছিল। নভেম্বর মাসে নেমে আসে প্রায় দুই শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে। একই সঙ্গে লক্ষ্যমাত্রা থেকে তিন দশমিক ১১ শতাংশ পিছিয়ে যায়। অথচ জুলাই-আগস্ট মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দুই দশমিক ১০ শতাংশ বেশি রপ্তানি হয়েছিল। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-নভেম্বর পাঁচ মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ১২ দশমিক ৮৯৫ বিলিয়ন ডলার। যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে এক দশমিক ৪৮ শতাংশ কম। জুলাই-সেপ্টেম্বর দুই মাসে রপ্তানি আয় হয়েছিল আট দশমিক ১২৬ বিলিয়ন ডলার। যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় এক শতাংশ বেশি। ইউরোপ-আমেরিকায় করোনার আঘাত যত বেশি হয়েছে, মানুষের কেনাকাটা তত কমেছে। আর বাংলাদেশের রপ্তানিতে তত আঘাত লেগেছে।

এ বিষয়ে এফবিসিসিআই-এর সহসভাপতি, তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশ নতুন করে আবার লকডাউনে যাচ্ছে। শোরুম-আউটলেট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মানুষ ঘরের বাইরে বের হতে না পারার কারণে পোশাক বিক্রি কমে যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে তৈরি পোশাক রপ্তানি আয়ে। এমনিতেই গ্রীষ্মকাল শুরুর দিকে তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ কমে যায়। করোনার কারণে এবার ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার হার বেড়ে গেছে, যদি করোনার এই আঘাত আরও প্রলম্বিত হয়; ভ্যাকসিন জানুয়ারির মধ্যে বাজারে না আসে তাহলে রপ্তানি আয় আরও কমে যাবে।

করোনার আঘাতে তৈরি পোশাক কারখানা নতুন করে বন্ধ ও লে-অফ শুরু হয়েছে। আশুলিয়ায় এ সপ্তাহে পাঁচটি কারখানা বন্ধ ও লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছে। বন্ধ ও লে-অফ হওয়া কারখানাগুলো হলো সিগমা ফ্যাশনস লিমিটেড, ন্যাচারাল সোয়েটার লিমিটেড, পুর্বা সোয়েটার লিমিটেড ও মদিনাপেল ফ্যাশনস ক্রাফট লি.। এছাড়া নিউ আইডিএস সোয়েটার কারখানার একটি সেকশন লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মদিনাপেল ফ্যাশনস ক্রাফটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আ. মতিন খোলা কাগজকে বলেন, মাসাধিক কাল থেকে কারখানায় কাজ নেই। শ্রমিকদের বসিয়ে রেখে বেতন দেওয়া হচ্ছিল। এতে আমাদের কষ্ট হচ্ছিল। তাই দেড় মাসের জন্য কারখানা লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছে। আবার নতুন করে ক্রয়াদেশ এলে কারখানা চালু করা হবে। যদি ক্রয়াদেশ বৃদ্ধি না পায় তাহলে গ্রুপের অন্যান্য কারখানাও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

তৈরি পোশাক রপ্তানি হ্রাসের এই নেতিবাচক ধারা আগামী জানুয়ারি মাস পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা করছেন এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি) ও নীট তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক সমিতির সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তিনি খোলা কাগজকে বলেন, ‘নেতিবাচক ধারা শুধু তৈরি পোশাকেই নয়, আমাদের অন্যান্য পণ্য রপ্তানিতে অব্যাহত থাকবে। লকডাউনের কারণে বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠান প্রাইমার্ক বেশির ভাগ আউটলেট বন্ধ রেখেছে। এ অবস্থা অন্যান্য ক্রেতার ক্ষেত্রেও। তবে আমরা যোগাযোগ রাখছি। ইউরোপ-আমেরিকার পরিস্থিতির উন্নতি হলে আমরা আবার ক্রয়াদেশ পাব। বাড়তি ক্রয়াদেশ পাব এবং রপ্তানিও বাড়বে।’