বড় প্রতিষ্ঠানের দখলে করোনা প্রণোদনা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২১ | ৫ মাঘ ১৪২৭

বড় প্রতিষ্ঠানের দখলে করোনা প্রণোদনা

জাফর আহমদ ৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৩০, ২০২০

print
বড় প্রতিষ্ঠানের দখলে করোনা প্রণোদনা

মহামারী করোনাতে দেশের সব শিল্পের ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি সামাল দিতে সরকার প্রণোদনাও ঘোষণা করার পাশাপাশি তা বিতরণও হয়েছে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে প্রায় সাত মাস অতিবাহিত হয়েছে। এর মধ্যে কৃষি, এসএমই ও স্বকর্মসংস্থানের মতো ছোট ছোট উদ্যোগের জন্য প্রণোদনা বিতরণের হার অর্ধেকের নিচে থাকলেও শিল্পে বিতরণের হার ৯০ শতাংশের বেশি বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু প্রণোদনার সিংহভাগ অংশই বড় প্রতিষ্ঠানগুলো পেয়েছে। তুলনামূলক ক্ষুদ্র সংস্থাগুলো সে হিসেবে প্রণোদনা সুবিধার বাইরে থেকে গেছে।

করোনায় সৃষ্ট অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট মোকাবিলায় সরকার ১ লাখ ১১ হাজার ১৩৭ কোটি টাকার ২০টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। এর মধ্যে ৮৫ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা দেওয়ার কথা ঋণ আকারে ব্যাংকিং চ্যানেলে। এর মধ্যে রয়েছে শিল্প খাতের জন্য ৩৩ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে এসএমই, কৃষি ও ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প। চলতি নভেম্বর মাসের ২৫ তারিখ পর্যন্ত ২৯ হাজার ৭৪৭ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে। যা বরাদ্দকৃত ঋণের ৯০ দশমিক ১৪ শতাংশ। দুই হাজার ৭১৬ জন গ্রাহকের মাছে এ ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। অন্যদিংংক কৃষি খাতের জন্য বরাদ্দকৃত পাঁচ হাজার কোটি টাকার মধ্যে বিতরণের হার ৫০ শতাংশের নিচে। এমএমই খাতের জন্য বরাদ্দকৃত ২০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে বিতরণের হার ৪০ শতাংশ অতিক্রম করেছে মাত্র।

প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শিল্প ও সেবা খাতের বড় গ্রাহকদের জন্য ৩৩ হাজার কোটি টাকার মধ্যে বিতরণ হয়েছে ২৯ হাজার ৭৪৭ কোটি টাকা। যা মোট বরাদ্দকৃত ঋণের ৯০ দশমিক ১৪ শতাংশ। দুই হাজার ৭১৬ জন গ্রাহককে এ ঋণ দেওয়া হয়। বড় ঋণের বড় বড় শিল্পকে বিতরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে এক হাজার কোটি টাকা; বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিকে ১১৫ কোটি টাকা, সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ ৫০ কোটি; আবুল খায়ের স্টিল ৩৫ কোটি টাকাসহ বেশ কিছু পরিচিত নাম রয়েছে।

এসএমই খাতের এই প্রণোদনা বিতরণের খারাপ অবস্থা ব্যবস্থাপনার ত্রুটির কারণে হয়ে থাকে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ইব্রাহিম খালেদ। তিনি দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, ছোট্ট ঋণের ব্যবস্থাপনা খরচ বেশি। একশ কোটি টাকা বিতরণ করতে বড় গ্রাহক একজনই যথেষ্ট। কিন্তু এসএমই খাতে একশ কোটি টাকা বিতরণ করতে হলে কমপক্ষে ১০০ জন গ্রাহককে ঋণ দিতে হবে। এতে ব্যবস্থাপনা খরচ বেশি পড়ে। এ কারণে ব্যাংকগুলো ছোট্ট ঋণ বিতরণে উৎসাহ দেখায় না। এ ছাড়া এসএমই খাতের উদ্যোক্তারা ব্যাংকে প্রভাব বিস্তার করতে পারেন না। প্রণোদনা বিস্তারের ক্ষেত্রেও একই প্রভাব পড়েছে।

চলমান করোনার অভিঘাত মোকাবিলায় বড় শিল্পের ন্যায় ছোট্ট, মাঝারি ও বড় শিল্পেরও ক্ষতি হয়েছে। এসএমইএ-এর কারণে ছোট্ট ছোট্ট ও স্বকর্মস্থানের মত অনেক উদ্যোগ বন্ধ হয়ে অনেক মানুষ কর্ম হারিয়েছে। করোনার অভিঘাত মোকাবেলা করে এ সব মানুষের কর্মসৃজনে সরকার প্রনোদনা ঘোষণা করেছে। কিন্তু এ সব মানুষের কাছে ঋণে পৌঁছাচ্ছে না। সাবেক ডেপুটি গভর্নর ইব্রাহিম খালেদ বলেন, এ সব মানুষের কাছে ঋণ পৌছাতে হলে এসএমই ফাউন্ডেশন বিসিককে উদ্যোগ নিতে হবে। তবেই এসএমই খাতের ঋণ বিতরণ করা সম্ভব হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসিবে বড় শিল্পের একটির সঙ্গে এসএমই খাতের একটি করে শিল্প যুক্ত করে এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করতে পারে। যে শিল্প এসএমই খাতের একটি উদ্যোগকে এগিয়ে নেবে।