স্বস্তি নেই নিত্যপণ্যের দামে

ঢাকা, শনিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২১ | ২ মাঘ ১৪২৭

স্বস্তি নেই নিত্যপণ্যের দামে

তোফাজ্জল হোসেন ৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৩, ২০২০

print
স্বস্তি নেই নিত্যপণ্যের দামে

সম্প্রতি চড়াদামে বিক্রি হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য। দিন দিন সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম। ফলে পরিবার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষকে। এ যেন ‘নুন আনতে পান্তা ফুরানো’র অবস্থা। পেঁয়াজের বাজার দুই মাস ধরে লাগামহীন। খুচরা বাজারে পণ্যটির দাম প্রতি কেজি সর্বোচ্চ ৯৫ টাকা, যা তিন মাস আগেও ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়, কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, পটল ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। প্রতি কেজি বেগুন ৫০ থেকে ৮০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, কচুর লতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ধন্দুল বিক্রি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, করলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, উস্তা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বাঁধাকপি প্রতি পিস ৪০ টাকা, কলা প্রতি হালি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, জালি কুমড়া প্রতি পিস ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১২০ টাকা এবং চিনি ৬২ থেকে ৬৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে বেড়েছে চালের দাম। সম্প্রতি মিলারদের সঙ্গে খাদ্যমন্ত্রীর বৈঠকের পরও চালের দাম কমেনি। বরং সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও বাড়তে শুরু করেছে। প্রতি কেজি মিনিকেট প্রকার ভেদে ৫৭ থেকে ৬০ টাকা, নাজিরশাইল ৫৫ থেকে ৫৮ টাকা, পোলাও চাল বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ৯৫ টাকায়। অন্যদিকে আটাশ চাল বিক্রি ৫২ থেকে ৫৩ টাকা, পাইজাম ৫০ থেকে ৫২ টাকা।

অন্যদিকে ময়দার বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ময়দার দাম কেজিতে ৩ টাকা বেড়েছে। ভোজ্যতেলের মধ্যে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ৯৮-১০০ টাকা। পাম অয়েল সুপার প্রতি লিটার বিক্রি হয়েছে ৯০-৯৪ টাকা। পাশাপাশি প্রতি কেজি বড় দানার মসুর ডাল ৮০-৮৫ টাকা, মাঝারি দানা ১০০-১০৫ ও ছোট দানা মসুর ডাল প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ১১৫-১২০ টাকা। এছাড়া প্রতি কেজি দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ টাকা, যা সাত দিন আগে ছিল ৪৫০ টাকা। প্রতি কেজি ধনে বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকা, যা সাত দিন আগে ছিল ১২০ টাকা। প্রতি কেজি তেজপাতা বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকা, যা সাত দিন আগে ছিল ১২০ টাকা।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর কাঁচা বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা এক ক্রতা বলেন, পেঁয়াজের দাম নিয়ে আমরা এমনিতেই কাবু হয়ে আছি। এর মধ্যে চালের দামও বেড়েছে। বাদ যায়নি সয়াবিন তেলও। বাড়তি দামের কারণে সবজিতে হাতই দেয়া যায় না। সবগুলো সবজির দামও চড়া। আমরা চাই বাজার তদারকি করে দাম কমানো হোক।
আরেক ক্রেতা বলেন, বাজারে প্রত্যেকটি নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে তাতে জীবনযাপন করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। একটি পণ্য কিনলে আরেকটি কেনার টাকা থাকছে না। মাস শেষে যে বেতন পাই তা দিয়ে সংসারের জরুরি খরচ বাদ দিয়ে খাবারের জন্য যে টাকা রাখা হয়, তা দিয়ে পুরো মাস চলতে পারছি না।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একদিকে আয় কমছে, অন্যদিকে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। এটা ভোক্তার জন্য কষ্টের, অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত। যদিও দাম বাড়ার কিছু যৌক্তিক কারণ রয়েছে। তবে কিছু মুনাফালোভী ব্যবসায়ীও এর জন্য দায়ী। বাজার ব্যবস্থার সব দায় শুধু বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর ছেড়ে দেওয়ায় পর্যবেক্ষণ কোনো কাজে আসছে না। বাজার তদারকিতে সব মন্ত্রণালয় নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করলে এ সংকট থাকত না।

করোনা মহামারী ও দীর্ঘস্থায়ী বন্যা আঘাত হেনেছে অসংখ্য মানুষের দৈনন্দিন আয়ে। বেকারত্ব ও দারিদ্র্য যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েই চলছে নিত্যপণ্যের দাম। আয় কমা ও ব্যয় বাড়ার এ ফাঁদে পড়ে নাভিশ্বাস উঠেছে দরিদ্র, অতি দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্তের জীবনে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্যনুযায়ী আগস্টে মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ, যা জুলাইয়ের থেকে শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ বেশি। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মূল্যস্ফীতির হার আরও বেশি হবে। এ সমস্যা সমাধানে এখন সবচেয়ে যেটা জরুরি তা হলো, বাজারে পণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি ও সরকারিভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এছাড়া করোনা সংকট মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন ও সহায়তা কর্মসূচিগুলো অব্যাহত রাখা জরুরি বলেও মনে করছেন তারা।