বিশ্বব্যাংকের পূর্বানুমোদন পেতে দেরি, প্রকল্প ব্যাহত

ঢাকা, বুধবার, ২ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

বিশ্বব্যাংকের পূর্বানুমোদন পেতে দেরি, প্রকল্প ব্যাহত

জাফর আহমদ ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৯, ২০২০

print
বিশ্বব্যাংকের পূর্বানুমোদন  পেতে দেরি, প্রকল্প ব্যাহত

বিশ্বব্যাংক বালাদেশের বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়ন করে থাকে। দেখে থাকে প্রকল্পের মান বাস্তবায়নকারী সংস্থার স্বচ্ছতা। আবার তাদের অবহেলার কারণে প্রকল্প প্রলম্বিত হচ্ছে। সহ অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান হিসাবে বিশ্বব্যাংকের পূর্বানুমোদনে দেরি হওয়ার কারণে এ অবস্থা তৈরি হচ্ছে। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি)- এর প্রকল্প মনিটরিংয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন ফিন্যান্সিং ফ্যাসিলিটি (আইপিএফএফ-সেকেন্ড) প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে এমন বিষয় উঠে আসে। স্টিয়ারিং কমিটি সিদ্ধান্ত নেয় অর্থ সচিব বিশ্ববাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টরের সাথে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করবেন।

স্টিয়ারিং কমিটির সভায় প্রকল্পের অর্থায়নের নানা বিষয় উঠে আসে। বৈঠকে জানানো হয়, ২০২০ সালে ১০০ মিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩৩ দশমিক ৩০ মিলিয়ন ডলার মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অর্থনৈতিক লিমিটেড-এর সাব প্রজেক্টে, ৪০ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করা হয়েছে কর্ণফুলি ড্রাই ডক প্রকল্পে।

এছাড়া বিআইএফএফএলস কর্তৃক দাখিলকৃত রটেক লিমিটেডে ২ দশমিক ১০ মিলিয়ন ডলার, টেকনাফ সোলার টেক এনার্জি লি. ১৭ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন ডলার; ৩৮ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার সামিট কম্যুনেকেশন লি. এর এনটিটিএন এক্সটেনশন প্রজেক্টে এবং ৩৮ দশমিক ৮২ মিলিয়ন ডলার সিরাজগঞ্জ ইকোনোমিক্স জোন লি.-এ। এই অর্থায়ন সংক্রান্ত তিনটি ফাইল আইআইএফসিতে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। অন-লেন্ডিং কম্পোনেন্ট এর অগ্রগতি উপস্থাপনকালে সভায় অবহিত করা হয়, দুটি প্রকল্পের মোট ৪৪ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রদান করা হয়েছে। ১০টি সাব প্রজেক্ট পাইপলাইনে রয়েছে। ২০২১ সালের জন্য ৮টি প্রজেক্টের মধ্যে একটির অর্থায়ন শিগগিরই শুরু হবে। সম্প্রতি জুম প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থসচিব আব্দুর রউফ তালুকদার।

মূলত পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি)- এর মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংক যুক্ত থাকে-ওই সব প্রকল্প ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন ফিন্যান্সিং ফ্যাসিলিটি (আইপিএফএফ-সেকেন্ড) মনিটরিং করে থাকে। এবং যে সব প্রজেক্ট বাস্তবায়ন হয়ে থাকে সেগুলো আইপিএফএফ-সেকেন্ড এর সাব প্রজেক্ট বলে বিবেচিত হয়। অবকাঠামো, বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট ইত্যাদি প্রকল্পে এ তহবিল বিতরণ হয়ে থাকে।

সভায় প্রকল্প ও সাব-প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে প্রকল্পের সহ-অর্থায়নকারী বিশ^ব্যাংকের পূর্ব অনুমতির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রকল্পের পরিচালক ও প্রজেক্ট স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ড. আবুল কালাম আজাদ সভায় জানান, প্রকল্প অনুমোদনের পর অর্থায়নের পূর্বানুমোদন প্রকল্পের পক্ষ থেকে বিশ্বব্যাংকে চিঠি পাঠানোর পর অনুমোদন দিতে বিশ্বব্যাংক অযথা কালক্ষেপণ করে। ১০ মাস থেকে ক্ষেত্র বিশেষে এক বছর দেরি করে ফেলে। পূর্বানুমোদন গ্রহণের বাধ্যবাধকতা থাকায় প্রকল্প বাস্তবায়নের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পূর্বানুমোদন গ্রহণ ব্যতিরেকে অগ্রসর হওয়া সম্ভব নয়। এর ফলে প্রকল্প প্রলম্বিত হয়।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বানুমোদনের দেরির বিষয়টি নিয়ে বিরক্ত হন অর্থ সচিব। তিনি নিজেও অবগত এবং কোন কোন প্রকল্পের ক্ষেত্রে এ ধরণের সমস্যা হয়েছে তাও আলোচনায় উঠে আসে। আবেদন পাঠানোর পর ফলো-আপ করার পরও অবস্থার উন্নতি হয় না। এর ফলে প্রকল্প ধীর গতির সাথে এর মান নিয়ে কথা উঠে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টরের সাথে আলোচনা করবেন বলে সভায় আশ্বস্ত করেন।