দেশে অর্থনীতি চাঙ্গা শিল্পায়নে ভাটা

ঢাকা, শনিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২০ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

দেশে অর্থনীতি চাঙ্গা শিল্পায়নে ভাটা

নিজস্ব প্রতিবেদক ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০২০

print
দেশে অর্থনীতি চাঙ্গা শিল্পায়নে ভাটা

দেশে বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ বাড়লেও নতুন শিল্পায়নে পড়েছে ভাটা। প্রয়োজনীয় মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতেও এলসি খোলা হচ্ছে না সেভাবে। নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে না ওঠায় কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রায় বন্ধ। আবার অনেক ক্ষুদ্র ও মধ্যম প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দিন দিন বাড়ছে বেকারের সংখ্যা। এদিকে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি চাঙা হলেও তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে তুলনামূলক আমদানি বাণিজ্য। করোনা মহামারীর আগে প্রতিমাসে পণ্য আমদানিতে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হলেও এখন তা তিন বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। এতে বিনিয়োগে বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্সের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে ডলার আসছে। এতে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি অনেকটাই চাঙা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, অর্থনীতির সূচক সচল হচ্ছে, শুধু আমদানিতে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে না। টানা কয়েক মাস ধরে আমদানিতে স্থবিরতা বিরাজ করছে।

গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে আমদানি হয়েছে এক হাজার ১৭৩ কোটি ৬০ লাখ ডলারের পণ্য, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম। আগের বছরের প্রথম তিন মাসে আমদানি হয়েছিল এক হাজার ৩২৫ কোটি ২০ লাখ ডলারের পণ্য।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে আমদানি ব্যয় কমেছে আগের বছরের সেপ্টেম্বরের চেয়ে ৭ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। আগস্টে আমদানি ব্যয় কমেছে ৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ। আর জুলাইতে কমেছে ১৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনের জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সব মিলিয়ে ৫০ হাজার ৬৫১ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ, যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরের চেয়ে ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ কম।

এক তথ্য বলছে, করোনা মহামারীর আগে প্রতিমাসে পণ্য আমদানিতে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হলেও এখন তা তিন বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। এতে বিনিয়োগে বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘এভাবে মাসের পর মাস টানা আমদানি কমে যাওয়া অর্থনীতির জন্য মোটেও ভালো লক্ষণ নয়।’

বাংলাদেশ ব্যাংক আমদানি সংক্রান্ত সর্বশেষ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে বলা হচ্ছে, ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে বিভিন্ন পণ্য আমদানি জন্য ৭৩৬ কোটি ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের ওই দুই মাসে ৯৫০ কোটি ডলারের এলসি খোলা হয়েছিল। এই হিসাবে দুই মাসে এলসি খোলার পরিমাণ কমেছে ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। খাদ্যপণ্য ছাড়া অন্যসব পণ্যের এলসি খোলার পরিমাণও কমেছে।

শিল্প স্থাপনের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির এলসি খোলার পরিমাণ কমেছে ২৫ শতাংশ। শিল্পের কাঁচামাল আমদানির জন্য গত বছর ওই দুই মাসে ৩২০ কোটি ৫৩ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়েছিল। এ বছরের একই সময়ে এলসি খোলা হয়েছে ২৮৬ কোটি ৬৫ লাখ ডলারের। অর্থাৎ আমদানি কমেছে ১০ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

একইভাবে শিল্প খাতের মধ্যবর্তী পণ্য আমদানির এলসি খোলার পরিমাণ কমেছে ১৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। জ্বালানি তেল আমদানির এলসি কমেছে ৫৩ দশমিক ১৩ শতাংশ। এছাড়া অন্যান্য পণ্যের কমেছে ১৩ দশমিক ২৫ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, অর্থ বছরের প্রথম দুই মাসে এলসি নিষ্পত্তি কমেছে ১৮ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে যেখানে ৮৯৭ কোটি ৪০ লাখ ডলারের এলসি নিষ্পত্তি হয়েছিল, এ বছরের একই সময়ে নিষ্পত্তি হয়েছে ৭৩৬ কোটি ডলারের এলসি। গত বছরের এপ্রিল মাসে ৫২৬ কোটি ডলারের এলসি খোলা হয়েছিল। আর গত মার্চ মাসে এলসি খোলা হয়েছিল ৪৯৭ কোটি ডলারের।

লকডাউন ওঠার পর এ বছরের জুন থেকে এলসি খোলার পরিমাণ বাড়লেও স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এখনও তা অনেক কম। যদিও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর তিন মাসে ৯৮৯ কোটি ৬৮ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেশি।

এই তিন মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৬৭১ কোটি ৩২ লাখ ডলার। আগের বছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় বেড়েছে ৪৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। আগের বছরের প্রথম তিন রেমিট্যান্স এসেছিল ৪৫১ কোটি ৯৩ লাখ ডলার। রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্সের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে এখন ৪১ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে।