পেঁয়াজের বাজার ফের অস্থির

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৯ আশ্বিন ১৪২৭

পেঁয়াজের বাজার ফের অস্থির

জাফর আহমদ ৯:২৪ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০

print
পেঁয়াজের বাজার ফের অস্থির

আবারও পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। নিত্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতির অসতর্কতার কারণে এমনটি হলো। ৩০ টাকার পেঁয়াজ এখন ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গতবারের মতো দাম বাড়বে- এমন আশঙ্কায় ভোক্তারা পেঁয়াজ কেনা বাড়িয়ে দিয়েছেন। বাজার সামাল দিতে এবারও সরকারের পক্ষ থেকে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগের ঘোষণা করে।

আগস্ট মাসের শেষদিক থেকে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি শুরু হয়। একমাস আগে পেঁয়াজের দাম ছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। আগস্টের মাঝামাঝিতে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি শুরু হয়। এ সময় বন্যার কারণে ভারতে মজুদ পেঁয়াজ পচন এবং লকডাউনের কারণে ভারতেই পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেতে থাকে। এর প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও।

ভারতীয় কৃষিপণ্যের মূল্য নির্ধারণকারী সংস্থা ‘ন্যাপেড’ সোমবার থেকে হঠাৎ করে প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজের রফতানি মূল্য তিনগুন বাড়িয়ে ৭৫০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করে দিলে বাংলাদেশে পেঁয়াজের রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় ভারত বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করবেÑএমন আভাস দেয়নি, বাংলাদেশও গতবারের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেয়নি। ৩০ টাকার পেঁয়াজ সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ৬০ টাকাতে ওঠে। গত সোমবার ভারত সরকার পেঁয়াজ পুরোপুরি রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার আট ঘণ্টার মধ্যে পেঁয়াজের দাম উঠে যায় ১০০ থেকে ১১০ টাকায়।

এদিকে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ার পর সরকারের ঘুম ভাঙে। কিন্তু পণ্য বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের উদ্যোগে বিশ^াস করতে পারছেন না বিক্রেতারা। বাণিজ্যমন্ত্রী গত সোমবার ঘোষণা দেন, তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হবে।

সরকারের ঘোষণায় পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি থামেনি। বাজারে পেঁয়াজ আছে, সরকারও আমদানির ঘোষণা দিয়েছে। তারপরও পেঁয়াজের দাম এত বেশি নিচ্ছেনÑএমন প্রশ্নের জবাবে কারওয়ান বাজারের পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতা আতিকুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, সরকার পেঁয়াজ আমদানি করে দাম কমাতে পারলে আরও এক মাস আগে করতে পারত। ঘোষণা দিয়েছে, দেশে পেঁয়াজ আসতে আসতে কয়েক মাস লেগে যেতে পারে।

দেশে পেঁয়াজের চাহিদা ২৬ লাখ টন। উৎপাদন হয় ১৯ থেকে ২০ লাখ মেট্রিক টন। চাহিদার বাকি পেঁয়াজ আমদানি করা লাগে। দেশে ২৩ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন করার পর শুকানো পেঁয়াজের মজুদ দাঁড়ায় ১৯ থেকে ২০ লাখ মেট্রিক টন। এ বছর দেশে বাম্পার পেঁয়াজ উৎপাদন হলে উৎপাদিত হওয়ায় পরিমাণ ঠেকে প্রায় ২৭ লাখ টনে। সে হিসাবে দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজে দেশের চাহিদা মেটার কথা। তারপরও পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত আছে। আমদানি করা পেঁয়াজের প্রায় ৯০ ভাগ আসে ভারত থেকে। পেঁয়াজের ভারতনির্ভর আমদানি ব্যবস্থার কারণে সেখানে কিছু হলে বাংলাদেশে তার প্রভাব পড়তে সময় লাগে এক ঘণ্টা। গত বছরও এ ঘটনা ঘটে। এবারও এ ঘটনা ঘটল। যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাকে।

এ বিষয়ে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ভারত হঠাৎ পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে অপ্রতিবেশী সুলভ আচরণ করেছে। তিনি বলেন, ভারতে ভোক্তাবিষয়ক একটি মন্ত্রণালয় আছে। ওই মন্ত্রণালয় সে দেশের মানুষের পণ্যের চাহিদা, উৎপাদন ও বিপণন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে থাকে। গত বছর পেঁয়াজ উৎপাদন, চাহিদা ও বিপণন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে হঠাৎ করে পেঁয়াজের রপ্তানি বন্ধ করে দেয়।

এবারও তাই করল। আমাদের সরকারের আগে থেকেই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকার প্রয়োজন ছিল। পাশাপাশি তাদেরও সময় নিয়ে জানানোর প্রয়োজন ছিল, যাতে ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু সেটা করতে পারেনি। তবে দেশে পেঁয়াজের যথেষ্ট মজুদ আছে। সরকার পর্যবেক্ষণ জোরদার করলে এ পেঁয়াজে দেশের চাহিদা মেটানো সম্ভব। ভারতের হঠাৎ পেঁয়াজ রপ্তানির ঘোষণাতে এক কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। দাম বেড়ে গেছে। তবে সরকার কোন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করবে এবং সরকারিভাবে এক লাখ টন পেঁয়াজ রপ্তানি করবে- এ ঘোষণায় দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন এ ভোক্তা নেতা।

ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণায় দেশের ভোক্তারাই শুধু সমস্যায় পড়েনি। সমস্যায় পড়েছে দুই দেশের ব্যবসায়ীরাও। গত সোমবার যখন পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেয় ভারত সরকার, তখন স্থলবন্দরের ভারত অংশে প্রায় ৪৫০টি ট্রাক বাংলাদেশে ঢোকার অপেক্ষায় ছিল। এসব ট্রাক এখন ভারতে ফেরত যাবে। পেঁয়াজ আমদানি করতে খোলা এলসিও থাকল অমীমাংসিত।