৯৮ ভাগ আবেদনকারী পেয়েছেন ফসল ঋণ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৯ আশ্বিন ১৪২৭

৯৮ ভাগ আবেদনকারী পেয়েছেন ফসল ঋণ

জাফর আহমদ ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২০

print
৯৮ ভাগ আবেদনকারী পেয়েছেন ফসল ঋণ

করোনা পরিস্থিতিতে মন্দা মোকাবেলায় ফসলের ওপর স্বল্প সুদের ঋণের জন্য যারা আবেদন করেছেন তাদের মধ্যে ৯৮ শতাংশ আবেদনকারীই ঋণ পেয়েছেন বলে জানিয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। সরকার এই ঋণ প্রণোদনা হিসেবে ঘোষণা করেছিল। কৃষক পর্যায়ে এ ঋণের সুদ ৪ শতাংশ। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এ ঋণ বিতরণ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তথ্য জমা দিলেই বিতরণকৃত ঋণের বিপরীতে এক শতাংশ ভর্তুকির অর্থ ব্যাংকগুলোকে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

 

ব্যাংকগুলো জানায়, করোনার সময়ে ফসলের ওপর বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ৭৫০ কোটি টাকা। আর উপকৃত হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৪৬ জন কৃষক ও কৃষি খামার। শুধু আগস্ট মাসে বিতরণ হয়েছে ২৭৬ কোটি টাকা এবং উপকৃত হয়েছে ৪৩ হাজার ২১২ জন কৃষক ও কৃষি ফার্ম। ফসল উৎপাদনের জন্য মোট এক লাখ ১২ হাজার ৪৫৯টি আবেদন ৩০টি বাণিজ্যিক ব্যাংকে জমা হয়েছিল। আবেদন গৃহীত হয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ১৭১টি। আবেদন গ্রহণের হার ৯৭ দশমিক ৯২।

ফসল উৎপাদনে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ফসলি ঋণদাতা ব্যাংক রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের অগ্রণী ব্যাংক। এ বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত খোলা কাগজকে বলেন, করোনাকালীন প্রণোদনা বিতরণের জন্য শুধু ফসলে ঋণ বিতরণ নয়, সকল প্রণোদনাই আমরা বিতরণ করছি। খাদ্য নিরাপত্তার ধারা অব্যাহত রাখতে সরকারের যে নির্দেশনা তা পরিপালনের জন্য আমরা ফসলে ঋণ বিতরণ করছি। অগ্রণী ব্যাংকের পল্লী অঞ্চলে শাখা থাকা ও অনলাইনের আওতাভুক্ত হওয়ার কারণে প্রণোদনা বিতরণে সহজ হচ্ছে। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষি ঋণের কমপক্ষে ৭টি উপখাতের মধ্যে অন্যতম উপখাত হলো ফসল উৎপাদন। অন্যান্য খাতগুলো হলো সেচ যন্ত্রপাতি ক্রয়; পশুপালন ও পোলট্রি পালন; মৎস্য চাষ; কৃষি পণ্য সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ; পল্লী অঞ্চলে দারিদ্র্যদূরীকরণে বিভিন্ন রকম ছোট্ট ছোট্ট উদ্যোগ এবং অন্যান্য উপখাত। করোনাকালীন বৈশ্বি ক মহামারীর কারণে পুরো দেশ লকডাউনে চলে গেলে দেশের উৎপাদন, বিপণন, আমদানি, রপ্তানি, যোগযোগসহ সবকিছু বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় স্বাভাবিক চলাচল, আভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক আয়। এ অবস্থায় সরকার দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কৃষিতে প্রণোদনা ঘোষণা করে। খাদ্য উৎপাদন ও কৃষিকে সচল রাখার জন্য এ প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়।

দেশে বার্ষিক ২২ হাজার কোটি টাকার কৃষি ঋণ বিতরণ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি পশু পালনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থ থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে ফসল ফলাতে ভিন্ন একটি উপখাতে বিতরণের জন্য প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়। এ ঋণের কৃষক পর্যায়ে সুদহার নির্ধারণ করা হয় ৪ শতাংশ।

কৃষক পর্যায়ে এই ৪ শতাংশ হারের ঋণ বিতরণে জন্য ৫৫টি বাণিজ্যিক ব্যাংককে বিতরণের জন্য বলা হলেও আগস্ট পর্যন্ত বিতরণ করে ৩০টি বাণিজ্যিক ব্যাংক। এর মধ্যে শুধু আগস্ট মাসে ৫০-এর অধিক কৃষক ও কৃষি খামারকে ঋণ দেওয়া ব্যাংকগুলো হলোÑ বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ১৮ হাজার ৬৭৩ জনকে ; অগ্রণী ব্যাংক ৯ হাজার ৬৭ জনকে ; রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংককে ছয় হাজার ৭৯০ জনকে ; সোনাল ব্যাংক তিন হাজার ৮৬৮ জনকে; বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংক দুই হাজার ২১৩ জনকে; জনতা ব্যাংক এক হাজার ৯৯৭ জনকে; ইসলামী ব্যাংক ৩২৫ জনকে; রুপালী ব্যাংক দিয়েছে ৮২ জনকে এবং উত্তরা ব্যাংক ৭৯ জন কৃষক ও খামারকে।

ছয় মাসে ফসলে কোনো ঋণই বিতরণ করেনি এমন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো হলো বেসরকারি বাণিজ্যিক এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরটি ইসলামী ব্যাংক, কম্যুনিটি ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সাউথ বাংলা ব্যাংক, সাউথ ইস্ট ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংক। রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের বিডিবিএল ব্যাংক ফসলে কোনো ঋণ বিতরণ করেনি। বাংলাদেশে কর্মরত কোনো বিদেশি ব্যাংকই এ ঋণ বিতরণ করেনি। বিদেশি ব্যাংকগুলো হলো কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, হাবিব ব্যাংক, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, সিটি ব্যাংক এনএ, উরি ব্যাংক, ব্যাংক আল ফালাহ এবং এইচএবিসি।