ঈদের আগে খুশির ঝলক

ঢাকা, শনিবার, ১৯ জুন ২০২১ | ৫ আষাঢ় ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

ঈদের আগে খুশির ঝলক

নিজস্ব প্রতিবেদক
🕐 ১২:৫২ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩১, ২০২০

ঈদের আগে খুশির ঝলক

ঈদুল আজহার আগের শেষ কার্যদিবসে দেশের শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্য সূচকের বড় উত্থান হয়েছে। সেই সঙ্গে ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। এর মাধ্যমে চলতি সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসেই ঊর্ধ্বমুখী থাকল শেয়ারবাজার। মহামারি করোনার প্রকোপে ভুগতে থাকা শেয়ারবাজারে বেশকিছু দিন ধরেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ঈদের আগের শেষ সপ্তাহে এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সব থেকে বেশি দেখা গেছে। ঈদের আগে শেয়ারবাজারে এমন টানা উত্থান হওয়ায় বিনিয়োগকারীরাও খুশি।

বিনিয়োগকারীরা বলছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামের নেতৃত্বাধীন কমিশন শেয়ারবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। যার প্রভাব দেখা যাচ্ছে শেয়ারবাজারে। বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৪৩ পয়েন্ট বেড়ে চার হাজার ২১৪ পয়েন্টে উঠেছে। এর মধ্যে টানা পাঁচ দিনের উত্থানে সূচকটি ১৩৪ পয়েন্ট বাড়ল। 

এ বিষয়ে বিনিয়োগকারী মনির হোসেন বলেন, করোনা সব আনন্দ কেড়ে নিয়েছে। শেয়ারবাজারেও অনেক দিন ধরে মন্দা চলছে। সব মিলে আমরা ভালো নেই। তবে ঈদের আগে শেয়ারবাজারে উত্থান প্রবণতা কিছুটা হলেও স্বস্তি দিচ্ছে। ঈদের পর বাজারে এই চিত্র অব্যাহত থাকলে লোকসানের পরিমাণ কমবে। তিনি আরও বলেন, কারসাজি চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ায় শেয়ারবাজার থেকে বিনিয়োগকারীদের আস্থা প্রায় উঠে গেছে। আস্থার সংকটেই শেয়ারবাজারে ভয়াবহ দরপতন হয়েছে। সম্প্রতি বিএসইসির কিছু পদক্ষেপ নতুন করে আশা জাগাচ্ছে।

বিএসইসি তাদের এ লোকসানের পরিমাণ হয়তো কিছুটা কমবে। এরপরও অনেকেই এখনো লোকসানে রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে শেয়ারবাজারে কোনো সুশাসন ছিল না। বর্তমান কমিশন সুশাসন ফেরানোর চেষ্টা করছে। অনিয়মের কারণে অনেককেই নতুন কমিশন জরিমানা করেছে। আমরা চাই জরিমানার পাশাপাশি অনিয়মকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। তাহলে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং বাজারে সুদিন ফিরবে।

এদিকে প্রধান সূচকের পাশাপাশি বড় উত্থান হয়েছে অপর দুই সূচকের। এর মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ১৮ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৪২০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসই শরিয়াহ ১১ পয়েন্ট বেড়ে ৯৭৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন ডিএসইতে লেনদেন অংশ নেওয়া ১৬২ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৮টির। আর ১২৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এর মাধ্যমে তিন মাসেরও বেশি সময় পর যে কয়টি প্রতিষ্ঠানের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে তার থেকে বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের দাম বাড়ল।

শেয়ারবাজারের ভয়াবহ ধসের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ মার্চ প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস (সর্বনিম্ন দাম) নির্ধারণ করে নতুন সার্কিট ব্রেকার চালু করা হয়। এতে দরপতন ঠেকানো গেলেও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন এক প্রকার বন্ধ হয়ে যায়। ফলে লেনদেনে অংশ নেওয়া সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের দাম অপরিবর্তিত থাকে। এতে দেখা দেয় লেনদেন খরা। ডিএসইর লেনদেন ৫০ কোটি টাকার ঘরে নেমে আসে। অবশ্য গত কয়েকদিন ধরে লেনদেন বাড়তে থাকায় বৃহস্পতিবার ডিএসইর লেনদেন ৫০০ কোটি টাকার ঘরে স্পর্শ করেছে। দিনভর বাজারে লেনদেন হয়েছে ৫৮০ কোটি ৯০ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৩৯৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১৮১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

বড় অঙ্কের লেনদেনের দিনে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ার। কোম্পানিটির ২৮ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের ২০ কোটি ৪২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ১৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকার লেনদেনের মাধ্যমে পরের স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস। এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- গ্রামীণফোন, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ইস্টার্ণ ইন্স্যুরেন্স, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স, বিকন ফার্মাসিউটিক্যাল, নাহি অ্যালুমিনিয়াম এবং লিন্ডে বিডি। অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৮২ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ১১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। লেনদেন অংশ নেওয়া ২৩৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৯৮টির, কমেছে ৪২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৯৪টির।

 

 
Electronic Paper


SA Engineering