রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ৮৫ হাজার কোটি টাকা

ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০ | ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭

রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ৮৫ হাজার কোটি টাকা

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক ১০:০৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৭, ২০২০

print
রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ৮৫ হাজার কোটি টাকা

স্মরণকালের রাজস্ব ঘাটতিতে পড়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ১৯৭১ সালের পর বাংলাদেশ রাজস্ব আদায়ে এমন নাজুক অবস্থায় কখনো পড়েনি। করোনা অতিমারির ঝাপটায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রাজস্ব আদায়। বিদায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরের রাজস্ব আদায় আগের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের চেয়ে কমে গেছে।

এনবিআরের তথ্যানুযায়ী, বিদায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরে আদায় হয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮৫ হাজার কোটি টাকা কম। বিদায়ী বছরে রাজস্ব আদায়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৫০০ কোটি টাকা। বিদায়ী বছরের আদায় আগের বছরের চেয়েও ৮ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা কম। আগের বছরে অর্থাৎ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মোট আদায় হয়েছিল ২ লাখ ২৩ হাজার ১৫ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ। অবশ্য রাজস্ব আদায়ের এ হিসাবই শেষ কথা বলে জানিয়েছে এনবিআর। বলছে চূড়ান্ত হিসাবে হলে এর কিছুটা তারতম্য হতে পারে। 

এনবিআর সূত্র জানায়, দেশে স্বাধীন হওয়ার পর একবার ১৯৭৫-৭৬ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ে কিছুটা নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। ওই সময়  দেশে রাজনিতিক অস্থিরতার কারণে রাজস্ব আয়ে প্রভাব পড়ে। বঙ্গবন্ধু হত্যা, জেলে চার জাতীয় নেতা হত্যা, সামরিক  অভ্যুত্থান, পাল্টা অভ্যুত্থানের মতো ঘটনা ঘটেছিল ওই বছরে। এর পরবর্তী বছরগুলোতে রাজস্ব আয় বেড়েছে, নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির মুখোমুখি হতে হয়নি। বিদায়ী বছরের শেষের    দিকে বিশ্বজুড়ে করোনা অতিমারির মুখোমুখি হতে হয়। উৎপাদন, বিপণন, যোগাযোগসহ অর্থনৈতিক সব ধরনের কর্মকা- তো বটেই জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে। এর প্রভাব পড়ে রাজস্ব আদায়ে।

এনবিআর সূত্র জানায়, মূলত করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে অর্থনীতি বিপর্যস্ত হওয়ায় রাজস্ব আহরণে ধস নেমেছে। সাধারণত অর্থবছরের শেষ সময়ে বিশেষ করে মে ও জুনে রাজস্ব আদায় বাড়ে। রাজস্ব আহরণ কমে যাওয়ায় সরকারের নিয়মনীতি খরচ মিটাতে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে রেকর্ড পরিমাণ ঋণ নিয়েছে। করোনা পরিস্থিতি যদি অবস্থা থাকে রাজস্ব আদায়ের পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা ম্লানই থাকবে।

রাজস্ব আদায়ের এ পরিণতির জন্য সরকার বা মনুষ্য সৃষ্ট কোনো হাত ছিল না। করোনাভাইরাস বিশ^জুড়ে এক বিপর্যয়কর অবস্থা সৃষ্টি হওয়ার কারণে এ প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও। ডিসেম্বর মাস থেকে চীনে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব হলে সে সময়েই কাঁচামাল আমদানিতে সমস্যায় পড়ে বাংলাদেশ। এরপর মার্চ মাস থেকে দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদন, বিপণন, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান সবক্ষেত্রে অন্ধকারে পতিত হয় পুরো দেশ। আঘাত লাগে আমদানি, রপ্তানি, প্রবাসী আয়সহ সব ক্ষেত্রে। তখন জীবন রক্ষাই বড় কাজ হয়ে দাঁড়ায়। এখনো সে পরিস্থিতি বিরাজমান। এর ফলে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের আঘাত লাগে।

এ বিষয়ে গবষেণা প্রতিষ্ঠান পিআরআই-এর নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, রাজস্ব আদায় ঘোরাতে হলে রাজস্ব ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার করতে  হবে। পুরো রাজস্ব বিভাগের খোলনলচে বদলে  ফেলতে হবে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ না বাড়ালে সরকার বড় ধরনের বিপদে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।