ঝুঁকির মুখে উদ্যোক্তারা

ঢাকা, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০ | ২৯ আষাঢ় ১৪২৭

ঝুঁকির মুখে উদ্যোক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৬, ২০২০

print
ঝুঁকির মুখে উদ্যোক্তারা

মহামারি করোনাভাইরাসের প্রভাবে ঝুঁকিতে পড়েছেন উদ্যোক্তারা। আর নতুনদের অবস্থা আরও খারাপ। বসার উপক্রম। এদের মধ্যে কেউ কৃষি খামার করেছেন; কেউ করেছেন শুধু গরুর খামার। রয়েছে বুটিক বা ফ্যাশন হাউজ; কিংবা জুতার কারখানা। কারও কারও রয়েছে দেশি খাবারের ব্যবসা। সবারই অবস্থা করুণ। এখন ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় তারা সরকারি-বেসরকারি সহায়তা প্রত্যাশা করেন।

বাংলাদেশে নতুন উদ্যোক্তার সংখ্যা আনুমানিক কত- তার সঠিক পরিসংখ্যান মেলেনি। তবে দেশের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশে প্রায় ২৭ লাখ বেকার রয়েছে। এ বেকারদের মধ্যে ৩৯ ভাগই মোটামুটি শিক্ষিত। এদের মধ্যে একদল কিছু করতে উদ্যোক্তা হয়েছিলেন। আবার অনেকে নিজ ব্যবসার পাশাপাশি নতুন কিছুও করার চেষ্টা করেছিলেন।

মোহাম্মদ সারওয়ার জাহান মোর্শেদ, ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। প্রশিক্ষণ নিয়ে গরুর খামার দিয়েছিলেন সাভারের হেমায়েতপুরে। গত জানুয়ারিতেই তার খামারে ২০০ গরু ছিল। কিন্তু এখন গরু আছে অল্প কয়েকটি। তিনি বলেন, আমার খামার বন্ধের পথে। দেখার লোক পর্যন্ত নেই। অল্প দামে ছেড়ে দিতে হয়েছে অনেক গরু।

যাদের গরু কিনে দিয়েছিলাম, তারাও বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে। তার পরিকল্পনা ছিল খামার থেকে ঢাকার কসাইদের কাছে নিয়মিত ভালো গরু সাপ্লাই দেওয়া। এজন্য যেসব এলাকায় ভালো জাতের গরু পাওয়া যায় সেখানকার চাষিদের অল্প দামে গরু কিনে দিয়ে তাদের মাধ্যমে পালনের পর সেই গরু নিয়ে আসতেন ঢাকার খামারে। তিনি বলেন, আমি নিজে একটি অ্যাপও করেছিলাম। সব মিলিয়ে প্রায় তিন কোটি টাকার মতো বিনিয়োগ ছিল আমার। কিন্তু এখন সব বন্ধ।

আফরোজা চৈতি কুষ্টিয়ার মেয়ে। অন্য কাজ করতে করতেই মাথায় এসেছিল দেশি ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো নিয়ে কিছু করা যায় কিনা। সে চিন্তা থেকেই শুরু করেছিলেন গুড় আর স্বর্ণচিনির ব্যবসা। চৈতি বলেন, আমাদের এলাকায় খেজুর রসের গুড় থেকে চিনি তৈরি হতো। আমি এর নাম দিয়েছি স্বর্ণচিনি। এগুলোর জন্য বিশেষ কারিগর দরকার হয়। সবাই এটি তৈরি করতে পারে না। আমি কিছু চাষির মাধ্যমে এটি করা শুরু করেছিলাম। যশোরে একটি ছোটখাটো খামার দিয়েছিলাম। যাতে কিছু নারী শ্রমিক কাজ করেন। গুড় বা স্বর্ণচিনির বাইরে ঘি, সরিষার তেল, ঢেকিছাঁটা চাল, গমের লাল আটার মতো ৪১টি আইটেম গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করতাম। চাষিদের অল্প কিছু অগ্রিম দিয়ে শুরু করেছিলাম। ভালোই হচ্ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাস এসে কাজের গতি থমকে দিল।

বছর দেড়েক আগে ঢাকার মিরপুর এলাকায় রেস্তোরাঁ খুলেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আব্দুল কাদের। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বেশ জমে উঠেছিল তার রেস্তোরাঁ এবং নিজেও স্বপ্ন দেখছিলেন বড় কিছুর। তিনি জানান, ২০ লাখ টাকার মতো বিনিয়োগ করেছিলেন তিনি। দোকান ভাড়া, স্টাফ খরচসহ আনুষঙ্গিক সব ব্যয় মিটিয়ে মাসে প্রায় লাখ টাকার মতো থাকতো। অথচ এখন রেস্তোরাঁটি প্রায় বন্ধ।

তিনি বলেন, ভাড়া আর স্টাফ বেতনই মাসে প্রায় দুই লাখ টাকা দিতে হয়। গত তিন মাসে গড়ে এক লাখ করে লোকসান হচ্ছে। পার্সেল চালু রেখেছি শুধু ভাড়া আর স্টাফ খরচ উঠানোর জন্য। চামড়াজাত পণ্যের ব্যবসার সঙ্গে আগেই জড়িত ছিলেন তুহিন। সেখান থেকেই মাথায় আসে তুলনামূলক কম দামে ভালো জুতা নিজের কারখানায় বানিয়ে নিজের শোরুমে বিক্রি করা যায় কিনা। সে চিন্তা থেকেই বছর দেড়েক আগে জুতার কারখানা খুলেন তিনি। ৪০-৫০ লাখ টাকার পণ্য পড়ে আছে। কিন্তু বিক্রি নেই। অথচ মাসে গড়ে প্রায় ৮-১০ লাখ টাকার বিক্রি করতাম করোনার আগে।