করোনা বিপদেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে রেকর্ড

ঢাকা, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২০ | ২৪ আষাঢ় ১৪২৭

করোনা বিপদেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে রেকর্ড

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ, জুন ০৫, ২০২০

print
করোনা বিপদেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে রেকর্ড

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিস্তারের মধ্যে যখন থমকে আছে পুরো বিশ্বের অর্থনীতি, ঠিক সে সময়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার জন্য সুসংবাদ এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ন (রিজার্ভ) প্রথমবারের মতো ৩৪ বিলিয়ন ডলার (তিন হাজার ৪২৩ কোটি টাকা) মাইলফলক অতিক্রম করেছে। এ সঞ্চায়ন এ যাবৎকালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রেকর্ড। গতকাল বুধবার (৩ জুন) পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের এ হিসাবে এই অংক পাওয়া গেছে। ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আমদানি ব্যয়ের চাপ কম, দাতাসংস্থা বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও জাইকার বৈদেশিক ঋণ সহায়তা ও বিশ্ব সংস্থার অনুদানের কারণে রিজার্ভ বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, গতকাল পর্যন্ত দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৪ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার। এর আগে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ৩৩ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন (৩ হাজার ৩৬৮ কোটি ডলার) রিজার্ভ অতিক্রম করেছিল। এরপর দীর্ঘদিন ৩১ থেকে ৩২ বিলিয়ন ডলারে ওঠানামা করেছে রিজার্ভ।

বেসরকারি পর্যায়ে বৈদেশিক মুদ্রার ঋণের দায় ও এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন (আকু) দায় শোধ করলে এ রিজার্ভ আবারও কমে যাবে বলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ- এই নয়টি দেশ বর্তমানে আকুর সদস্য। এই দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ যে সব পণ্য আমদানি করে তার বিল দুই মাস পর পর আকুর মাধ্যমে পরিশোধ করে থাকে। বাংলাদেশ সর্বশেষ গত মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মেয়াদের আকুর বিল (প্রায় এক বিলিয়ন ডলার) পরিশোধ করেছে। আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে মার্চ ও এপ্রিল মেয়াদের আকুর বিল পরিশোধ করতে হবে। এটি পরিশোধ করছে রিজার্ভ আবারও কমে যাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) ইপিজেডসহ রপ্তানি খাতে বাংলাদেশ আয় করেছে দুই হাজার ৮২৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। এর বিপরীতে আমদানি বাবদ ব্যয় করেছে চার হাজার ৩৩ কোটি ডলার।

সেই হিসেবে মার্চ শেষে দেশে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২০৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় (বিনিময় হার ৮৫ টাকা ধরে) দাঁড়ায় এক লাখ ২ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা। ঘাটতির এ অংক ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একই সময় ছিল এক হাজার ২২০ কোটি ১০ লাখ ডলার।