ব্যাংকে গ্রাহক সেবায় করোনা সতর্কতা

ঢাকা, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২০ | ১৯ আষাঢ় ১৪২৭

ব্যাংকে গ্রাহক সেবায় করোনা সতর্কতা

জাফর আহমদ ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ, জুন ০১, ২০২০

print
ব্যাংকে গ্রাহক সেবায় করোনা সতর্কতা

ব্যাংক খুলেছে, গ্রাহকের উপস্থিতি বেড়েছে। বেড়েছে সংক্রমণের ঝুঁকি। কিন্তু গ্রাহকের সেবা দেওয়া কর্মচারি-কর্মকর্তার উপস্থিতি কিছুটা কম। ব্যাংক নির্বাহীরা বলছেন, করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি পুরোপুরি না যাওয়া পর্যন্ত ব্যাংক পুরোদস্তুর সেবা চালু সম্ভব হবে না। তবে শহরের শাখাগুলোতে অনলাইন ব্যাংকিং বাড়িয়ে গ্রাহকের ঘরে বসে সেবা বাড়ানো হবে। শহরের বাইরে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামুলক কম থাকায় স্বাভাবিক ব্যাংকিং হচ্ছে।

দুই মাস পর গতকাল রোববার ব্যাংকের কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হয়। এরপর ব্যাংক সেবার ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে এমন চিত্র পাওয়া যায়। 

করোনাকালিন ব্যাংক খোলার উদ্যোগকে করোনা দুর্যোগের মধ্যে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার চেষ্টা বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখোপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম। তিনি খোলা কাগজকে বলেন, এখন একটি বিপদ চলছে। এরমধ্যে ব্যাংক খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সতর্কতার সাথে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কার্যক্রম করছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকেও সেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে ব্যাংকগুলো তাদের কর্মী ও গ্রাহকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে কার্যক্রম চালায়। সেভাবে গতকাল থেকে শুরু হয়েছে।

গতকাল প্রথম কর্মদিবসে ইসলামী ব্যাংকের মিরপুর-১০ নম্বর শাখায় গ্রাহকের উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের মধ্যে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে চলার প্রবনতা কম ছিল। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলে শাখার একজন কর্মকর্তা বলেন, করোনার কারণে বয়স্ক ও অসুস্থ গ্রাহকের উপস্থিতি কিছুটা কমে গেছে। তাছাড়া মিরপুর করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হওয়ার কারণে গ্রাহকের উপস্থিতি কম মনে হচ্ছে।

করোনাভাইরাসের মহামারি ছাড়াও দুই মাস পর প্রথম পূর্ণ ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক কম হওয়ার কারণ হলো ঈদের আগের বড় খরচ ও পরিস্থিতিতে রোজার মধ্যে ব্যাংকিংয়েও দেখা গেছে লম্বালাইন। সামাজিক দুরত্ব মানার কারণে লাইন চলে গেছে ব্যাংকের বাইরে সড়কে। গতকাল কোন ব্যাংকেই এ পরিস্থিতি ছিল না।

ডাচ বাংলা ব্যাংকের ব্যাংকের দিলকুশা লোকাল অফিসে দেখা যায় ব্যাংকটিতে পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু করেছে। সকাল ১০টা থেকে যথারীতি চারটা পর্যন্ত চলেছে। গ্রাহকের উপস্থিতি স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা কম ছিল। ব্যাংকের যারা অসুস্থ ও সন্তান সম্ভাববা নারী কর্মী তারা ছুটি আছেন। সে ক্ষেত্রে ব্যাংকের কর্মীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। বিষয়টি কথা বলতে চাইলে ব্রাঞ্চের ম্যানেজার সিরাজুল ইসলাম খোলা কাগজ জানান, ঈদের ছুটির পর সাধারণত গ্রাহকের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকে। এবার যোগ হয়েছে করোনা পরিস্থিতি। এ সব কারণে উপস্থিতি কিছুটা কমেছে। সব মিল স্বাভাবিকের চেয়ে অর্ধেক গ্রাহক ছিল। আজ উপস্থিতি কিছুটা বাড়বে। তিনি মনে করেন, ক্রমান্বয়ে গ্রাহকের উপস্থিতি বাড়বে। ঈদের আগে রোজার মধ্যে যেভাবে ব্যাংককিং হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে দুয়েক দিনের মধ্যে লেনদেন স্বাভাবিক হয়ে যাবে। মতিঝিলের প্রায় সব শাখাতেই এমন চিত্র দেখা যায়।

ব্যাংকে লেনদেনের ক্ষেত্রে পুরান ঢাকার চিত্র ছিল ভিন্ন। রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের অগ্রণী ব্যাংকের পুরান ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ শাখায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শাখাটিতে আগের মতই স্বাভাবিক কার্যক্রম চলমান আছে। শাখা ম্যানেজার মো. আলতাফ হোসেন তালুকদার জানান, করোনা কালিন সময়ে রোস্টারিং করে অংশিক অফিস খোলা থাকলেও গতকাল থেকে পুরোপুরি ব্যাংকিং শুরু হয়েছে। দুই মাস পর প্রথম পুর্ণ কর্মদিবসে কর্মকর্তাদের উপস্থিতিও স্বাভাবিক ছিল। তবে পুরান ঢাকার এই শাখার গ্রাহকদের মাঝে সামাজিক দূরত্ব না মানার প্রবনতা আছে। এ জন্য গ্রাহকদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেগ পেতে হচ্ছে।

করোনা মহামারি ঢাকার বাইরে কম হওয়ার কারণে মফস্বলের এসব শাখাতে স্বাভাবিক কর্মকান্ড শুরু হয়েছে। ফোনে রুপালী ব্যাংকের কুষ্টিয়ার হোসেনাবাদ শাখায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখানে গতকাল পুরোপুরি ব্যাংকিং শুরু হলে লকডাউনের আগের অবস্থার মতই গ্রাহকের উপস্থিতি ছিল। শাখার ম্যানেজার আ. হাকিম জানান, ওই শাখাতে কোন কর্মকর্তা অসুস্থ না থাকায় কেউ অনুপস্থিত থাকছেন না, সবাই হাজির থাকছেন। ফলে স্বাভাবিক কর্মকান্ড চলছে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি শুরু হয়। এ সময় থেকে সীমিত আকারে ব্যাংকিং শুরু হয়। ঈদের আগ পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত ব্যাংক খোলা ছিল। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো রোস্টারিং করে এ সময় ব্যাংক চালু রেখেছিল। সর্বশেষ গতকাল থেকে পুর্ণ ব্যাংকিং শুরু হয়।

অসুস্থ, সন্তান সম্ভাববা নারী কর্মীদের ছুটিতে পাঠানো হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো জানায়, পূরোদিন ব্যাংকিং শুরু হলেও করোনা ঝুকি এলাকাগুলোতে পুরোপুরি ব্যাংকিং শুরু করতে আরও সময় লাগবে। এ ক্ষেত্রে বাসা থেকে ব্যাংকিং কার্যক্রম করা যায়-এমন কার্যক্রমের দিকে যাচ্ছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো।

করোনা পরিস্থিতি প্রলম্বিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে স্বশরীরে সরাসরি উপস্থিতি কমানোর চিন্তা থেকে এমন উদ্যোগ নিচ্ছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। আগে থেকেই অনলাইন ব্যাংকিং শুরু করেছিল, করোনাভাইরাস মহামারির প্রেক্ষাপটে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের পরিধি আরও বাড়ছে। এক্ষেত্রে ব্যাংকার ও গ্রাহক উভয় ক্ষেত্রে এ কার্যক্রম কার্যকর হবে।
##