ব্যাংক ঋণে খরচ মেটাচ্ছে সরকার

ঢাকা, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২০ | ২৮ আষাঢ় ১৪২৭

ব্যাংক ঋণে খরচ মেটাচ্ছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক ৯:১৬ অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০২০

print
ব্যাংক ঋণে খরচ মেটাচ্ছে সরকার

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য। এতে সরকারের আয় যেমন কমেছে অন্যদিকে বেড়েছে খরচের পরিমাণ। তাই ব্যয় ব্যবস্থাপানা ঠিক রাখতে অতি মাত্রায় ব্যাংক ঋণ নিচ্ছে সরকার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের ১৩ মে পর্যন্ত ব্যাংক খাত থেকে সরকার ঋণ নিয়েছে ৮১ হাজার কোটি টাকা। যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৩ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা বা ৭১ শতাংশ বেশি। বাজেট ঘাটতি মেটাতে চলতি অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঋণ নেবে বলে ঠিক করেছিল সরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত সাময়িক হিসাবে সরকার ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেয় ৫৭ হাজার ৯২৯ কোটি টাকা। যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা বা ২২ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি। ১৫ দিনের মাথায় ১৩ মে এসে সরকারের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮১ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ গত ১৫ দিনে সরকার ২৩ হাজার কোটি টাকা বেশি ব্যাংক ঋণ নিয়েছে। আর করোনা প্রার্দুভাবের সময়ে গত আড়াই মাসে সরকার ঋণ নিয়েছে ২৮ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৩ মে পর্যন্ত সরকারের ৮১ হাজার কোটি টাকার ব্যাংক ঋণের মধ্যে তফসিলি ব্যাংক থেকে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে ঋণ নিয়েছে ৬৯ হাজার কোটি আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে বাকি ১২ হাজার কোটি টাকা। এতে চলতি অর্থবছরের ১৩ মে পর্যন্ত সরকারের পুঞ্জীভূত ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৮৯ হাজার ৯৬ কোটি টাকা। যা চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের শুরুতে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের পুঞ্জীভূত ঋণের স্থিতি বা পরিমাণ ছিল এক লাখ আট হাজার ৯৫ কোটি সাত লাখ টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার প্রতি বছর বাজেট ব্যয় ব্যবস্থাপনার জন্য অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক খাত থেকে অর্থ ধারের লক্ষ্য ঠিক করে। কিন্তু চলমান করোনা সংকটে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ। ফলে রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। অন্যদিকে নিয়মিত ব্যয়ের সঙ্গে করোনায় ত্রাণ বিতরণ, চিকিৎসা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ব্যয় বেশি করতে হচ্ছে সরকারকে। ফলে বাড়তি ব্যয় জোগাতে ব্যাংক ঋণে ঝুঁকছে সরকার।