প্রণোদনা বিতরণে ঋণ প্রক্রিয়া শিথিল

ঢাকা, রবিবার, ৭ জুন ২০২০ | ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

প্রণোদনা বিতরণে ঋণ প্রক্রিয়া শিথিল

জাফর আহমদ ১০:৪০ অপরাহ্ণ, মে ১১, ২০২০

print
প্রণোদনা বিতরণে ঋণ প্রক্রিয়া শিথিল

করোনা মহামারি মোকাবেলায় ঘোষিত ঋণ-প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ঋণ নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে স্বল্প সুদের ঋণ-প্রণোদনা নেওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা কিছুটা দূর হলো বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। ভয়ঙ্কর করোনা ভাইরাস বিশ্ব জুড়ে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির করে দিয়েছে। বাংলাদেশেও এর গভীর প্রভাব পড়েছে। বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পসহ সব ধরণের ব্যবসা-বাণিজ্য। এ বিপর্যন্ত অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকার পাশে দাঁড়িয়েছে। স্বল্প সুদে ঋণ ঘোষণা করেছে। কিন্তু স্বল্প সুদের এ ঋণ-প্রণোদনা ঘোষণা করলেও কিছু শর্তের কারণে উদ্যোক্তারা নিতে পারছিলেন না।

বিজিএমইএ-এর সহ-সভাপতি আরশাদ জামাল দীপু বলেন, রোববার শর্ত শিথিল করে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করার ফলে সমস্যা কিছুুটা দূর হলো। এ প্রণোদনা নেওয়ার ক্ষেত্রে ক্রেডিট রিস্ক রেটিং (আইসিআরআর) নীতিমালা অনুযায়ী গ্রাহককে বেশ কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হতো। যা বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার ছিল। উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে শর্ত শিথিল করার দাবি উঠলে বাংলাদেশ ব্যাংক আইসিআরআর সার্টিফিকেট নেওয়ার শর্ত বাতিল করে প্রজ্ঞাপন দেয়। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রণীত ইন্টারনাল ক্রেডিট রিস্ক রেটিং (আইসিআরআর) নীতিমালার শর্ত পূরণ না করেও গ্রাহকরা ঋণ আবেদন করতে পারবেন। 

করোনাভাইরাসের কারণে দাফতরিক কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ায় আইসিআরআর কার্যক্রম ব্যাহত ও গ্রহিতার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এই দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় শিল্প ও সেবা খাতের আওতায় তাদের কার্যক্রম দ্রুত চালু করার জন্য প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ সুবিধা দিতে আইসিআরআর সম্পন্ন না করেও ব্যাংক ঋণ দিতে পারবে। তবে, প্রতিটি ব্যাংক বিদ্যমান নিজস্ব নীতিমালার আওতায় ঋণ ঝুঁকি বিশ্লেষণপূর্বক ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে গ্রাহক নির্বাচন করবে। এক্ষেত্রে সার্কুলারের সঙ্গে সংযুক্ত একটি ফরম পূরণ করতে হবে প্রতিটি গ্রাহককে।

উল্লেখ্য, দেশের ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছার প্রেক্ষাপটে ২০১৯ সালের ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) মিলনায়তনে ঋণের ঝুঁকি পরিমাপের নতুন নীতিমালা উদ্বোধন করেন গভর্নর ফজলে কবির। ইন্টারনাল ক্রেডিট রিস্ক রেটিং (আইসিআরআর) নামের এই নীতিমালায় ঋণের পরিমাণ ও গুণগত উভয় ধরনের সক্ষমতার মূল্যায়ন শর্ত রাখা হয়। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী এই শর্তগুলো পূরণ না করেও ঋণ পাবেন গ্রাহক।

আইসিআরআর নীতিমালা : প্রথমত একজন গ্রাহককে এক্সিলেন্ট, গুড, মার্জিনাল ও আনএকসেপ্টেবল এই চার শ্রেণিতে ভাগ করবে ব্যাংকগুলো। কোনো গ্রাহক ‘এক্সিলেন্ট’ রেটিং পেলে ব্যাংক তাকে ঋণ দিতে পারবে। ‘গুড’ রেটিং পেলেও ব্যাংক তাকে ঋণ দিতে পারবে। ‘মার্জিনাল’ রেটিংধারী গ্রাহককে পুরনো ঋণ নবায়ন বা নতুন করে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে ব্যাংককে।

‘আনএকসেপ্টেবল’ রেটিংধারীকে কোনো পরিস্থিতিতেই নতুন ঋণ দিতে পারবে না ব্যাংকগুলো, যদি না আগের ঋণ শতভাগ নগদ পরিশোধ হয় অথবা জামানত দিয়ে ঋণটি আচ্ছাদন করা হয়। এই শ্রেণির গ্রাহকের আগের ঋণ সর্বোচ্চ দুবার নবায়ন বা বর্ধিত করা যাবে।