কৃষি বিপণন বিপর্যস্ত উত্তরণে উদ্যোগ নেই

ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২০ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

কৃষি বিপণন বিপর্যস্ত উত্তরণে উদ্যোগ নেই

জাফর আহমদ  ৩:৫৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ০৩, ২০২০

print
কৃষি বিপণন বিপর্যস্ত উত্তরণে উদ্যোগ নেই

করোনা ভাইরাসের কারণে রাজধানীর মানুষ গ্রামে চলে গেছেন। এ কারণে ঢাকায় পণ্যের চাহিদা কম। ফলে নগরীর বড় বড় মার্কেটগুলো কৃষিপণ্য বিক্রি করতে পারছে না। এর প্রভাব পড়ছে ঢাকার বাইরের কৃষিপণ্য হাট-বাজারগুলোতে। কৃষকরা পণ্য উৎপাদন করেও বাজার সংকুচিত হয়ে পড়ায় পণ্য বিক্রি করতে পারছেন না। সরকার কৃষি উৎপাদনে জন্য চিরাচরিত উৎপাদন ব্যবস্থা নিয়ে ব্যস্ত। বাজার পুনস্থাপনে উদ্যেগের ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।

রাজধানী ঢাকায় প্রায় দুই কোটি মানুষের বাস। যেখানে সকাল থেকে কৃষকের পণ্য বাজারে পৌঁছে যায়। ভয়ঙ্কর করোনা ভাইরাস আতঙ্কে ঢাকার অর্ধেকের বেশি মানুষ এখন গ্রামে। ফলে পল্লীর হাটগুলো থেকে প্রতিদিন হাজার ট্রাক ভর্তি করে শাক, সবজি, দুধ, ডিম, ফলফলাদি ঢাকায় আসতো এখন তা আর আসছে না। দেশ থেকে যে রপ্তানি হতো তাও বন্ধ হয়ে গেছে। দুধ, মাছ, ফল-ফলাদি, মাংস উৎপাদন করেও বিক্রি করতে পারছে না কৃষকরেরা। এ কারণে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

গ্রাম শহরের মিস্টির দোকান বন্ধ ও ভোক্তা না থাকার কারণে দুধ ও পাকা ফল-ফলাদি কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। পোল্ট্রি ও ডেইরি ফার্মগুলোতে ঠিকই খাদ্য সরবারহ করতে হচ্ছে। কিন্তু উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে পারছে না। এ অবস্থায় কৃষকদের সর্বসান্ত অবস্থা। এ ব্যাপারে কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উর্দ্ধতন অতিরিক্ত সচিব মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল বলেন,আমরা কৃষি উৎপাদনে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়েছি। বাজারজাত করণের ব্যবপারে এ ধরণের ব্যবস্থা নেই। যাতে উৎপাদন খরচ কমে এ জন্য ডিসেম্বর মাসে সারের দাম

কমানো হয়েছে। কৃষকরা যাতে মধ্য-সত্ত্বভোগি ছাড়া সরাসরি ভোক্তার কাছে পন্য বিক্রি করতে পারে এ জন্য একটি কৃষিপণ্য হাট করা হয়েছে। জেলা শহরেও করার চিন্তা ভাবনা চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক বোঝাই কৃষিপণ্য ঢাকায় আসতো। করোনায় সাধারণ ছুটি ঘোষনার পর থেকে ঢাকায় ভোক্তা কমে গেছে। এ অবস্থায় উদ্বৃত্ত পণ্য নিয়ে কৃষককে নামে-মাত্র দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। দেশ জুড়ে কৃষকের বিপর্যয় রোধে বিশেষ তহবিল গঠন তাগিদ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ড. আতিউর রহমান।

তিনি গতকাল ফোনে দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, কৃষক পণ্য উৎপাদন করে তা বিক্রি করতে না পারলে অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। কৃষি এবং কৃষককে বাঁচাতে তিনটি পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে। প্রথমত: শহরের মানুষের বড় অংশ এখন গ্রামে। কৃষকের উৎপাদিত পণ্য সংগ্রহ করে গ্রামের রোজগারহীন ও হতদরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরন করতে পারে। এক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে কারা থাকবে তা সরকার নির্ধারণ করবে।

দ্বিতীয়ত: সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাণিজ্যিক কৃষকদের কাছে থেকে পণ্য সংগ্রহ করে অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করবে। করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে দেশ জুড়ে মানুষকে কোয়ারেন্টাইনে রাখতে যে চেষ্টা চলছে তা পালন করেই ঢাকার গ্রাহকরা বাড়ি বাড়ি পণ্য পেয়ে যাবে। তৃতীয়ত: রপ্তানি খাতের শ্রমিকদের বেতনের বিশেষ তহবিল, উদ্যোক্তাদের ঋণের কিস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে তিন মাসের বিশেষ সুবিধাসহ যে সকল সুবিধা ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে-এ রকম বিশেষ তহবিল কৃষকের জন্যও ঘোষণা করতে হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে কৃষি উৎপাদন,পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থার সাথে একাধিক মন্ত্রণালয় যুক্ত আছে। যুক্ত আছে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার মত স্বশাসিত সংস্থা। ক্ষতিগ্রস্থ এ সব কৃষকের ক্ষতি পূরণে ও ভোক্তার কাছে পণ্য পৌছে দিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, যোগাযোগ, মৎস্য ও পশু সম্পদ, কৃষি মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রষালয়কে এক সাথে কাজ করতে হবে।

রাজধানীতে যে ভোক্তা রয়েছে তারাও কৃষিপন্য কেনা কমিয়ে দিয়েছে। সব মিলে পোল্ট্রি ও ডেইরি খাতের এক সংকট ঘনিভুত হয়েছে। এ সংকট মোকাবেলায় আজ শনিবার থেকে রাজধানীর ফার্মগেটের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে এ কন্ট্রোল রুম চালু হয়েছে। কন্ট্রোল রুমে দুধ,ডিমসহ পোল্ট্রি ও ডেইরী পণ্য ও খাদ্য পরিবহন, বিপণনসহ এ সংক্রান্ত সমস্যা হটলাইনের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণ করার কথা বলঅ হচ্ছে।

করোনা মোকাবেলায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে মাংস, দুধ ও ডিমের ভূমিকা তুলে ধরে মন্ত্রণালয়ের লাইভস্টক ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গণমাধ্যমে প্রচারণা চালাবে। কিন্তু রাজধানীর মানুষ ঢাকার বাইরে চলে যাওয়া ও মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমে দেওয়ার প্রেক্ষিতে সংকট মোকাবেলায় দৃশ্যমান কোন উদ্যোগ নেই।

করোনা দুর্যোগ মোকাবেলা কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে মাঠ কর্মীদের মাঠে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার কৃষি মন্ত্রী এ ব্যবপারে বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে কৃষি পণ্য উৎপাদন সহায়তার কথা বললেও করোনা ভাইরাস অভিঘাতে বাজার ব্যবস্থাপনা ভেঙ্গে পড়ার প্রেক্ষিতে গৃহিত কোন উদ্যোগের কথা বলেননি।