ব্যাংকে প্রবেশে কড়াকড়ি, লেনদেন অনলাইননির্ভর

ঢাকা, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২০ | ২২ চৈত্র ১৪২৬

করোনা ভাইরাস আতঙ্কে রাজধানী

ব্যাংকে প্রবেশে কড়াকড়ি, লেনদেন অনলাইননির্ভর

জাফর আহমদ ১১:০১ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৩, ২০২০

print
ব্যাংকে প্রবেশে কড়াকড়ি, লেনদেন অনলাইননির্ভর

মরণব্যাধি করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে স্তব্ধ হয়ে গেছে মেগা সিটি ঢাকা। পারতপক্ষে মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। এর প্রভাব সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়েও পড়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া অন্য সবার প্রবেশ বন্ধ। বাংলাদেশ ব্যাংকে অংশ বিশেষের প্রবেশাধিকার থাকলেও ডেস্কে বহিরাগতদের জন্য সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। রাজধানীর বাণিজ্যিক ব্যাংক এলাকা খ্যাত মতিঝিলে এমন চিত্র দেখা গেছে।

এ বিষয়ে রুপালী ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করেছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মানুষ বাংলাদেশে এসেছে। ব্যাংকে যারা আসছে তারা এই সব বিদেশিদের সংস্পর্শে এসেছে কিনা জানি না। অথবা নিজেরাই বিদেশ থেকে এসেছে কি না, এ ব্যাপারে আমাদের কাছে তথ্য নেই। এ অবস্থায় আমরা সতর্কতা অবলম্বন করছি যাতে ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বা কোনো গ্রাহক আক্রান্ত না হন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাধারণ মানুষের প্রবেশের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করেছে। কোনো মানুষ ঢুকতে গেলেই তাকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধক মাস্ক এবং স্যানিটাইজারের মতো তরল ওষুধ ব্যবহার করতে হচ্ছে। ডেস্কে কাজ থাকলেও তা দ্রুত ও বিপজ্জনক দূরত্ব বজায় রেখে করা হচ্ছে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর যে সব কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যাংকিং কাজে বাংলাদেশ ব্যাংকে যাচ্ছেন তাদের ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

এছাড়া ব্যাংকের নিজস্ব যে সব কর্মকর্তা-কর্মচারী বিদেশে গেছে তাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে যাতে বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে আসার পর দুই সপ্তাহ কোয়ারেন্টাইনে থেকে করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত নন এমন সনদ নিয়ে কাজে যোগদান করতে হবে।

করোনা ভাইরাস আতঙ্কে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও যাতায়াতে সতর্কতা জারি করেছে। জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া যায়, তার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে ব্যাংকগুলো। তারই অংশ হিসেবে ব্যাংকগুলো কর্মীদের দুই ভাগে ভাগ করেছে। একটি দল অফিস করছে, আরেকটি দল ছুটিতে থাকছে অথবা বাসায় থেকে কাজ করছে। সাপ্তাহিক ভিত্তিতে তা পরিবর্তিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেসরকারি অনেকগুলো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই সতর্কতা জারি করেছে।

করোনা ভাইরাস আতঙ্কে সতর্কতা হিসাবে লেনদেনের ধরণেও বেশ পরিবর্তন এসেছে। সরাসরি ব্যাংকিং আগের তুলনায় কমে গেছে। অন্যদিকে কয়েকগুন বেড়ে গেছে অনলাইন ব্যাংকিং। বিশেষ করে এটিএম বুথগুলোকে লেনদেন বেড়ে গেছে। এর ফলে চাপ বেড়ে গেছে অনলাইন ব্যাংকিংয়ে। আগে যে হারে এটিএম বুথগুলোতে টাকা দেওয়া লাগতো এখন তিনগুণ বেশি টাকা দেওয়া লাগছে। তবে টাকা পেতে কোন সমস্যা নেই বলে জানিয়েছে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।