মনোযোগ খাদ্য উৎপাদনে

ঢাকা, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০ | ২৭ চৈত্র ১৪২৬

মনোযোগ খাদ্য উৎপাদনে

জাফর আহমদ ১০:১৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৭, ২০২০

print
মনোযোগ খাদ্য উৎপাদনে

দেশের অর্থনীতির প্রধান তিন খাত কৃষি, রপ্তানি ও প্রবাসী আয়। ভয়ঙ্কর করোনা ভাইরাসের আক্রমণে বিশ্বজুড়ে অর্থনীতিতে ভূমিকম্পনের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির অংশ হওয়ার কারণে রপ্তানি ও প্রবাসী আয় বিপর্যয়ের মুখে। এ অবস্থায় কৃষি উৎপাদনকে অব্যাহত রাখতে সর্বশক্তি নিয়োগ করছে সরকার।

করোনা মহামারী আকার ধারণ করায় জীবন রক্ষা করা প্রধান কাজ হয়ে গেছে। চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস এখন ইরান ও ইতালিকে বিরান ভূমিতে পরিণত করেছে। করোনার আঘাত এখন ১৬২টি দেশে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার ইচ্ছা করলেও রপ্তানি ও প্রবাসী আয় বৃদ্ধি করতে পারবে না। আর তাই বিপর্যয়কর এ অবস্থা মোকাবেলা করার জন্য খাদ্য উৎপাদনে অধিক মনোযোগ দিচ্ছে সরকার। এ জন্য কৃষি ঋণ বিতরণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা, সার-বীজসহ আরও যে সব সুবিধা আছে সেগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে সহায়তা দেওয়া শুরু হয়েছে। সরকার মনে করছে যে কোনো উপায়ে হোক খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত থাকবে।

দেশে বর্তমানে ১৬ কোটি জনসংখ্যার জন্য বছরে তিন কোটি ছয় লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন খাদশস্যের চাহিদা রয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে নিট তিন কোটি ২৮ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য উপাদন হয়। এর মধ্যে তিন কোটি ১৯ লাখ ৫৫ হাজার টন চাল এবং নয় লাখ ৩৪ হাজার টন অন্যান্য খাদ্যশস্য রয়েছে। এ হিসাবে ২২ লাখ পাঁচ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য উদ্বৃত্ত ছিল। পরের বছর খাদ্য উৎপাদন হয় প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ টন। একইভাবে অন্যান্য খাদ্যও উৎপাদন হয়। বিশ^ব্যাপী করোনা ভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করায় রপ্তানি আয় কমে যাবে। ইতোমধ্যে তার লক্ষণ ফুটে উঠেছে। রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে অভ্যন্তরীণ উৎপাদনও ব্যাপক কমবে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন এর ফলে দেশে হাজার হাজার মানুষ কর্ম হারাবে। পর্যটন, হোটেল, পরিবহনে ইতোমধ্যে মানুষের কর্ম হারাতে শুরু করেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার অভিঘাত পড়বে দেশের প্রবাসী আয়ে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশে থেকে প্রবাসীরা ফিরে আসা শুরু করেছে। করোনা ভাইরাসে ভয়ঙ্কর থাবা ইতোমধ্যে অর্থনীতিতে স্পর্শ করেছে। আগামীতে এ অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থা মোকাবেলায় অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য চাহিদা দেশেই উৎপাদনে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগের দায়িত্ব নিয়োজিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা খোলা কাগজকে বলেন, করোনা ভাইরাসের বৈশ্বিক অভিঘাত খুবই প্রচণ্ড হবে। এর ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সহজ হবে না। তবে দেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্য চাহিদা অভ্যন্তরীণভাবে মেটাতে পারলে বাইরে যতই ঝড় বয়ে যাক সাধারণ মানুষের কাছে খাদ্য সমস্যা হবে না। এ জন্য কৃষিপণ্য উৎপাদনে কৃষকরা যাতে টাকা পায় সে ব্যবস্থা করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায় চলতি অর্থবছরে কৃষি ঋণ বিতরণে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ২৪ হাজার ১২৪ কোটি টাকা। জুলাই-ফেব্রুয়ারি আট মাসে ইতোমধ্যে ঋণের ৬৩ শতাংশ বা ১৫ হাজার ৯২ কোটি টাকা বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। বছরের বাকি সময়ে লক্ষ্যমাত্রার অবশিষ্ট টাকা বিতরণ সম্পন্ন হবে।

এ বিষয়ে পিআরআই এর নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর খোলা কাগজকে বলেন, করোনা ভাইরাসের অভিঘাতে উৎপাদন, সেবা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর ফলে কর্মসংস্থান কমবে, আয় কমবে। এ ক্ষতি কৃষি দিয়ে পুষিয়ে নেওয়া যাবে না। তারপরও দেশে যে খাদ্যের চাহিদা আছে তা অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদন হলে খাদ্যের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করা লাগবে না। হাওর-বিলের বাঁধগুলো এখনই দেখে নেওয়া প্রয়োজন, কোথাও মেরামত করার প্রয়োজন হলে সেগুলো করতে হবে।