আর্থিক ব্যবস্থা ভেঙে দিয়েছে করোনা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০ | ১৭ চৈত্র ১৪২৬

আর্থিক ব্যবস্থা ভেঙে দিয়েছে করোনা

জাফর আহমদ ১০:২২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২০

print
আর্থিক ব্যবস্থা ভেঙে দিয়েছে করোনা

বিশ্বের সবচে’ জনবহুল দেশ চীন এখন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। এর প্রভাব পড়েছে দেশটির বৃহৎ অর্থনীতিতে, চীনে শুরু হওয়া করোনা ভাইরাস এখন সারা বিশ্বের জন্যই আতঙ্কের নাম। সিঙ্গাপুর, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাদ যায়নি আফ্রিকার দেশ মিসরও। যা পুরো বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নেটওয়ার্কের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ শিকার বাংলাদেশও। শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে আঘাত পড়েছে, এরই মধ্যে বেশকিছু নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে, মূল্যবৃদ্ধির চক্রে পড়েছে নিত্যপণ্য থেকে শুরু করে সব ধরনের পণ্য, প্রভাব পড়েছে জনশক্তি রপ্তানিতেও।

বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের কাঁচামালের প্রায় অর্ধেক আসে চীন থেকে। করোনার প্রভাবে এসব পণ্যের দাম অনেক বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ গার্মেন্ট এক্সেসরিজ প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাক্সারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য মতে, এ সব পণ্যের দাম প্রায় শতভাগ বেড়ে গেছে। আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে চীন থেকে পণ্য আমদানি করার পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে। যদি তা সম্ভব হয় তাহলে অল্প ক্ষতিতেই ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে। আর যদি সম্ভব না হয় এবং প্রতিবেশি দেশ ভারত এত কাঁচামাল সরবরাহে সক্ষম না হয় তাহলে দেশের অর্থনীতি অপরিমেয় ক্ষতির মুখোমুখি হবে।

তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বিষয়টিকে ‘ত্রিশুল’ অবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি খোলা কাগজকে বলেন, কাঁচামাল আমদানি, তৈরি পোশাক রপ্তানি এবং বাজার ব্যবস্থার মধ্যে যে সমন্বয় বা ঐকতান তা ভেঙে পড়ার অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এ ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে সারা বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থাকে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে। আর এর নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলা করতে হবে বাংলাদেশকেও।

তৈরি পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তাদের মতে, ইউরোপ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে তৈরি পোশাক রপ্তানি হলেও এ সব দেশের অনেক উদ্যোক্তার সুপারশপ আছে চীনে। চীন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ সব সুপারশপ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মিসর, ফান্সেও এ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় মানুষ সুপারশপে যাওয়া কমিয়ে দিচ্ছে। এ অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে তৈরি পোশাক শিল্প বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে; কার্যাদেশ কমে যাবে এর প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থানেও।

বাংলাদেশের ফল-মূল, পেঁয়াজ ও রসুনের জোগানের জন্য অনেকটাই নির্ভর করতে হয় চীনের ওপর। দেশের বিভিন্ন শিল্পের যন্ত্রাংশ ও যানবাহনের যন্ত্রাংশের অন্যতম জোগানদার দেশ চীন। বাংলাদেশ যে পরিমাণ পণ্য আমদানি করে, এর ২৬ শতাংশেরও বেশি চীন থেকে। এ ছাড়া শিল্প পরিচালনায় দক্ষ কর্মীর বড় জোগানদাতা চীন। দেশের বড় বড় যে সব প্রকল্প চলমান আছে সেগুলো ব্যাহত হবে। থেমে যেতে পারে দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ভিত্তি বিদেশে জনশক্তি রপ্তানিও। সিঙ্গাপুরে ইতোমধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

পেঁয়াজ, রসুন, আদার মতো কিছু পণ্য চীন থেকে আমদানি করা হয়। যথেষ্ট পরিমাণ মজুদ থাকায় বাজারে এর দামে কোনো প্রভাব পড়ার কথা নয়, তারপরও অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেছেন, করোনা ভাইরাস একটি বৈশ্বিক সমস্যা। চীনসহ সব দেশই খুবই গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টিকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। আশা করা যায়, এটা শিগগিরই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি মনে করছেন করোনার কারণে দেশের জিডিপিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেছেন, চলতি অর্থবছরে জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হতে পারে। কারণ চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অনেক খাতে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। তবে ভাইরাসটির কারণে এ পর্যন্ত কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তা এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। পোশাকশিল্প, নিত্যপণ্যসহ যেসব খাতে চীনে সংক্রমিত করোনা ভাইরাসের জেরে প্রভাব পড়তে পারে, সেসব দিকে নজর রাখছে সরকার, বিকল্পও ভেবে দেখা হচ্ছে।