ঈদের আমেজ ছাপাখানায়

ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১০ আশ্বিন ১৪২৭

ঈদের আমেজ ছাপাখানায়

জাফর আহমদ ১০:০৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০২০

print
ঈদের আমেজ ছাপাখানায়

বাংলাদেশে নির্বাচনী প্রচারণা মানেই পোস্টার। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনেও তার ব্যতিক্রম নয়। রাজধানীর প্রতিটি মহল্লা আর অলিগলিতে পোস্টার আর পোস্টার। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পোস্টার সাঁটানো আর টাঙানো। তাই এখনো জমজমাট ছাপাখানাপাড়া। সকাল থেকে রাত অবধি বিরামহীনভাবে চলছে ছাপার কাজ।

নির্বাচনের পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন তৈরির কাজ সামাল দিতে প্রেসগুলো হিমশিম খাচ্ছে। বন্ধ হয়ে গেছে প্রেসের কর্মীদের ছুটি। সব মিলিয়ে ঈদের তিন-চার দিন আগে রাজধানীর মার্কেটগুলোতে যে ব্যস্ততা এখন সেই অবস্থা ছাপাখানাগুলোতে।

ঢাকার বিস্তীর্ণ এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছাতে পোস্টার, লিফলেট জোগান দিচ্ছে রাজধানীর প্রেসগুলো। নির্বাচন কমিশন পোস্টার ছাপানোর সংখ্যা নির্ধারণ করে দিলেও তার তোয়াক্কা করছেন না কোনো প্রার্থীই। ছাপাখানা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সীমার শতগুণ বেশি পোস্টার ইতোমধ্যে বাজারগুলোতে রাজধানীর অলিগলিতে পৌঁছে গেছে। আরও ছাপা হচ্ছে। ফকিরাপুরের রহমান প্রেসে সরেজমিনে দেখা যায়, পোস্টার ছাপার কাজ চলছে।

অন্যদিকে পোস্টার ডেলিভারি নেওয়ার জন্য দুজন অপেক্ষা করছে। প্রেসের কর্মী তুহিন এই প্রতিবেদককে বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে কোনো ছুটি নেই। প্রতিদিন অতিরিক্ত কাজও করতে হচ্ছে। তবে গত দুদিন ধরে কাজ একটু কমে আসছে। দুই-তিন দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তখন ছুটি পাব। একই এবস্থা দেখা যায় পল্টন, কাঁটাবন ও মিরপুর-১০ নম্বর সেক্টরের প্রেসগুলোতে।

এবার ছাপাখানাগুলোতে নিউজপ্রিন্টের কোনো কাগজ ছাপতে দেখা যায়নি। সব প্রেসেই চলছে দেশি বিভিন্ন কাগজ কলে উৎপাদিত সাদা অপসেট কাগজে পোস্টার ছাপার কাজ। ৭০ থেকে ১০০ গ্রামের অফসেট কাগজের প্রতি রিমের দাম এক হাজার ৬০০ টাকা থেকে শুরু করে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত। রহমান প্রিন্টিং প্রেসের মালিক তাজুল ইসলাম বলেন, এবার আমরা ছাপার কাগজ জোগান দিতে বিদেশি কাগজ ব্যবহার করিনি। দেশের কাগজেই পোস্টার করছি। তিনি বলেন, কার্যাদেশ পাওয়া ছাপার কাজের ৯০ ভাগই ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে। বাকি কাজ আজকালের মধ্যেই ডেলিভারি দিয়ে দেব।

প্রেসের সূত্রগুলো জানায়, নির্বাচন উপলক্ষে পোস্টার ছাপানোর বিষয়ে প্রেসপাড়ায় আগাম প্রস্তুতি ছিল। প্রস্তুত ছিল পোস্টার তৈরির জন্য পর্যাপ্ত কাগজ, বিভিন্ন ধরনের রং ও প্রয়োজনীয় উপকরণ। সে কারণে অর্ডার পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রিন্ট করে নির্দেশ মতো পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। অন্য সময় যে সব প্রেস বিভিন্ন দোকানের ক্যাশমেমো, ভিজিটিং কার্ড বানানোর কাজ করত, গত তিন সপ্তাহ ধরে সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের জন্য পোস্টার, লিফলেট, স্টিকার বানানো হচ্ছে।

সিটি নির্বাচনে রঙিন পোস্টার না থাকলেও প্রার্থীরা বিভিন্ন ডিজাইনের পোস্টার ছেপে তাদের সংশ্লিষ্ট এলাকায় লাগাচ্ছেন। এতে দামও নেওয়া হচ্ছে চড়া। প্রেস মালিকরা জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত সাইজে সাদাকালো পোস্টার ছাপতে নির্ধারিত দামই নেওয়া হচ্ছে। যদিও সরেজমিনে ভিন্ন ভিন্ন প্রেস ভিন্ন ভিন্ন দামে পোস্টার, স্টিকার লিফলেট ছাপার তথ্য পাওয়া যায়।

এলাকা ও প্রেস ভেদে প্রতি হাজার সাদাকালো পোস্টার ছাপতে দেওয়া হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২২শ’ টাকা। গত বছরের চেয়ে এবারের ডিজিটাল ব্যানারের চাহিদা বেশি। প্রার্থীরা বড় বড় ব্যানার বানিয়ে নিজ নিজ এলাকায় টাঙিয়ে দিচ্ছেন। অনেকে শুধু নিজেকে পরিচিত করে তোলার জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তারাও অঢেল টাকা খরচ করেন পোস্টার আর ব্যানার তৈরিতে, সব মিলিয়ে পোস্টার আর ব্যানারের যে রমরমা ব্যবসা তা নির্বাচনকে ছাপাখানার মালিকদের জন্য ঈদের আনন্দই বয়ে এনেছে।